নীড় পাতা » পাহাড়ে নির্বাচনের হাওয়া » কোটিপতি দীপংকর,আবছার’র কিছুই নাই !

কোটিপতি দীপংকর,আবছার’র কিছুই নাই !

DIp-Abaদশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙামাটি আসনে প্রার্থী আছেন ছয়জন। কিন্তু এদের মধ্যে দৃশ্যত লড়াইয়ে নেই জাতীয় পার্টির প্রার্থী ডাঃ রূপম দেওয়ান ও ইউপিডিএফ নেতা সচিব চাকমা। বাকী চারপ্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী দীপংকর তালুকদার নৌকা প্রতীক,জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি উষাতন তালুকদার হাতি প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী,জনসংহতি সমিতি(এমএনলারমা) গ্রুপের কেন্দ্রীয় সভাপতি সুধাসিন্ধু খীসা বই প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং সমঅধিকার আন্দোলনের রাঙামাটি জেলা সম্পাদক এডভোকেট আবছার আলী আনারস প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন। চার প্রার্থীই জয়ের আশায় ছুটে বেড়াচ্ছেন পুরো রাঙামাটি। প্রার্থী হওয়ার সময় নির্বাচন কমিশনে দেয়া সম্পদের হিসাবে চারপ্রার্থীর মধ্যে সবচে বেশি আর্থিক সঙ্গতি রয়েছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দীপংকর তালুকদারের,আর আর্থিকভাবে সবচে খারাপ অবস্থা দেখিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আবছার আলী। বাকী দুই প্রার্থী উষাতন তালুকদার ও সুধাসিন্ধু খীসার আর্থিক অবস্থা মোটামুটি সচ্ছলই।

উষাতন তালুকদার
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি উষাতন তালুকদার নির্বাচন কমিশনে দেয়া হলফনামায় নিজের মোট বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৭.৫০ লক্ষ টাকা, বিপরীতে ব্যয় ৫ লক্ষ টাকা। এছাড়া বালুখালি মৌজায় ১০ একর ভূসম্পদ,যাহার বাজারমূল্য দেখিয়েছেন মাত্র ১ লক্ষ টাকা,স্ত্রীর নামে ৯ একর,যার মূল্য ৩ লক্ষ টাকা দেখিয়েছেন তিনি। এছাড়া নিজের মালিকানাধীন রাঙামাটি মোটরস ও সার্ভিসেস সেন্টার,যার মূল্য ৮ লক্ষ টাকা উল্লেখ করেছেন। সোনালি ব্যাংক রাঙামাটির নিউ কোর্ট বিল্ডিং শাখায় তার ভোগ্যপণ্য ঋণ আছে ২ লক্ষ টাকা,পরিশোধিত ৬৪,৮০০/=,স্থিতি ১ লক্ষ ৫৪ হাজার ৭০৮ টাকা।
নির্বাচনী ব্যয় দেখিয়েছেন ৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা । এর মধ্যে খাগড়াছড়ির চাচাতো ভাই ডাঃ শহীদ তালুকদার ২ লক্ষ টাকা,কক্সবাজারের মামাতো ভাই ডাঃ বিনয় কৃঞ্চ দেওয়ান ১ লক্ষ টাকা,বাঘাইছড়ির চাচাতো ভাই প্রভাত তালুকদার ৫০ হাজার টাকা,কলেজগেইটের চাচাতো ভাই সুনির্মল তালুকদার ৩০ হাজার টাকা এবং চট্টগ্রামের ফয়েজলেইক এলাকার জনৈক নুরনবী ১ লক্ষ টাকা প্রদান করবেন বলেও জানিয়েছেন হলফনামায়।

বিএ অনার্স করা উষাতন তালুকদার কোন মামলায় দন্ডিত নয়,২০০৯ সালে রাঙামাটির চীফ জুডিসিয়াল আদালতে দায়ের করা একটি মামলায় অব্যাহতি পেয়েছেন।
নিজের আয়ের খাত হিসেবে কৃষিখাত থেকে ২ লক্ষ টাকা,ব্যবসা থেকে ২ লক্ষ টাকা,আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য হিসেবে ভাতা ও অন্যান্য, ২ লক্ষ ৪৩ হাজার টাকা দেখিয়েছেন তিনি।

