নীড় পাতা » ব্রেকিং » ক্ষুদ্ধ আওয়ামীলীগের অবরোধ প্রতিহতের ঘোষণা

ক্ষুদ্ধ আওয়ামীলীগের অবরোধ প্রতিহতের ঘোষণা

AL-picইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী এবং বিজিতদের নিয়েই ছিলো সভাটি,ছিলেন উপজেলা,পৌর এবং জেলা আওয়ামীলীগের নেতারা,ছিলেন রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ প্রায় সব নেতাও। রাঙামাটি চেম্বার অনুষ্ঠিত এই সভাটি এক পর্যায়ে পরিণত হয়,ক্ষোভ,হতাশা আর রাগের তীব্রতম বহি:প্রকাশের সভায়। একের পর এক নেতা যখন কখনো আবেগে,কখনো ক্ষোভে বক্তব্য রাখছিলেন,তখন মিলনায়তনে জুড়ে সুনসান নীরবতা আর পাশাপাশি তীব্র করতালিতে একজন সমর্থন জানাচ্ছিলেন আরেকজনকে। কি বলেছিলেন তারা ? সবার সমস্ত ক্ষোভ আর অভিযোগ ছিলো সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি,ইউপিডিএফ এবং জনসংহতি সমিতি (এমএনলারমা)র দিকে। এই তিন আঞ্চলিক দলের সশস্ত্র রাজনীতির কাছে,আওয়ামীলীগ,পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং পাহাড়ের মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছেন,এমন অভিযোগই ছিলো সবার।

ক্ষুদ্ধ আওয়ামীলীগ নেতারা বলেন, ‘যে আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে,গঠিত হয়েছে,সেই আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা আজ পার্বত্য চট্টগ্রামে আঞ্চলিক সন্ত্রাসবাদের কাছে জিম্মি হয়ে আছে। এভাবে চলতে পারেনা। নির্বাচনে জয়ী হয়েও বিপদ,পরাজিত হয়েও। সন্তু লারমা এবং তার দোসরদের কারণে আজ পার্বত্য চট্টগ্রামে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের বেঁচে থাকা এবং স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরাই কঠিন হয়ে পড়েছে। যদি অচিরেই পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করে,আঞ্চলিক দলগুলোর তান্ডব বন্ধ করা না হয়,তবে পার্বত্য রাঙামাটির সব উপজেলা এবং জেলার নেতাকর্মীরা একযোগে দলীয় সভাপনেত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠাবো।’ তারা বলেন, সারা বাংলাদেশ যেভাবে চলছে,পার্বত্য চট্টগ্রাম তার ঠিক উল্টোপথে। এখানে কারা ক্ষমতাসীন দল বোঝা যায়না। আঞ্চলিক দলের কাছে জিম্মি হয়ে আছে জাতীয় রাজনীতি।

তারা আরো বলেন, স্থানীয় প্রশাসন অজ্ঞাত কারণে আঞ্চলিক দলগুলোকে তোয়াজ করে চলে। সারাদেশে হরতাল বা অবরোধে আইনশৃংখলা বাহিনী মাঠে থাকলেও, রাঙামাটিতে এরা আঞ্চলিক দলগুলোর ভয়ে কিংবা অন্য কোন কারণে তটস্থ থাকে।

শুধু একজন নয়,সবার বক্তব্যেই ছিলো ক্ষোভের আগুন। সবার ক্ষোভ হতাশা আর রাগের পর সভাপতির বক্তব্যে দীপংকর তালুকদার জানান, অনেক সহ্য করেছি,আর নয়। এখন থেকে আঘাত এলে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরাও পাল্টা আঘাত করবে। তিনি নেতাকর্মীদের অবরোধ প্রত্যাহার করা না হলে, ২০ জুন থেকে মাঠে থাকার নির্দেশ দেন।

সাধারন সম্পাদক মুছা মাতব্বর বলেন,প্রশাসন যদি না পারেন,বলে দিন,আমরা তাহলে নিজেদের বেঁচে থাকার প্রয়োজনে যা করার নিজেরাই করব। আমরা জানি,কিভাবে কি করতে হয়। তিনি আঞ্চলিক দলগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, অনেক হয়েছে,আর না।

