নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » কেনো এই ম্রো ন্যাশনাল পার্টি ?

কেনো এই ম্রো ন্যাশনাল পার্টি ?

২০১১ সালে প্রতিষ্ঠা, ২০১৫ সালে আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি! গত ৫ বছর ধরে পাহাড়ে হত্যা-সন্ত্রাসের পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরছে বান্দরবানের সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে পরিচিত ম্রো ন্যাশনাল পার্টির (এমএনপি) ৭৮ সদস্য। বৃহস্পতিবার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুরের কাছে আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ করেছে এ সংগঠনের ৭৮ জন সদস্য। আলীকদম উপজেলার কুরুকপাতা এলাকায় এ আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এ আত্মসমর্পণের সমগ্র কার্যক্রমের সমন্বয় করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশন।DSC_2215

জানা গেছে, এমএনপির সদস্যরা তাদের হাতে থাকা অস্ত্রগুলো ইতোমধ্যে সেনাবাহিনীর কাছে জমা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার উপজেলার দুর্গম কুরুকপাতা বাজারে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এমএনপির সদস্যরা আত্মসমর্পণ করেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১১ সালে মুরুংদের মুক্তির জন্য সশস্ত্র সংগ্রামের ঘোষণা দিয়ে মেনরুং ম্রো নামের এক যুবক ‘¤্রাে ন্যাশনালিস্ট পার্টি’ (এমএনপি) নামে একটি সশস্ত্র গেরিলা গ্রুপ গঠন করে। বান্দরবানের আলীকদমের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা মেনসিংপাড়ার অদূরে একটি পাহাড় চূড়ায় সদর দপ্তর স্থাপন করে ক্যাডার রিক্রুট এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালনা করে আসছিলেন তিনি। একবছর ধরে বিভিন্ন পাড়ায় গিয়ে এমএনপির সদস্যরা পার্টির খরচ চালানোর জন্য অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের চাঁদা আদায় করে আসছিল। একপর্যায়ে চাঁদা আদায়ে বাধা এলে এমএনপি সদস্যরা বান্দরবান পার্বত্য জেলার আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি ও থানচি এলাকায় চাঁদাবাজি, অপহরণ ও সন্ত্রাসী তৎপরতা শুরু করে। তবে শুরু থেকেই সাধারণ ¤্রাে নেতারা এ ধরনের কর্মকান্ডকে হঠকারিতা বলে প্রচার করে এর বিরুদ্ধে জনমত গঠনে উদ্যোগী হন।pic-12

প্রতিষ্ঠার একবছর যেতে না যেতেই এমএনপির মধ্যে দ্বিধাবিভক্তি ও গ্রুপিং শুরু হয়। ফলে ২০১২ সালের ৫ এপ্রিল রাতে আলীকদম উপজেলার পোয়ামুহুরী মেনচিং পাড়ার এমএনপি ঘাটিতে তিনজন কারবারি একযোগে হামলা চালিয়ে মেনরুংকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। ওই সময় মেনরুং ¤্রাের দেহরক্ষী পাশের কক্ষে ল্যাপটপে কাজ করছিল। সে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে একজন ¤্রাে কারবারিকে গুলিবিদ্ধ করলেও ওই তিন কারবারি সশরীরে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। পরে সংগঠন প্রধান মেনরুমের কয়েক টুকরো দেহখন্ডকে মাটি চাপা দিয়েছে ক্ষুব্ধ প্রতিপক্ষরা। এ ঘটনার পর ৬ এপ্রিল সেনা সদস্যরা দুর্গম কুরুকপাতা-পোয়ামুহুরীর এলাকার মধ্যবর্তী মেনচিং পাড়ায় অভিযান চালায়। অভিযানে বন্দুক, গুলি, সোলার প্যানেল, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করে সন্দেহভাজন ১০জনকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ৪ জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