নিজের কাছে নগদ টাকা ৫ লক্ষ টাকা,স্ত্রীর কাছে ৫০ হাজার এবং নির্ভরশীলদের নামে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নগদ আছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে ব্যাংকে তার মাত্র ৬২০৫ টাকা আছে। এছাড়া স্ত্রীর নামে স্বর্ণ আছে ৫ ভরি,যার বাজার মূল্য আড়াই লক্ষ টাকা দেখিয়েছেন উষাতন তালুকদার।

সুধাসিন্ধু খীসা
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(এমএনলারমা)র সভাপতি সুধাসিন্ধু খীসা রাঙামাটির ভোটারও নন। তিনি পাশের জেলা খাগড়াছড়ির সওজ এলাকার বাসিন্দা। সেখানকার পূর্ব কালেক্টরিয়েট এলাকার ভোটার তিনি।
সুধাসিন্ধু শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘরে লিখেছেন ‘অক্ষরজ্ঞান সম্পন’। পেশা দেখিয়েছেন তিনি উত্তারাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমি চাষাবাদ ও আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য।
নিজের কৃষিখাত থেকে আয় বার্ষিক এক লক্ষ টাকা,আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য হিসেবে ২ লক্ষ ২৮ হাজার টাকা পান বলে জানিয়েছেন। এছাড়া নিজ নামে নগদ টাকা ৭ হাজার,ব্যাংকে জমা ৪ হাজার টাকা,স্ত্রীর নামে সঞ্চয়পত্র ৪৮ হাজার,স্বর্ন ৭ ভরি,যার মূল্য ১ লক্ষ ৭৫ হাজার,ইলেকট্রনিক সামগ্রী ২ লক্ষ ১৩ হাজার টাকার সমপরিমাণ দেখিয়েছেন তিনি।
সুধাসিন্ধু নিজ নামে কৃষি জমি ৮ একর,যার মূল্য ৯ লক্ষ টাকা মূল্যের এবং ৬ একর অকৃষি জমির মালিকানা দেখিয়েছেন।
নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য নিজস্ব কৃষি ও সন্তানদের আয় থেকে ২ লক্ষ,মামাতো ভাই,আপন ভাই ও স্বজনদের কাছ থেকে মোট ৯ লক্ষ টাকা নিয়ে তা ব্যয় করবেন জানিয়েছেন।

দীপংকর তালুকদার
১৯৯১ সাল থেকে রাঙামাটি আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদারও নিজের পেশা হিসেবে রাজনীতিকে দেখাননি। তিনি পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন সাধারন ঠিকাদার ও কাঠের ব্যবসা।
নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য নিজ ব্যবসা ও দালান ভাড়া থেকে ১০ লক্ষ টাকা, কৃষকলীগ নেতা জাহিদ আক্তারের কাছ থেকে ৩ লক্ষ, সাবেক একান্ত সহকারি জাকির হোসেন চৌধুরীর কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা ও অমূল্য রজ্ঞন চাকমার কাছ থেকে ৩ লক্ষ,জগৎ বিজয় চাকমার কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন হলফনামায়।
দীপংকর তালুকদার তার সম্পদের তালিকায় ঢাকায় রাজউক এর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১৫ কাঠা জমি,যাহার মূল্য দেখিয়েছেন ৩১ লক্ষ ৩৯ হাজার ৮৫৮ টাকা, রাঙামাটির চম্পকনগরে ৫ তলা বাড়ি, মূল্য-৮৯ লক্ষ ৩২ হাজার ২৩৩ টাকা দেখিয়েছেন। এছাড়া
পুঁজি বাজার,সঞ্চয় স্কিম,এলিকো,ব্যাংক,স্থায়ী আমানত-২ কোটি ৮ লক্ষ ৭০ হাজার ৮২ টাকা দেখিয়েছেন।
এছাড়া ২০১২-১৩ অর্থবছরে আয়কর বিভাগের সনদ অনুয়ায়ি আয় ৫৫ লক্ষ ৪৭ হাজার ৪৫৫ টাকা,ব্যয় ৭ লক্ষ ৮৭ হাজার ৪০০ টাকা দেখিয়েছেন দীপংকর তালুকদার। নগদ টাকা নিজের নামে ১ লক্ষ ৮৪ হাজার ৪৫,স্ত্রীর নামে ৬ লক্ষ ৭৩ হাজার,৩৭৯ টাকা এবং ব্যাংকে নিজের নামে ১৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ২০৬ টাকা,স্ক্রীর নামে ১ লক্ষ ৬ হাজার ৮৭২ টাকা,নির্ভরশীলের নামে ৩ লক্ষ ২৬ হাজার ৬২২ টাকা আছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
নিজস্ব একটি গাড়ী (ঢাকা-মেট্টো-ঘ-১৩-৫৪০৪)র দাম ৬৩ লক্ষ ৪৮ হাজার ১৪৮ টাকা বলেও জানিয়েছেন।
টেলিপ্লাস শেয়ার ৩০০০টি ৩ লক্ষ টাকা,কল্পতরু হলিডে ইন ২০০০ টি ২ লক্ষ টাকা,স্ত্রীর নামে হলিডে ইন শেয়ার ২০০০ টি ২ লক্ষ টাকা দেখিয়েছেন তিনি।
এছাড়া স্বর্ণ ২ ,৫০ লক্ষ টাকার,ইলেকট্রনিক সামগ্রী ৩ লক্ষ ১৩ হাজার টাকা এবং আসবাবপত্র ১ লক্ষ ১৬ হাজার টাকার তথ্যও জানিয়েছেন দীপংকর। অন্যদিকে তার হোটেল কল্পতরু হলিডে ইন প্রকল্পের বিপরীতে অংশীদারি দায় (৩০-১১-২০১৩ ইং তারিখভিত্তিক) ৯৩ লক্ষ টাকা।
ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স করা দীপংকরের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালে টেলিগ্রাফ এ্যাক্টে দুটি মামলা হয়, যা বিলশোধের কারণে মামলা নথিভুক্ত হয়।
নিজের নির্বাচনী প্রতিশ্রতি বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, পার্বত্য চুক্তির ৭২ টি ধারার মধ্যে ৪৮ টি বাস্তবায়িত হয়েছে,যার বাস্তবায়নের হার ৬৭%। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়নে রাস্তাঘাট উন্নয়নের প্রতিশ্রতি ৯০% বাস্তবায়ন হয়েছে এবং সকল সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি,ধর্ম ও ক্রীড়া উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি ৯৫% বাস্তবায়িত হয়েছে।

আবছার আলী
স্বতন্ত্র প্রার্থী ও পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলনের রাঙামাটি জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক আবছার আলী পেশায় আইনজীবি। লংগদু উপজেলার গুলশাখালি ইউনিয়নের রসুলপুর এলাকার বাসিন্দা আবছার বিএ পাশ করে এলএলবি করেন। আবছার আলী আইন পেশা থেকে বাৎসরিক আয় ৫ লক্ষ টাকা দেখালেও তার স্থাবর,অস্থাবর আর কোন সম্পত্তি নেই বলে জানিয়েছেন। এমনকি ইলেকট্রিক সামগ্রী বা আসবাবপত্র সবখানেই লিখেছেন প্রযোজ্য নহে। নিজের কোন ব্যাংক হিসাব বা নগদ টাকা না থাকলেও নির্বাচনে ২০ লক্ষ টাকা ব্যয় করার কথা জানিয়েছেন। কিন্তু এই ২০ লক্ষ টাকা কোথা থেকে আসবে তাও জানাননি। আবার বাৎসরিক আয় এক জায়গায় ৫ লক্ষ টাকা দেখালেও অন্য আরেক জায়গায় আবার ৬ লক্ষ টাকা দেখান। আয়ের বিপরীতে ব্যয় দেখিয়েছেন ৪ লক্ষ টাকা।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

জনপ্রিয় হচ্ছে ‘তৈলাফাং’ ঝর্ণা

করোনার প্রভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল খাগড়াছড়ির পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র। তবে টানা বন্ধের পর এখন খুলেছে …

Leave a Reply