নীড় পাতা » ফিচার » অরণ্যসুন্দরী » কেন বার বার ডুবে ঝুলন্ত সেতু !

কেন বার বার ডুবে ঝুলন্ত সেতু !

julanto-setu-01আজ বিশ্ব পর্যটন দিবস। পর্যটন দিবসে রাঙামাটির ‘সিম্বল অব রাঙামাটি’ খ্যাত পর্যটন সেতু পানিতে ডুবে আছে। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে সেতুটির পাটাতন পানিতে ডুবে থাকায় দর্শনার্থীরা এর সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রায় প্রতিবছরই সেতুটি পানিতে ডুবে যাওয়ায় সুনাম নষ্ট হচ্ছে রাঙামাটির পর্যটন শিল্পের। আয় বঞ্চিত হচ্ছে পর্যটন কর্পোরেশন। পরিকল্পনাবিহীন সেতুটি নির্মাণে কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ স্তরে যাওয়ার পূর্বে এটি পানিতে ডুবে যাচ্ছে। এদিকে কাপ্তাই হ্রদে এসময় রুলকার্ভ অনুসারে ১০৪.৬ এমএসএল(মিনস সী লেভেল) পানি থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে হ্রদে পানি রয়েছে প্রায় ১০৭.২৪ এমএসএল। কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৯ এমএসএল। সে হিসেবে কাপ্তাই হ্রদের ধারণ ক্ষমতা থেকেও আরো দুই ফুট পানি কম রয়েছে। কিন্তু তারপরও সরকারি স্থাপনা পর্যটন কর্পোরেশনের ঝুলন্ত সেতু এখন রয়েছে পানির নিচে। কাপ্তাই হ্রদের ১০৯ এসএমএল পানির মধ্যে কোনা স্থাপনা নির্মাণের নিয়ম না থাকলেও খোদ তা অমান্য করেছে এই সংস্থাটি। তাই কাপ্তাই হ্রদের পানি সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানোর পূর্বেই ঝুলন্ত সেতুটি ডুবে যায়। এর আগে ২০০৭ ও ২০১২ ও ২০১৫ সালেও সেতুটি পানিতে ডুবে যায়।

কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক আব্দুর রহমান বলেন, বছরের এ সময় হ্রদে স্বাভাবিক নিয়মে ১০৪.৬ এমএসএল পানি থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে পানি আছে প্রায় ১০৭.২৪ এমএসএল। ১০৯ এমএসএল সর্বোচ্চ সীমা। এ সীমা অতিক্রম করলে বিপদসীমার মধ্যে চলে আসে। তখন বাঁধ রক্ষায় অতিরিক্ত পানি স্পিলওয়ে দিয়ে ছেড়ে দিতে হয়।

রাঙামাটি পর্যটন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, সেতুটি পানিতে ডুবে থাকার কারণে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ-ছয় হাজার টাকা আয় হচ্ছে না। তবে দ্রুত পাটাতন থেকে পানি সরে যাবে বলে আশা করছি। তিনি বলেন, সেতুটি ১৯৮৩ সালে স্থাপন করা হয়। কিন্তু এরপর কয়েকবার সেতুটি পানির নিচে চলে যাওয়ায় এটি ওপরে তোলা যায় কিনা তা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলে। প্রকৌশলীরা এসে তা দেখার পর সেতুটির সামঞ্জস্য ও বিভিন্ন দিক চিন্তা করে তা ওপরে তোলা যাবে না বলে মত দেয়। তাই আপাতত এটি ওপরে তোলার মতো অবস্থায় নেই। তবে এটিকে আধুনিক করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। এরপরও আমরা বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেছেন, বার বার সেতুটি পানিতে ডুবে যাওয়ায় পর্যটন কর্পোরেশনও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সেতুটি আরো উপরে তোলার বিষয়ে আমরা পর্যটন কর্পোরেশনকে জানিয়েছি।

রাঙামাটির পরিবেশবাদী সংগঠন গ্লোবাল ভিলেজের পরিচালক এসএইচ বারী সবুজ বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্বাভাবিক নিয়মে ১২০এমএসএলের মধ্যে কোনো স্থাপনা নির্মাণ না করার কথা। তারপরও কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্বাভাবিক পানির উচ্চতা ১০৯ এমএসএলের নিচে বর্তমানে ঘরবাড়িসহ সরকারি স্থাপনা নির্মিত হয়েছে। তিনি ঝুলন্ত সেতুটি সংস্কার করে ১০৯ এসএসএল পানির ওপরে নিয়ে আসার আহ্বান জানান।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

ঐতিহ্যবাহী র‌্যালি ছাড়াই রাঙামাটিতে জন্মাষ্টমীর আনুষ্ঠানিকতা শুরু

মরণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাবে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে বহু বছরের ঐতিহ্যবাহী বর্নাঢ্য র‌্যালি ছাড়াই উদযাপিত হলো …

Leave a Reply