কারা হচ্ছেন রাঙামাটি বিএনপির কান্ডারি ?

BNP-Flag-COver-pic-02আগামী ৮ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় রাঙামাটি জেলা বিএনপি’র সম্মেলন ও কাউন্সিলকে ঘিরে নানা জল্পনা-কল্পনা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যেই তিনটি পদে লড়ার জন্য মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন দশ জন প্রার্থী। সভাপতি পদে দুইজন,সাধারণ সম্পাদক পদে তিনজন ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন সোমবার শেষ দিনে। সমঝোতার মাধ্যমে আগামী নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্যই চেষ্টা চালাচ্ছেন কেউ কেউ। তবে সর্বশেষ সমঝোতা না হলে ১৬৭ জন কাউন্সিলরের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমেই বিএনপি’র ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে।

সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি এ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান এবং বর্তমান সাধারন সম্পাদক মোঃ শাহ আলম। সাধারন সম্পাদক পদে পৌর মেয়র সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভূট্টো, এ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন ও দীপন তালুকদার। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে এ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম পনির, আবদুস সবুর, আবদুল শুক্কুর, সেলিম বাহারি ও আহমদ ফজলুর রশীদ মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন।

দলের সাধারন নেতাকর্মীরা চান, তৃনমুল পর্যায় থেকে উঠা আসা কর্মীরা জেলা বিএনপির নেতৃত্বে আসুক। হঠাৎ উড়ে আসা কোনো নেতৃত্ব চান না তারা। তাদের দাবি তৃনমুল পর্যায় থেকে উঠা আসা এবং দলের জন্য ত্যাগী ও পরীক্ষিত এবং আন্দোলন সংগ্রামে যাদেরকে সবসময় পাওয়া যায় তারাই জেলা বিএনপি’র হাল ধরুক। এছাড়াও শুধুই দলের জন্য যারা সময় দিচ্ছেন চিন্তা করছেন এমন নেতৃত্বই আসুক। দলের অভ্যন্তরে থেকে অন্য দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবে এমন নেতৃত্ব চান না তারা।
জেলা বিএনপি’র সম্মেলনকে ঘিরে বিএনপি’র নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহের কমতি নেই। সবারই দৃষ্টি ৮ তারিখের সম্মেলনের দিকে।

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবু সাদাৎ মোঃ সায়েম জানান, বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশের প্রতি আমরা সবসময় শ্রদ্ধাশীল। বেগম জিয়ার নির্দেশনা অনুযায়ী ভোটের মাধ্যমেই তৃনমুল পর্যায় থেকে উঠা আসা পরীক্ষিতরাই নেতৃত্বে আসুক। তিনি বলেন, যেহেতু দীপেন দেওয়ান আগে সভাপতি ছিলো সে হিসেবে তার উচিত নতুনদের জায়গা করে দেয়া।

জেলা যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম শাকিল জানান, দীর্ঘদিন ধরে যারা দলীয় কর্মীদের সুখে-দুখে থেকে রাজপথে আন্দোলন- সংগ্রাম করেছে এমন নেতৃত্বই হাল ধরুক জেলা বিএনপি’র। ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতৃত্ব আনার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাবো।

তবে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কিছু নেতা সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতির নেতৃত্বের কথাই বলছেন।

জেলা বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক নিজাম উদ্দিন বলেন, দলে পরীক্ষিত ও পরিচ্ছন্ন নেতৃত্বই আসুক সেই আশাই করি। তিনি সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতি যাতে বজায় থাকে সেই লক্ষ্যেই বিএনপি’র নেতৃত্ব যেনো নির্বাচিত হয়, সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাবেন বলে জানান। পাহাড়ি মুক্ত বিএনপি চায় ব্যানারে যে মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে এই ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, এটা আওয়ামীলীগের কাজ। আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী।

নানিয়ারচর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি এজাজ নবী রেজাও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নেতৃত্বের উপর জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন না করে শেষ পর্যন্ত সমঝোতার মাধ্যমে কমিটি গঠন করার চেষ্টা করা হবে বলে জানান।

রাঙামাটি নগর বিএনপি’র সভাপতি মাহবুবুল বাসেত অপু নির্বাচনের মাধ্যমেই নেতৃত্ব নির্বাচনের উপর জোর দিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যারা নির্বাচিত হবেন,তারাই নেতৃত্বে আসুক। হঠাৎ দলে যোগ দেয়া কেউ নয়। তৃনমুল পর্যায় থেকে উঠা আসা পরীক্ষিত নেতৃত্বই দলের হাল ধরবে এমনটাই প্রত্যাশা তার।

এদিকে জেলা বিএনপি’র বর্তমান সভাপতি ও আবারো সভাপতি প্রার্থী দীপেন দেওয়ানের সাথে এই বিষয়ে কথা বলার জন্য একাধিকবার ফোন করে এবং তাঁর মোবাইলে খুদে বার্তা(এসএমএস) পাঠিয়েও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

অপর সভাপতি প্রার্থী মোঃ শাহ আলম জানান, ৩৭ বছর রাজনীতি করেও কি সভাপতি পদ পাওয়ার যোগ্যতা আমার হয়নি? তিনি জানান, তৃনমুল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা যদি প্রকৃত কাজের মুল্যায়ন করে নেতৃত্ব নির্বাচন করে তবে আমি বিজয়ী হবো আশা করি।

সাধারন সম্পাদক পদপ্রার্থী সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভুট্টো জানান, দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত সক্রিয়রা কর্মীরাই নেতৃত্বের হাল ধরবে। দলে থেকে অন্য দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবে এমন কেউ নেতৃত্বে আসুক তা অন্তত চায় না বিএনপির নেতাকর্মীরা।

অপর প্রার্থী দীপেন তালুকদারও নির্বাচনের মাধ্যমেই যোগ্য নেতৃত্ব উঠে আসবে বলে আশা প্রকাশ করে বলেন, সমঝোতা নির্বাচনের একটি অংশ। তবে আমাদের মূল টার্গেট নির্বাচন। দলের জন্য ত্যাগী ও আন্দোলনমুখি কর্মীরাই ভবিষ্যতের হাল ধরবে।

সাধারন সম্পাদক পদের অপর প্রার্থী এ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সাড়া পাওয়া যায়নি।

সমঝোতার লক্ষণ নির্বাচন পরিচালনা কমিটিও দেখছেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাছির উদ্দিন।

তিনি দৈনিক পাহাড়টোয়েন্টিফোর ডট কমকে জানান, সম্মেলনের আগে সবাইকে নিয়ে বসবো। তবে সমঝোতার কোনো লক্ষনই দেখছিনা। নির্বাচনের আগে হয়তো দুই একজন প্রত্যাহার করতে পারেন। কিন্তু সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক পদে নির্বাচন হবেই। কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়। তিনি সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার ব্যাপারে আশা জানিয়ে বলেন, সব কিছু ঠিক থাকলে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা ছাড়াই নির্বাচন সম্পন্ন হবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

Leave a Reply