নীড় পাতা » বান্দরবান » ক্ষতির মুখে পাহাড়ি খাবারের রেস্টুরেন্ট

করোনার প্রভাবে

ক্ষতির মুখে পাহাড়ি খাবারের রেস্টুরেন্ট

পাহাড়ি খাবার

পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে পাহাড়ের নৃ-জনগোষ্ঠীরাও। এ অঞ্চলে বসবাসরত প্রত্যেক জনগোষ্ঠীর রয়েছে নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, খাদ্যাভ্যাস, ঐতিহ্য। পার্বত্য চট্টগ্রামে আগত পর্যটকরা অনেকেই পাহাড়ি খাবার খেতে পছন্দ করেন। আবার পাহাড়িদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে স্থানীয় বাঙালিদের মধ্যে কিছুটা নেতিবাচক ধারণা থাকলেও সেটি এখন একেবারেই পাল্টে গেছে। সম্প্রতি করোনাভাইরাসের প্রভাবে সবকিছু কার্যত লকডাউন থাকায় কঠিন সময় পার করছে পাহাড়ি খাবারের রেস্টুরেন্টগুলোর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। এতে করে ক্ষতির মুখে পড়েছেন পাহাড়ি খাবারের রেস্টুরেন্ট সংশ্লিষ্টরা।

সূত্রে জানা গেছে, পর্যটক মুখর বান্দরবানে বিকেল হলেই সব পাহাড়ি রেস্টুরেন্টগুলোতে ভিড় লক্ষ্য করা যেত। সম্প্রতি করোনাভাইরাসের প্রভাবে যাতায়াত বন্ধ থাকা ও লকডাউনের কারণে বন্ধ রয়েছে শহরজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পাহাড়ি খাবারের রেস্টুরেন্টগুলো। বিশেষত বান্দরবান জেলা শহরের উজানী পাড়া, মধ্যম পাড়া, বালাঘাটাসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় পাহাড়ি রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এসব রেস্টুরেন্টের মধ্যে, বোমাং তং, জুম্ম রেস্টুরেন্ট, তোজাহ, কংরং, বং ডং অন্যতম। এই রেস্টুরেন্টেগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি বিভিন্ন রকমের পাহাড়ি খাবারের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়। আবার কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী ‘মুন্ডি’ ও ফাস্ট ফুড জাতীয় খাবারের জন্য জনপ্রিয়।

পাহাড়ি খাবারের পুরনো ছবি

রেস্টুরেন্ট সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা জানা গেছে, তারা মূলত ঘরোয়া পরিবেশে তৈরি রেস্টুরেন্টে ২/৩ জন কাজ করেন। আর যেগুলো আধুনিক পাহাড়ি রেস্টুরেন্ট সেগুলোতে ৪/৫ জন কাজ করে থাকেন। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে এসব রেস্টুরেন্টগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে। এতে করে শহরব্যাপী পাহাড়ি রেস্টুরেন্টগুলোর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এখন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

বান্দরবান জেলার উজানী পাড়াবাসী ইউনান চাকমা জানিয়েছেন, করোনার কারণে রেস্টুরেন্টগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যারা এখানে শুধু পড়ালেখা বা চাকরির কারণে বসবাস করেন তাদের খাবার খেতে অসুবিধা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র পরিসরে তৈরি হওয়া রেস্টুরেন্টগুলোর ব্যবসায়ীরাও আর্থিক সংকটে আছেন।

তিনি বলেন, ‘একসময় এসব রেস্টুরেন্টে হাতেগোনা কয়েকজন যেত। বর্তমানে পাহাড়ে এসব রেস্টুরেন্টের কদর বেড়েছে। অন্যদিকে পর্যটকদের আকর্ষণ হিসেবে কাজ করে পাহাড়ি রেস্টুরেন্টগুলো। পর্যটকরা পাহাড়িদের ঐতিহ্য জানার পাশাপাশি তাদের খাদ্যাভ্যাস এর প্রতিও কৌতুহল দেখায়।’

বিশ্ব পর্যটক এলিজা বিনতে এলাহী জানিয়েছেন, ‘পাহাড়ি রেস্টুরেন্টগুলোর ভবিষ্যত সম্ভাবনা রয়েছে। সব টুরিস্টরা লোকাল খাবারই খেতে চায়। বিদেশী পর্যটক বাড়লে এই রেস্টুরেন্টগুলোর কদর আরও বাড়বে। আশা করা যায়, দেশের করোনা পরিস্থিতি ঠিক হলে, পাহাড়ি রেস্টুরেন্টগুলো আগের মতো রূপ ফিরে পাবে। ব্যাপক সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে যাবে।’

স্থানীয় পাহাড়ি রেষ্টুরেন্টের স্বত্তাধিকারী থুইমে চিং মারমা বলেন, ‘পাহাড়ের নিজস্ব ঐতিহ্যগত খাবারের বেশ চাহিদা রয়েছে এখানে বেড়াতে আসা পর্যটকদের কাছে। নিজস্ব প্রচেষ্টায় গড়ে তোলার খাবারের দোকানগুলো অনেকাংশে পর্যটকদের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হত। রেষ্টুরেন্টগুলোর ওপর এই অঞ্চলের অনেকের জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে পর্যটকের আগমন বন্ধ রয়েছে। সরকারের নির্দেশনায় রেস্টুরেন্টগুলোও বন্ধ রাখা হয়েছে। এ অবস্থায় অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সবাই। কিন্তু শ্রমিক কর্মচারীরা আছে বেশি বেকায়দায়।’

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণে বিরোধীতার প্রতিবাদ রাঙামাটিতে

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণে বিরোধীতার নামে ‘উগ্রমৌলবাদ ও ধর্মান্ধগোষ্ঠীর জনমনে বিভ্রান্তির …

Leave a Reply