নীড় পাতা » করোনাভাইরাস আপডেট » কেনো প্রয়োজন রাঙামাটিতে পিসিআর ল্যাব স্থাপন

কেনো প্রয়োজন রাঙামাটিতে পিসিআর ল্যাব স্থাপন

রাঙামাটিতে হঠাৎ করেই চিকিৎসক-নার্সসহ সাধারণ মানুষের শরীরে করোনা ভাইরাসশনাক্ত হওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে রাঙামাটিবাসী। ভাইরাসটি যেকোন সময়ে আরো বেশি মানুষে শরীরে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে রাঙামাটিতে নমুনা সংগ্রহের পর রিপোর্ট পেতে দেরি হওয়ায় ভাইরাসটি সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। রাঙামাটি থেকে করোনা উপসর্গ থাকা রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে চট্টগ্রামের তিনটি ল্যাবে পাঠানোর পর সেই রিপোর্ট আসতে সপ্তাহখানেকের মত সময় লাগছে। যার ফলে সঠিক সময়ে করোনা শনাক্ত করতে না পারায় ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ছে। সঠিক সময়ে করোনা পরীক্ষার জন্য ইতোমধ্যে রাঙামাটিতে একটি পিসিআর ল্যাব স্থাপনের দাবি উঠেছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ৬ মে রাঙামাটিতে প্রথম বারের মতো যে ৪ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয় তাদের মধ্যে ৯ মাস বয়সী এক শিশু এবং হাসপাতালে একজন নার্সও ছিল। ৭ মে ওই শিশুসহ তার পরিবার এবং নার্সের সংস্পর্শে আসা হাসপাতালের ডাক্তার, নার্সদের নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়। দ্বিতীয় নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানোর পর ১০ ও ১১ মে দুই দফায় তাদের রিপোর্ট আসে এবং তাদের নেগেটিভ রিপোর্ট পাওয়া যায়। ৯ মে তাদের তৃতীয় দফা নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং তার রিপোর্ট আসে ১৪ মে রাতে, যাতে সবগুলোই নেগেটিভ এসেছে। এছাড়া ১২ মে ১ জন, ১৩ মে ৯ জন এবং ১৪ মে ১১ জন আক্রান্ত হয়। যাদের নমুনা রিপোর্ট আসার এক সপ্তাহ আগে সংগ্রহ করেছিল। এভাবে নমুনা সংগ্রহের দীর্ঘ সময় পর রিপোর্ট আসা এবং রিপোর্টে পজেটিভ আসলে এক সপ্তাহের মধ্যে নীরবে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ছে। এখন ভাইরাসটির সংক্রমণ ঠেকাতে রাঙামাটিতে পিসি-ল্যাব স্থাপনের মাধ্যমে পরীক্ষা করলে তবেই এর সুফল পাওয়া যেত বলে মত এলাকাবাসী ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। এতে তিন পার্বত্য জেলার সব রিপোর্ট দ্রুততার সাথে সরবরাহ করা যেত।

তবে তিন পার্বত্য জেলার জনসংখ্যা বিবেচনায় রাঙামাটিতে পিসি আর ল্যাব স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা সে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে সরকার। যেখানে সমতলের একটি উপজেলায় তিন পার্বত্য জেলার মানুষের চেয়ে বেশি মানুষ বাস করে, সেখানে রাঙামাটিতে ল্যাব স্থাপন করা সম্ভব কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে পাহাড়ের দুর্গমতার বিষয়টি বিবেচনা এবং প্রান্তিক মানুষের মাঝে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে এর প্রয়োজনীয়তা কোনও অংশে কম নয় বলে দাবি এলাকার মানুষের। দেশের সবচে বড় উপজেলা বাঘাইছড়ি যেটি আয়তনে ঢাকা জেলার চাইতেও বড় সেই উপজেলায় কয়েকদিন আগে ‘হাম’ রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ে দেশব্যাপী আলোচনা হয়। দুর্গমতার জন্য যেখানে স্বাস্থ্য সেবাসহ সরকারি সব সুবিধা পৌঁছাতে বেগ পেতে হয়। বিষয়গুলো বিবেচনা সাপেক্ষে রাঙামাটিতে ল্যাব স্থাপনে প্রয়োজনীয়তা কোন অংশে কম নয় বলে দাবি এলাকাবাসীর।