এই সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) যদি আগামী ১৯,২০ ও ২১ জুন ডাকা অবরোধ প্রত্যাহার না করে তবে আওয়ামীলীগের সব নেতাকর্মীদের মাঠে থেকে সেই অবরোধ প্রতিহতের সিদ্ধান্তও নেয় রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগ। জেলা শহর থেকে উপজেলা সর্বত্র অবরোধ প্রতিহতের ঘোষণা দিয়ে বলা হয়,আমরা দেখতে চাই তারা অবরোধ প্রত্যাহার করে কিনা কিংবা ১৯ তারিখ অবরোধ পালন করে কিনা,এরপর তারা অন্য আওয়ামীলীগ দেখবে।

বৃহস্পতিবার চেম্বার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে বিজয়ী,পরাজিত প্রার্থী,জেলা,পৌর এবং সদর থানা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন উপজেলার নেতাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদারের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন তিন পার্বত্য জেলার সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু,জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি মাহবুবুর রহমান,চিংকিউ রোয়াজা,জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মো: মুছা মাতব্বরসহ বিভিন্ন উপজেলার নেতৃবৃন্দ।

সভায় বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনে জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র দাপটের কাছে অসহায়ত্বের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। কেউ কেউ নির্বাচনে নিজ এলাকাতেই কাজ করতে না পারা এবং প্রশাসনের অসহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরেন। প্রায় সকল প্রার্থীই জনসংহতি সমিতির বিরুদ্ধে নির্বাচনের পরও বিভিন্ন এলাকায় হুমকি,অপহরণ এবং নানাভাবে চাপ সৃষ্টির অভিযোগ করে এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য দলের নেতাদের প্রতি অনুরোধ জানান।

আওয়ামীলীগ নেতারা আরো বলেন, পবিত্র রমজানে যারা অবরোধের নামে হরতাল পালন করে সাধারন মানুষকে কষ্ট দিচ্ছে তারা কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারেনা।

আওয়ামীলীগ নেতারা বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ বানের জলে ভেসে আসা কিংবা ক্যান্টনমেন্টে জন্ম নেয়া দল নয়,লড়াই-সংগ্রাম কি জিনিস তা আওয়ামীলীগ জানে। তারা জনসংহতি সমিতি ও আঞ্চলিক দলগুলোকে ভালো হয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন,পরিণতি শুভ হবেনা। আর যদি একজন আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীকে হুমকি,মারধর কিংবা অপহরণ করা হয়,এর জবাব সাথে সাথেই দেয়া হবে।

রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মো: মুছা মাতব্বর বলেন, আমরা সহ্যের সব সীমা অতিক্রম করার পর্যায়ে আছি। এভাবে চলতে পারেনা। ওদের খেয়াল খুশির কাছে জিম্মি পার্বত্যবাসি। পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরীহ পাহাড়ী বাঙালীদের অস্ত্রের মুখে দমিয়ে রেখে ওরা যাচ্ছে তাই করবে,এটা তো চলতে পারেনা। এখন থেকে তাই পাল্টা আঘাত করা হবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

জুরাছড়িতে গুলিতে নিহত কার্বারির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় স্থানীয় এক কার্বারিকে (গ্রামপ্রধান) গুলি করে হত্যা করেছে অজ্ঞাত বন্দুকধারী সন্ত্রাসীরা। রোববার …

৫ comments

  1. আওয়ামীলীগ এই পবিত্র রমজানে বান্দরবানে অনিদিষ্ট কালের জন্য অবরোধ পালন করছে কেন? বান্দরবানের মানুষকে এই পবিত্র রমজান মাসে অযটা কষ্ট দিচ্ছে। এরা কি আওয়ামীলীগের গঠনতন্ত্র মানে না! এরা কি ভিন দেশী আওয়ামী লীগ? তাহলে আওয়ামীলীগ এই পবিত্র রমজানের বিরোধী? এরা ধর্মে বিশ্বাসী নই। আওয়ামীলীগের কথা কাজের সাথে বাস্তবে কোন মিল নেই? ।

  2. তারা হ‌লো মাদারী লীগ,
    মাদারীরা সব কিছু পা‌রে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: