নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » কী খবর বন্ধু বলো

কী খবর বন্ধু বলো

আজ হতে প্রায় ১৮ বছর আগে। উচ্চ মাধ্যমিক পেরিয়ে মেডিকেল, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছি দূরের শহর চট্টগ্রামে। মন পড়ে আছে প্রাণের শহর খাগড়াছড়িতে। স্কুলবেলার অনেক স্মৃতি তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল নিজেকে। যুগ—যুগান্তরের বিরাজমান পরিস্থিতি পাহাড়বাসীর মানসিক দূরত্ব বাড়িয়েছিল যোজন যোজন। কোথায় জানি শূণ্যতা, আর নয় অপেক্ষা। এবার কিছু করতেই হবে। ভোরের কাগজ পাঠক ফোরাম খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির যাত্রা শুরু ১৯৯৬ সালে। উদ্যম, উৎসাহ নিয়ে সেই পথ চলা। আমরা বুঁদ ছিলাম প্রাণের সম্মিলনে। অন্তরের টান, হৃদ্যতা সবই ছিল, এখনো আছে। ঐক্যে এগুচ্ছিলাম। হঠাৎ নতুন ধারার ডাক। তবুও ঐক্যের সুতোমালার জন্য আজীবন কৃতজ্ঞতা পাঠক ফোরামের কাছে। এ ফোরামই আমাদের চৈতন্যে নাড়া দিয়েছিল। অনুপ্রাণিত করেছিল আমাদের সবার মন।
তারপর শুদ্ধ বন্ধুতার মননে নির্মাণ— প্রথম আলো বন্ধুসভা’র। নানা বছরের ক্ষোভ, যন্ত্রণা আর প্রবঞ্চনা বিষিয়ে তুলেছিল নৃ—গোষ্ঠীর মন। দুরত্ব ছিল, ক্ষত ছিল সম্প্রীতির। সেখানেই সম্প্রীতির সম্মিলন হলো বন্ধুসভাকে জড়িয়ে। বন্ধুতার চমৎকার বন্ধনে কী তীব্র ভালোবাসা এ সংগঠনকে ঘিরে! শুরু থেকেই সোনালী চাকমা প্রাণের ছোঁয়ায় সোনালী বন্ধন গড়ে দিয়েছিলেন প্রতিবাদী শাব্দিক গাঁথুনিতে। সারাদেশের বন্ধুদের সমর্থন কুড়িয়েছিল অন্তরিকা চাকমা। মনন, মানসিকতা আর স্বাধিকার প্রশ্নে অন্তরিকা অন্তর খুলে সোচ্চার। মনে পড়ে, ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে ভোররাতে সবার আগে হাজিরা দিয়ে অবাক করেছিল নিউসিয়া। তার নিটোল বন্ধুতা মুগ্ধ করেছিল সবাইকে। বন্ধুসভা নির্মাণে, আত্মার বন্ধনকে সুদৃঢ় করতে ইকবাল, শ্রীকান্ত, নাসির, জাহাঙ্গীর, শিমুল কী না করেছিল! আর্তপীড়িত অসহায় মানুষের সেবায় এগিয়ে এসেছিল স্বতঃস্ফূর্তভাবে। এক বন্ধু তো নিজের নেইল পলিশের টাকা বিলাসে খরচ না করে অনায়াসে দিয়েছিল বন্ধুসভার সাহায্য তহবিলে।
পপি, মিনিচি, শাহআলম, শিল্পী, মামুনসহ বন্ধুরা ‘আলোর ইশকুল’ আর ‘মিলনমেলা’ র জন্য কী কষ্টই না করেছিলে! আমাদের আত্মতৃপ্তি ছিল খাগড়াছড়িসভা দেশের সবচেয়ে বড় মিলনমেলার আয়োজন করে আর একুশের বইমেলায় প্রথম স্থান অধিকার করে। ভুলিনি ভাইবোন দিবসে রাখীবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সুখমুহূর্তগুলো, কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনার সেই সম্মিলনের কথা। কী করে ভুলি আঁকিয়ে বন্ধু দেবরাজ মিশ্র, ক্যজাই মারমা আর ভবেশ চাকমার কথা, বৈসাবিতে যাদের আল্পনার রঙ রাঙিয়েছিল সবার মন।
এরকম নানা আয়োজনে খাগড়াছড়ির নিবেদিত বন্ধুরা আজ চারদিকে ছড়িয়ে —ছিটিয়ে। আত্মার আত্মীয়তা ভুলে অচেনা হয়েছেন সোনালী, ব্যস্ত আছেন নিজ রাজ্যে। অভিমান নিয়ে অন্তরিকা আজ দূরের কলেজের অধ্যাপনায় মগ্ন। উচুঁ পাহাড়চুঁড়োর স্কুলে ছাত্র—ছাত্রী নিয়ে ব্যস্ত মিনিচি আর সুপারিকা। দূর দেশে জোসনা গেঁথে গেঁথে রাজশ্রী এখন কবিতা শোনায় বরকে। মনিকা গুছিয়ে নিচ্ছে তার নিজের সংসার। ব্যাংকার মশিউর, সংসারী দিশা  চাটগাঁয়, সুযশ আর রিমি স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থায়, আর আতাউর আছে মুঠোফোন কোম্পানির সওদাগিরিতে। বিশ্ব মোড়লের দেশে জোনাকি আর শিল্পী, রেনেসাঁর দেশে নিউসিয়া এবং পুবের দেশ জাপানে আপনালয়ে ব্যস্ত অন্তরা। না ফেরার দেশে মুন্নী, শুনবো না কোনোদিন মুচকি হাসানো ‘…ভাই “’ —ডাক! রামগড়ে অগোছালো জীবন—যাপনে ব্যস্ত জামাল উদ্দিন সামীম। খবর নেই রূপম, মুনীম আর ইলহাকের। অথচ এরা সবাই একদিন শত বাঁধা পেরিয়ে খাগড়াছড়িসভাকে আলোকিত করেছিল!
বিচ্ছিন্নতাকে আবারো ঐক্যের সুতোয় বন্ধুতার মালা গাঁথার জোর দাবি আজ। আমরা খাগড়াছড়ির বন্ধুরা বাস্তবতায়, সময়ের ব্যস্ততায় আজ অ—নে—ক দূরে। যত দূরে থাকি না কেন, আমরা আবারো কাছে এসে মিলনমেলার নির্মলতা ফিরিয়ে আনতে চাই। একথা আরো অনেকের মনে কড়া নাড়ে!

Micro Web Technology

আরো দেখুন

লংগদুতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিএনপি’র প্রচারপত্র বিতরণ

রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতামূক প্রচারণা ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার …

Leave a Reply