নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » কারা আসছেন রাঙামাটি জেলা পরিষদে ?

কারা আসছেন রাঙামাটি জেলা পরিষদে ?

RHDC-Pic-01১৯৮৯ সালের প্রতিষ্ঠালাভের পর প্রথমবার নির্বাচন হলেও আর কখনই নির্বাচন হয়নি প্রতিষ্ঠানটির,অথচ পাহাড়ের প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু এই প্রতিষ্ঠান,পার্বত্য জেলা পরিষদ। প্রতিবারই সরকার বদলের সাথে বদলে যায় পরিষদও। ফ্যাক্সে আসে পাঁচজনের নামের তালিকা,এদের একজন থাকেন চেয়ারম্যান আর বাকীরা সদস্য। বরাবরই ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্নস্তরের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়া এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিভিন্ন সময় নির্বাচনের দাবি উঠলেও নানা জটিলতায় তা আর হালে পানি পায়নি। তাই এবারও সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিবর্তন আসবে জেলা পরিষদগুলোতে এটা অনিবার্য নিয়তিই। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা জোর লবিং শুরু করেছেন নির্বাচিত হতে আর আগে থেকে যারা আছেন,তারা চাইছেন বহাল থাকতে। এনিয়ে চলছে জোর লবিং। রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য হতে জেলা ও উপজেলার বিভিন্নস্তরের নেতারা জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। নেতাকর্মীদের মধ্যেও চলছে জোর আলোচনা,কে বা কারা হচ্ছেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য !

কে হচ্ছেন চেয়ারম্যান : রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কে হবেন এনিয়ে চলছে জোর আলোচনা। আলোচিত হচ্ছে বর্তমান চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা,সাবেক চেয়ারম্যান চিংকিউ রোয়াজা,বর্তমান পরিষদ সদস্য অংশ্রুই প্রু মারমা,বরকল উপজেলা চেয়ারম্যান সন্তোষ কুমার চাকমা,কাপ্তাই উপজেলা চেয়ারম্যানে অংসুচাইন চৌধুরীর নাম। তবে এদের মধ্যে আলোচনায় সবচে এগিয়ে আছেন কাউখালি থেকে বর্তমান পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অংশুই প্রু মারমা। পরিষদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন,সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাউখালি থেকে সর্বোচ্চ ভোট সংগ্রহ,প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় ব্যাপক লোক সমাগম করে আলোচিত হয়েছেন তিনি। আবার পার্বত্য রাঙামাটিতে আওয়ামী রাজনীতির শীর্ষ নেতা ‘দাদা’ দীপংকর তালুকদারের প্রিয়পাত্রও তিনি। ফলে চেয়ারম্যান পদের লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন তিনি। RHDC-02

বরকল উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সন্তোষ কুমার চাকমাও আছেন লড়াইয়ে,চাকমা জনগোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে তিনি আলোচিত হলেও নেতাকর্মীদের মধ্যে তার গ্রহনযোগ্যতা কম,বদমেজাজি হিসেবেও পিছিয়ে আছেন তিনি,ক্ষমতাসীন দলের নেতা হয়েও একটি নিরাপত্তা সংস্থার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে বিতর্কিত হয়েছেন কিছুদিন আগে,নির্বাচনকালে তার অপহরণ ঘটনা এখনো রহস্যের চাদরে ঢাকা,তাছাড়া তিনি এখনো বরকল উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান। সবমিলিয়ে খুউব একটা সুবিধাজনক জায়গায় নেই তিনি।

আলোচনায় আছেন কাপ্তাই উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অংসুসাইন চৌধুরীও। কাপ্তাই উপজেলা থেকেও নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভোট পেয়েছে নৌকা। কিন্তু অংসুচাইন চৌধুরী ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আওয়ামী লীগের আমলে জেলা পরিষদ সদস্য ছিলেন,আবার ওয়ান ইলেভেন সরকারের আমলেও সদস্য হয়েছিলেন,এছাড়া তিনি বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যান। চেয়ারম্যান পদ ছেড়ে তিনি জেলা পরিষদের দায়িত্ব নিলে উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব চলে যাবে বিএনপির দুইভাইস চেয়ারম্যানের হাতে,এনিয়ে সংশয়ও আছে দলে। আর ওয়ান ইলেভেনের সময় দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাসহ প্রায় সকল সিনিয়র নেতারা জেলহাজতে থাকলেও তার জেলা পরিষদ সদস্য হিসেবে দায়িত্বপালন কিছুটা প্রশ্নবিদ্ধই করেছে তাকে। ফলে তিনি তুলনামুলকভাবে পিছিয়েই আছেন।
আলোচনায় আছেন সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চিংকিউ রোয়াজাও। কিন্তু একবার দায়িত্ব পালন করায় তাকে আবারো দায়িত্ব দেয়া হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় আছে বেশ। কিন্তু সুশিক্ষিত ও সজ্জন হিসেবে পরিচিত চিংকিউর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায়না।