রাঙামাটির প্রবীণ সংবাদকর্মী সুনীল কান্তি দে বলেন, জনসংখ্যা বিবেচনায় না এনে পার্বত্যাঞ্চলের দুর্গমতার বিষয়টি চিন্তা করে তিন পার্বত্য জেলায় দুর্গমাঞ্চলে রোগীদের দ্রুত রিপোর্ট পাওয়ার জন্য রাঙামাটিতে পিসি আর ল্যাব স্থাপন জরুরি। দেশের এক দশমাংশ এই অঞ্চলটিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মানুষদের দ্রুততার সাথে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে ল্যাব স্থাপন করলে পার্বত্যবাসী আরো উপকৃত হবে।

রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডা. বিপাশ খীসা বলেন, পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা রাঙামাটিতে খুবই জরুরি। এতে তিন পার্বত্য জেলার করোনা রোগীদের দ্রুত রিপোর্ট পাওয়া সহজ হতো। এজন্য ইতোমধ্যে আমরা চিঠি দিয়েছি মন্ত্রণালয়ের। এমনকি করোনা বিষয়ে রাঙামাটিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব পবন চৌধুরী স্যারও মন্ত্রণালয়ে এই বিষয়ে কথা বলেছেন। তবে এখনো পর্যন্ত মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের কিছু জানানো হয়নি।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশীদ বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীকে করোনার শুরুতেই পিসি আর ল্যাব স্থাপনে অনুরোধ জানিয়েছিলাম। আশা করছি রাঙামাটিতে পিসি আর ল্যাব স্থাপন হবে।

তবে বিষয়টি ভালোই উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন রাঙামাটিতে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব পবন চৌধুরী। তিনি গত ২৪ জুলাই রাঙামাটি ও কাপ্তাইয়ে পৃথক দুইটি সভার পর মন্ত্রণালয়ে এক চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, ‘রাঙামাটির দশটি উপজেলা থেকে করোনার নমুনা সংগ্রহ করে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডিতে পাঠানো হয়। নমুনা প্রেরণের পর ফলাফল পেতে সময় লাগে ৫ থেকে ৮ দিন। ফলে ঝুঁকির মাত্রা বৃদ্ধি পায়।’ এই কারণে তিন পার্বত্য জেলার জন্য রাঙামাটিতে করোনা ভাইরাস সনাক্তকরণে একটি টেস্টিং ফ্যাসিলিটি বা টেস্টিং ল্যাব স্থাপন করা প্রয়োজন।

দ্বিতীয় সুপারিশে তিনি বলেন, করোনা রোগির জন্য আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর সুবিধা একান্ত আবশ্যক হলেও ছয়লক্ষ জনসংখ্যার রাঙামাটিতে কোন হাসপাতালে আইসিইউ বা ভেন্টিলেটর সুবিধা নেই।’ ১৮ এপ্রিল একাদশ জাতীয় সংসদের সপ্তম অধিবেশনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি জেলায় একটি আইসিইউ স্থাপনের সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকারি পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

এরই প্রেক্ষিতে রাঙামাটি,খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান এই তিন পার্বত্য জেলার জন্য রাঙামাটিতে টেস্টিং ল্যাব স্থাপন এবং সংকটাপন্ন রোগিদের সুচিকিৎসার জন্য ৫টি আইসিইউ ইউনিট এবং ৫টি ভেন্টিলেটর স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় জনবল পদায়নের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘এইসকল সুবিধা পার্শ্ববর্তী দুটি পার্বত্য জেলার মানুষও ব্যবহার করতে পারবেন এবং এর ফলে সমগ্র পার্বত্য অঞ্চলে স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নত হবে।’

নিজের এই অনুরোধের কপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবকেও পাঠিয়ে ছিলেন পবন চৌধুরী।

এদিকে রাঙামাটিতে পিসিআর ল্যাব স্থাপন এবং রাঙামাটি হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপনের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় হয়েছে স্থানীয়রা। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন ইভেন্ট খুলে প্রতিবাদে সামিল এইসব মানুষ অবিলম্বে পার্বত্য এই জেলায় পিসিআর ল্যাব স্থাপন ও আইসিইউ চালুর দাবি জানাচ্ছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

স্বাস্থ্য বিভাগকে সুরক্ষা সামগ্রী দিলো রাঙামাটি রেড ক্রিসেন্ট

নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে রাঙামাটির ১২টি সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রসমূহে স্বাস্থ্য …

Leave a Reply