সংগঠনের প্রধান মেনরুং মুরুং নিহত হওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় সেনাবাহিনীর আলীকদম জোনের পোয়ামুহুরী ক্যাম্পে আত্মসমর্পণ করে এমএনপি’র ৪২ সদস্য। পরে আরেক অভিযানে একই বছরের ৮ মে পোয়ামুহুরী ইয়াংরিং মুরুং কার্বারি পাড়া থেকে ৭টি গাদা বন্দুক, ১টি পিস্তল, গান পাউডার ৩শ’ গ্রাম, বল্লম/ছোড়া- ৮টি, গান পাউডার তৈরির কেমিক্যাল, অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ এমএনপি সদস্য সন্দেহে ৭ মুরুংকে আটক করেছে। আটকদের জিজ্ঞাসাবাদে নিহত এমএনপি প্রধান মেনরুম মুরুং লাশের সন্ধান পায়। পরে পোয়ামুহুরীর মেনচিং পাড়ার দুর্গম অরণ্য থেকে নিহত মেনরুমের মাটি চাপা লাশের কংকার উদ্ধার করা হয়।DSC_2309

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা নিহত হওয়ার পর এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংগঠনটির সদস্যরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। কুরুকপাতা-পোয়ামুহুরী এলাকায় মেনরুম (ছোট) গ্রুপ ও দোছারী-তৈনখাল এলাকায় লৌহব গ্রুপ নামে এ দুই অংশের পরিচয় জানা গেছে। এই দুই গ্রুপ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আটক করে মুক্তিপণ আদায় করতো। সর্বশেষ গত ৪ অক্টোবর মোহাম্মদ আলী ও মোঃ সাইফুল ইসলাম নামে দুই ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ৩ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ আদায় করে এমএনপি সন্ত্রাসীরা। অব্যাহত সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারণে সেনাবাহিনী এমএনপি বিরোধী অভিযান চালায়। নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান, আর্থিক সঙ্কট, নিজ জনগোষ্ঠীর সদস্যদের অসহযোগিতাসহ নানামুখী টানাপড়েনে সংগঠনটির সদস্যরা আত্মসমর্পণের পথ বেছে নিয়েছে বলে জানান ম্রো নেতারা।

থানচি উপজেলার ¤্রাে নেতা খামলাই ¤্রাে জানান, সংগঠনটির মেনরুম গ্রুপের ৬৪ জন ও লৌহব গ্রুপের ১৪ সদস্য আত্মসমর্পণ করেছে। তারা ৬০টির মতো স্থানীয় তৈরি অস্ত্রও জমা দিয়েছে। সংগঠনটির অপতৎপরতায় খোদ ¤্রাে জনগোষ্ঠীর সদস্যরা চিন্তিত ছিল। কেউই চাননি তাদের সন্তানেরা বিপথগামী হোক। পরে ¤্রােদের সামাজিক সংগঠন ¤্র্েরা সোশ্যাল কাউন্সিল বিপথগামী যুবকদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, জনপ্রতিনিধি ম্রো নেতা রাংলাই ¤্রাে, খামলাই ¤্রাে, জেলা পরিষদের বর্তমান ও সাবেক সদস্য সিংইয়ং ¤্রাে, অংপ্রু ¤্রাে, অ্যাডভোকেট মাংইয়ং ম্রোসহ ¤্রাে সোশ্যাল কাউন্সিলের নেতারা আত্মসমর্পণে সহযোগিতা করেছেন। স্থানীয়ভাবে তৈরি বন্দুক যাকে গাদা বন্দুক বলে, এ ধরনের অস্ত্রই সদস্যরা জমা দিচ্ছে। এমএনপির দুইটি গ্রুপের মোট ৭৮ সদস্য ইতোমধ্যে ৬০টির মতো অস্ত্র জমা দিয়েছে বলে জানা গেছে। এসব অস্ত্রের বেশির ভাগই স্থানীয়ভাবে তৈরি। অস্ত্রগুলো দিয়ে এমএনপির সদস্যরা বান্দরবানে লামা, আলীকদম ও থানচি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি ও অপহরণসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাতো।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

জুরাছড়িতে গুলিতে নিহত কার্বারির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় স্থানীয় এক কার্বারিকে (গ্রামপ্রধান) গুলি করে হত্যা করেছে অজ্ঞাত বন্দুকধারী সন্ত্রাসীরা। রোববার …

Leave a Reply