মাটিরাঙ্গার কোটিপতি কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম বাবু

SHIFUL-ISLAM-OVIJOGখাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলাধীন আলুটিলা গুচ্ছগ্রামের রেশনকার্ডধারীরা প্রায় ৮মাস যাবৎ রেশন না পাওয়ায় না খেয়ে অতি কষ্টে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাদের অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাতের এমন দূরাবস্থার জন্য তারা ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: সাইফুল ইসলাম বাবুকে দায়ী করে একটি অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ পত্র সূত্রে জানা গেছে,আলুটিলা গুচ্ছগ্রামের রেশন কার্ডধারী ৩০০ পরিবারে প্রায় ১২০০ লোক নির্ভর করে অত্র গুচ্ছগ্রামের রেশন বিতরণ ব্যবস্থাপনার উপর। দীর্ঘদিন যাবৎ রেশন না পাওয়ায় বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় টাকা পয়সার যোগান দিতে না পেরে কার্ডধারীর সন্তানদের লেখাপড়া প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে,বাদ্য হয়ে অনেকের ছেলেমেয়েদের লেখা পড়া বন্ধ করে দিয়েছে । গুচ্ছগ্রামের নীতিমালা অনুযায়ী একজন প্রকল্প চেয়ারম্যান ২ বছর পর্যন্ত প্রকল্প চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের বিধান থাকলেও দীর্ঘ ৭ বছর যাবত কাউন্সিলর মো: সাইফুল ইসলাম বাবু অবৈধভাবে অত্র গুচ্ছগ্রামের রেশন বিতরণ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে গুচ্ছগ্রামের প্রকল্প চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বাবু সরকার কর্তৃক প্রতিমাসে ইস্যুকৃত ৮৫ কেজি ৭২ গ্রাম চাল/গমের বিপরীতে প্রতি রেশন কার্ডে মাত্র ৫৫-৬০ কেজি রেশন বিতরন করেন। এ বিষয়ে কেউ কিছু জানতে চাইলে কাউন্সিলর তাকে মিথ্যা মামলা ও শারিরীক নির্যাতনের হুমকি প্রদর্শন করে। জানা গেছে,গত এপ্রিল মে, জুন,জুলাই আগষ্ট ও সেপ্টেম্বর /২০১৪ ইং মাসের রেশন বিতরণের সময় গুচ্ছগ্রামের জন্য বরাদ্দকৃত সম্পূর্ণ রেশন গুদামেই বিক্রি করে দিয়ে গোমতি থেকে টলি(ট্রাক্টর)তে করে মাত্র দেড় মেট্রিক টন রেশন এনে ৮/১০টি কার্ডধারীকে রেশন বিতরণ করে বাদবাকী রেশন বিতরণ বন্ধ করে দেয়। এলাকার মানুষ রেশন না পেয়ে অবশেষে পেটের দায়ে বাধ্যহয়ে তার কাছে রেশন বিক্রি করে। কিন্তু বিক্রয়কৃত রেশনের টাকা আনতে গেলে কাউকে ৮শত কাউকে ৯শত আবার কাউকে ১ হাজার টাকা দিয়ে অবশিষ্ট টাকা আত্বসাৎ করে সে।

এলাকার মানুষেরা ভয়ে তার অত্যাচারের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে চায়না। যখনি কেউ প্রতিবাদ করেছে তখনি তার উপর নেমে এসেছে অমানুবিক মধ্যযুগীয় নির্যাতন। বেধরক মারধর থেকে শুরু করে সামাজিকভাবেও চলে অপমান অপদস্ততা তার ইন্দনে।এ বিষয়ে আলুটিলা গুচ্চগ্রামের কার্ডধারী ওয়ারিশ আইনাল হক তার মায়ের নামিয় কার্ডের রেশন উত্তোলোন করতে গেলে রেশন বিতরনের অনিয়ম দেখে প্রতিবাদ করলে তাকে নির্মমভাবে শারিরীক নির্যাতন করে এবং তাকে চিরতরে মেরে ফেলার হুমকি দেয় কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম বাবু। তার ভয়ে আইনাল হক বর্তমানে অত্রএলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। আলুটিলা গুচ্ছগ্রামের কার্ডধারী আলী আশ্রাফের ছেলে সূজনকে তার পিতার নামিয় কার্ডের রেশন উত্তোলোন করতে গেলে রেশন নিয়ে বিতর্ক করে তাকে রেশন না দিয়ে হাত-পা বেঁধে বেধরক লাঠিপেটা করে।

পরে স্থানীয় গ্রামবাসীর কাছ থেকে অর্থ সাহায্য নিয়ে চিকিৎসা না করানো হলে সে মারা যেত। এ বিষয়ে মাটিরাঙা উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে শালিশে বসলে শত শত লোকের সামনে তার রেশন কম বিতরণের প্রমান স্লীপ উপস্থাপন করলে তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান তাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন। তাহার হাতে প্রহারিত হয়েছে মুন্সি পাড়ার শামছু,ভিডিপি হাসান,সূজন,আইনাল হকসহ আরও অসংখ্য নারী পুরুষ।তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্মিত্তে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানান।

এতেই খান্তথাকেনি সাইফুল ইসলাম বাবুর দূর্নীতির কার্যক্রম। সে মসজিদ,মাদ্রাসা,ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে রেশন কাটিং করা টাকা ঠিকমত স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানকে বুঝিয়ে না দেয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে,এ বিষয়ে অত্র এলাকায় মসজিদগুলোর সভাপতিদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে সত্যতা পাওয়া যাবে। কার্ডধারীদের দাবী দূর্নীতির মাধ্যমে এ যাবৎ প্রায় ৫ লক্ষ ৪০হাজার কেজি রেশন আত্বসাৎ করেছে সে। যাহার আনুমানিক বাজার মুল্য ১ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা।

এছাড়াও এপ্রিল,মে ,জুন এবং জুলাই ,আগষ্ট,সেপ্টেম্বর-২০১৪ইং মাসের রেশন গোডাউণে বিক্রি করে প্রায় ৩৮ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা আত্বসাৎ করে আলুটিলা বটতলীতে একটি সূরম্ম অ্ট্টালিকা নির্মাণ করেন। গত পৌরসভা নির্বাচনের পূর্বে বসবাসের জন্য তাহার বাবার মাত্র একটি গুদাম ঘর ছিল। বর্তমানে তাহার মাটিরাঙ্গা চড়পাড়াতে একটি বাড়ী রয়েছে আনুমানিক ৫০ লক্ষ টাকা মূল্যের। এছাড়া ইছাছড়াতে বিশ লক্ষ্য টাকা ব্যয়ে একটি বিশাল টিন সেডঘর নির্মাণ করা হয়েছে।যা তার সন্ত্রাসী বাহিনীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল। এলাকার সাধারন মানুষ প্রাণের ভয়ে তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে চায়না। প্রায় সাত বছর যাবত আলুটিলার মানুষ জিম্মি দশায় রয়েছে। তার কাউন্সিলর নির্বাচনের সময় জমাকৃত হলফনামা তদন্ত করলে দূর্নীতির সকল প্রমান ও বর্তমানের অবৈধ সম্পদের প্রমাণ পাওয়া যাবে।

এ বিষয়ে ১নং ওর্য়াডের কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম বাবুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,আমার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি কোন দুনীর্তির সাথে জড়িত নই।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

One comment

  1. এলাকাবাসীইতো তাকে চোর থেকে ডাকাত বানিয়েছে। জনগণের প্রাপ্যটাই সে দিচ্ছে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: