নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » কে হচ্ছেন খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ?

কে হচ্ছেন খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ?

KHDC-office-01পাশের গলির চায়ের দোকান থেকে শুরু করে কর্তাব্যক্তিদের এসি রুম, রাজনৈতিক টেবিল কিংবা বন্ধুদের আড্ডা, সবখানে এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। কে হচ্ছেন নতুন অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের চেয়ারম্যান কিংবা সদস্য ? আগের তুলনায় এবার পরিষদের সংখ্যাও তিনগুন। তাই আলোচনার জায়গাটাও বিশাল। নিজেদের দল ক্ষমতায়,সেই হিসেবে তারা ক্ষমতাসীন দল, কিন্তু এবার নিজ দল নয়,নিজেরাই ক্ষমতায় যেতে জোর লবিং শুরু করেছেন খাগড়াছড়ির আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতারা।

জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে জেলা পরিষদ সংক্রান্ত আইনের অধিকতর সংশোধনী পাশ হবার পর এবার যেন আরো তুঙ্গে উঠেছে জল্পনা-কল্পনা। কারা আসছেন ভাগ্যবান হয়ে? এদিকে ক্ষমতায় যেতে ক্ষমতাসীন দলের আগ্রহী নেতারা চালাচ্ছেন জোর লবিং।

‘কে হচ্ছেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ?’ জেলা আওয়ামীললীগ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের মতে, এই আলোচনার প্রথমেই থাকছেন বর্তমান পরিষদ চেয়ারম্যান চাইথো অং মারমা। আর এই পদে আগ্রহের তালিকায় এবং সম্ভাবনার দৌড়েও বেশ এগিয়ে রয়েছেন জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি রণ বিক্রম ত্রিপুরা।

বাঙালীদের মধ্যে সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলম, দীঘিনালা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হাজী মোঃ কাশেম, মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ শামসুল হক, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী, মানিকছড়ি উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান এম. এ. জব্বার এবং জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ দিদারুল আলম।
তবে এক্ষেত্রে দুই ভাই জাহেদুল আলম ও দিদারুল আলম, হাজী মোঃ কাশেম, মোঃ শামছুল হক, নির্মল চৌধুরী আলোচনায় এগিয়ে রয়েছেন।

চাকমা সদস্যের মধ্যে জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট আশুতোষ চাকমা, মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সুভাষ চাকমা ও খাগড়াছড়ি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জুয়েল চাকমা অনেকখানি এগিয়ে রয়েছেন। আগ্রহী তালিকায় আছেন মহালছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যাপক নীলোৎপল খীসাও।

মারমা সদস্যের মধ্যে খাগড়াছড়ি পৌরসভার সাবেক মেয়র মংক্যচিং চৌধুরী, জেলা জেলা আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক মংশাপ্রু চৌধুরী অপু, জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি কংজরী চৌধুরী, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি রে¤্রাচাই চৌধুরী।

ত্রিপুরা সদস্যের মধ্যে জেলা আওয়ামলীগের সহ সভাপতি রণ বিক্রম ত্রিপুরা, লতিবান ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খগেশ্বর ত্রিপুরা, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি খোকনেশ্বর ত্রিপুরার নাম শোনা যাচ্ছে জোরেশোরেই ।

এছাড়া বাঙালীদের মধ্যে নারী সদস্য পদে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিনা আক্তার, নিগার সুলতানা এবং ১টি ক্ষুদ্র নৃ গোষ্টীর নারী পদে বাসন্তী চাকমা ও বাশঁরী মারমার নাম আছে আলোচনার টেবিলে।

জেলা আওয়ামলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম শফি বলেন, দলকে চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে অতীত থেকে শিক্ষা নিতে হবে। ক্ষমতায় এমন কাউকে নির্বাচন করতে হবে যারা দলের পরিক্ষিত নেতা। ক্ষমতায় গিয়ে যারা সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা নিতে পারবে। তবে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে তৃণমূল পর্যায় থেকে মতামত গুরুত্ব দেয়ার দাবী জানান।

যদি নির্বাচনে ভুল হয় তাহলে আসন্ন পরিষদ বিষ ফোঁড়ায় রুপান্তরিত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। স্থানীয়রা চান খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদে এমন নেতৃত্ব আসুক যারা জেলার সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ জাহেদুল আলম জানান, নতুন পরিষদ ব্যবস্থাপনার ফলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের পথটি প্রশস্ত হলো। আর পরিষদে মনোনয়নের বিষয়টি একেবারেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এখতিয়ার। সেক্ষেত্রে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যগণের মতামত যোগ হবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

লকডাউনে ফাঁকা খাগড়াছড়ি, বাড়ছে শনাক্ত

সারা দেশের মতো দ্বিতীয় দফায় সরকারের ঘোষিত লকডাউন চলছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে। প্রথম দফার লকডাউন …

Leave a Reply