নীড় পাতা » ব্রেকিং » ‘কোনো অপরাধী টিকে থাকতে পারবে না’

মোটর শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভায় উদযাপিত কমিউনিটি পুলিশিং ডে

‘কোনো অপরাধী টিকে থাকতে পারবে না’

সারা দেশের ন্যাায় রাঙামাটিতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার মাধ্যমে কমিউনিটি পুলিশিং ডে পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সকালে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে মোটর শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গণে শেষ হয়।

‘পুলিশের সঙ্গে কাজ করি, মাদক-জঙ্গী-সন্ত্রাসমুক্ত দেশ গড়ি’ এই প্রতিপাদ্য বিষয়ে আলোচনা সভায় রাঙামাটির পুলিশ সুপার আলমগীর কবীরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশীদ। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য মনোয়ারা জসিম, জেলা ক্রীড়া সংস্কার সাধারণ সম্পাদক শফিউল আজম, বনরূপা ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবু সৈয়দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ বলেন, সরকার সমাজ থেকে সকল দুষ্কৃতিকারীদের আইনের আওতায় আনতে এবং সমাজকে মাদক, জঙ্গি, সন্ত্রাস মুক্ত করতে পুলিশকে সহযোগিতা করতে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা চালু করেছে। আমরা যারা কমিউনিটি পুলিশিং এর সাথে জড়িত আছি সবাই সচেতনতার সাথে নিজের দায়িত্ব পালন করলে সমাজে কোনো অপরাধী টিকে থাকতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, আজকে এই আয়োজন সফল হবে তখনই যখন সমাজের মানুষ নিজেদের দায়িতবোধ থেকে অপরাধীকে পুলিশের হাতে তুলে দিবে। যারা কমিউনিটি পুলিশিং এর বিভিন্ন কমিটিতে আছেন, তারা এটাকে একটি সাধারণ কমিটি মনে করলে হবে না। আপনারা যেহেতু দায়িত্ব নিয়েছেন, তখন সততার সাথে কাজ করতে হবে। তবেই এই দিবসের সার্থকত প্রকাশ পাবে। আমরা চাই আপনারাই সমাজ থেকে অন্যায় অবিচার চিরতরে বিতরণ করবেন। পুলিশ আপনাদের সহায়ক হিসাবে কাজ করবে।

সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মো. আলমগীর কবীর বলেন, বিশ্বের প্রায় সকল উন্নত দেশেই এই কমিউনিটি পুলিশং ব্যবস্থা চালু আছে, এবং সেখানে এ ব্যবস্থা বেশ কার্যকর। সে কারণেই সরকার ২০০৭ সালে বাংলাদেশে এই কমিউনিটি পুলিশং ব্যবস্থা চালু করেছে। এর সুফলও আমরা পেতে শুরু করেছি। কমিটিগুলো যত বেশি সক্রিয় থাকবে আমাতের কাজ করতে তত বেশি সুবিধা হবে।

তিনি আরও বলেন, আমি ৭শ কিলোমিটার দুর থেকে এখানে চাকরি করতে এসেছি, এখানের কোন মানুষ কেমন সেটা আমার জানা থাকবে না এটাই স্বাভাবিক। আপনার এলাকার কোন মানুষটি কি করে, কিভাবে চলে সেটা আপনারাই ভাল জানবেন। সে কারণের সরকার এ ব্যবস্থা চালু করেছে। আপনারা আমাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন, দেখবেন সমাজটা একদিন সুন্দর হয়ে যাবে। কোন অপরাধী আর অপরাধ করার সাহস পাবে না। সমাজে অপরাধ সংঘঠিত না হলে দেশের অপরাধী থাকবে না, ফলে সুন্দর ভাবে দেশ চলবে, যার সুফল আমরা সবাই ভোগ করতে পারবো।

 

পুলিশ সুপার আরও বলেন, আজ সারা দেশের একই ধরণের অনুষ্ঠান হয়েছে, কিন্তু রাঙামাটি জেলা পুলিশ একটি ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছে। তা হলো মোটরযান শোভাযাত্রা। এই আয়োজনের জন্য জেলা পুলিশসহ কমিউনিটি পুলিশং কমিটিকে ধন্যবাদ দিতেই হবে। আমাদের জেলায় মানুষ কম ও সামর্থ্য কম থাকতে পারে কিন্তু সাহস আর ইচ্ছার কমতি নেই। আগামীতেও আপনারা আমাদের পাশে থেকে রাঙামাটি তথা দেশকে মাদক, জঙ্গি ও সন্ত্রাস মুক্ত করতে সহযোগিতা করবেন।

আলোচনা সভা শেষে কমিউনিটি পুলিশিং ডে উপলক্ষে গত তিন দিনব্যাপী আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

জনপ্রিয় হচ্ছে ‘তৈলাফাং’ ঝর্ণা

করোনার প্রভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল খাগড়াছড়ির পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র। তবে টানা বন্ধের পর এখন খুলেছে …

Leave a Reply