নীড় পাতা » ব্রেকিং » কোথাও নেই চিং হ্লা মং মারী!

কোথাও নেই চিং হ্লা মং মারী!

জাতীয় দলের খেলোয়াড় চিং হ্লা মং মারীর সম্মানে রাঙামাটি স্টেডিয়ামের নামকরণ করা হয় মারী স্টেডিয়াম। কিন্তু এই স্টেডিয়ামের কোথাও মারীর নামে কোনো কিছুই নাই।

রাঙামাটির সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ মাঠ এটি, আছে জেলা ক্রীড়া সংস্থার অফিসও। মাঠ ও অফিস ঘুরে কোথাও পাওয়া যাবে না মারীর নামে কোনো তথ্য। এমনকি স্টেডিয়ামটির নামও লেখা নাই কোথাও। অবাক করা বিষয় কার্যনির্বাহী কমিটির অনেকেই তিনি জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় ছিলেন। এর বাহিরে মারী সম্পর্কে আর কোনো কিছুই জানে না। জেলা ক্রীড়া সংস্থার অফিসেও নেই তাকে তেমন কোনো তথ্য।

জেলা ক্রীড়া সংস্থা মারীর জন্মদিন বা মৃত্যুবার্ষিকী কখনই পালন করে না। অয়োজন করাও হয়নি তাঁর নামে কোনো টুর্ণামেন্টও। অফিসে বা স্টেডিয়ামের কোথাও নেই মারীর জীবনবৃত্তান্ত, প্রতিকৃতি এমনকি নেই একটি ছবিও। মারীর ইতিহাস জানারও কোনো উদ্যোগই নেই কর্তাদের।

চিং হ্লা মং মারীর ইতিহাস চর্চা বা তাকে অবহেলা করায় হতাশা প্রকাশ করে ক্রীড়ামোদী অনেকে করে বলেন, একজন ভালো খেলোয়াড়ের ইতিহাস সম্পর্কে জানলে নতুন প্রজন্মের খেলোয়ারা উৎসাহিত হবে। এমন একজন প্রখ্যাত ফুটবল খেলোয়াড়কে যথাযত সম্মান প্রদর্শন করতে না পারা সকলের জন্য লজ্জার।

সাবেক জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের খেলোয়াড় লিনা চাকমা বলেন, মারীর নাম আমরা শুনেছি, তবে খুব বেশী কিছু জানি না। যারা দায়িত্বে আছে তারা যদি মারীর সম্পর্কে জানাতো, তাহলে নতুন প্রজন্ম যারা ফুটবলে আগ্রহী তারা খেলায় আরো অনেক বেশী উৎসাহিত হতো।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর ইসলাম ভুট্টো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যারা নেতৃত্বে আছে তারা মুখে মুক্তিযুদ্ধের কথা বললেও একজন মুক্তিযোদ্ধা মারীকে তারা সম্মান জানাতে জানে না।’

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মো. শফিউল আজম বলেন, উন্নয়নের বোর্ডের চেয়ারম্যান মারীর একটি মুরাল তৈরি করার ঘোষণা দিয়েছে। সে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে স্টেডিয়ামের নামফলকের কাজটিও করিয়ে নিব।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ সভাপতি বরুন বিকাশ দেওয়ান বলেন, ‘মারী শুধু পার্বত্য চট্টগ্রামের নয়, দেশের গর্ব। তার সম্পর্কে যত জানা যাবে তত আগ্রহী হবে নতুন নতুন খেলোয়াড়। অবশ্যই জেলা ক্রীড়া সংস্থায় তাঁর নামে বিভিন্ন টুর্ণামেন্ট এবং তার মুরাল তৈরি করা উচিত। অনেকের মাঝে একটা প্রবণতা আছে অন্যের প্রশংসা করলে নিজেদের গুন আড়াল করে ফেলবে; এমন হীনমন্যতাই দায়ী এর জন্য।’

উল্লেখ্য, রাঙামাটি কাপ্তাই উপজেলার চিৎমরমে জন্মগ্রহণ করা চিং হ্লা মং মারী ১৯৫১ থেকে ১৯৬৫ পর্যন্ত খেলোয়াড় জীবনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সাদা দল ও পাকিস্থান জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় ছিলেন। ফুটবলে অবদান রাখায় অর্জন করে জাতীয় পুরস্কার এবং প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা পায়।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

র‌্যাবের স্থায়ী পার্বত্য ব্যাটালিয়নের জন্য ৬৭৭ জনবল

পুলিশ অধিদফতরের আওতাধীন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সাংগঠনিক কাঠামোতে একটি স্থায়ী পার্বত্য ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব-১৫) জন্য …

Leave a Reply