বর্তমান চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমাও জোর লবিং চালাচ্ছেন স্বপদে বহাল থাকতে,পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকায় পরিষদের গুরুত্ব এবং কাজও অনেক বুঝে গেছেন তিনি,ফলে শেষ চেষ্টা চালাচ্ছেন আবারো দায়িত্ব পেতে। দীপংকর তালুকদারের আস্থাভাজন নিখিল কুমার চাকমা নতুন পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুরের সাথেও সাক্ষাত সেরে রেখেছেন ইতোমধ্যে।

আবার একটি সূত্র জানাচ্ছেন,জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে প্রথম নারী হিসেবে আসতে পারেন অপহরনের পর গত দুইবছর ধরে নিখোঁজ আওয়ামী লীগ নেতা অনিল তঞ্চঙ্গ্যার স্ত্রী সান্তনা চাকমাও। নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি তাকেও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেন অবাক হওয়ার কিছুই থাকবেনা।

এদিকে জেলা পরিষদের সম্ভাব্য রদবদলে সদস্য হিসেবে শোনা যাচ্ছে অনেকের নামই। এদের মধ্যে বাঙালী কোটায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদারের এপিএস জাকির হোসেন চৌধুরী,জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মতিন,লংগদু উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাবুল দাশ বাবু,পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সোলায়মান চৌধুরী,জমির উদ্দিন,আকবর হোসেন চৌধুরীর নাম আলোচিত হচ্ছে।

১৯৮৯ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার সমাধানকল্পে তিন পার্বত্য জেলায় গঠিত হয় তিনটি পৃথক স্থানীয় সরকার পরিষদ,যা ১৯৯৭ পার্বত্য চুক্তির পর পার্বত্য জেলা পরিষদ নামে পরিবর্তিত হয়। রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের ১৯৮৯ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত পরিষদে গৌতম দেওয়ান চেয়ারম্যান এবং ৩০ জন সদস্য নির্বাচিত হন। গৌতম দেওয়ান পদত্যাগ করলেও বাকী সদস্যদের নিয়ে দীর্ঘদিন এই পরিষদ দায়িত্ব পালনের পর ১৯৯৭ সালের ৫ আগষ্ট চিংকিউ রোয়াজাকে চেয়ারম্যান করে নতুন পরিষদ গঠিত হয়,যার সদস্য ছিলেন রুহুল আমিন,অংসুচাইন চৌধুরী,সুনীল তঞ্চঙ্গ্যা,সুশান্ত চাকমা। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হওয়ার পর শিক্ষাবিদ ড. মানিক লাল দেওয়ানকে চেয়ারম্যান ও অজিত কান্তি তালুকদার,উষাহ্লা রোয়াজ,সুজিত দেওয়ান জাপান ও মোঃ মুছা চৌধুরীকে সদস্য করে নতুন পরিষদ গঠিত হয় ২০০২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি। ১৫ জুলাই ২০০৭ সালে জরুরী অবস্থার সময় জগৎজ্যোতি চাকমাকে চেয়ারম্যান ও অংসুচাইন চৌধুরী,বিহারী রজ্ঞন চাকমা,মনিরুজ্জামান মহসিন ও রতিকান্ত তঞ্চঙ্গ্যাকে সদস্য করে পরিষদ গঠিত হয়। সর্বশেষ আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর নিখিল কুমার চাকমাকে চেয়ারম্যান ও অংশুই প্রু মারমা,শামীম রশিদ,অভিলাষ তঞ্চঙ্গ্যা ও বৃষকেতু চাকমাকে সদস্য করে ২৫ মে ২০০৯ সালে যে পরিষদ গঠিত হয়,তা এখনো দায়িত্ব পালন করছে। প্রথম নির্বাচিত পরিষদ ছাড়া বাকী সবগুলো পরিষদই গঠিত হয়েছে ক্ষমতাসীন দলের আজ্ঞাবহ অনুগত দলীয় নেতাদের দিয়ে এবং সেই নিদের্শও এসেছে ফ্যাক্সবার্তার মাধ্যমে

সদস্য হিসেবে পাহাড়ী অন্যান্য জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা কেরল চাকমা,অভয় প্রকাশ চাকমা,জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক মিন্টু মারমা, ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা মৃণাল তঞ্চঙ্গ্যা, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সম্পাদক আশীষ কুমার চাকমা নব, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এডভোকেট বিপ্লব চাকমা, আওয়ামী লীগ নেতা সাধনমনি চাকমা,সাবেক ছাত্রলীগ নেতা দয়ারাম তঞ্চঙ্গ্যাসহ বেশ কয়েকজনের নাম আলোচিত হচ্ছে।  অত্যন্ত আকর্ষনীয় ও লোভনীয় এই প্রতিষ্ঠানের সদস্য হওয়ার জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা জোর লবিং ও তৎপরতা চালাচ্ছেন।

তবে যাদের নামই আলোচিত হোক না কেনো,জেলা পরিষদ গঠনের মূল চাবিকাঠি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতেই। নেতারা যতই তদবির আর প্রচেষ্টা চালান না কেনো,শেষাবধি নেত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তিনি বড়জোর পরামর্শ করতে পারেন নতুন পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর বীর বাহাদুরের সাথে। সাথে এটাও ঠিক নেত্রীর আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত পরীক্ষিত নেতা দীপংকর তালুকদারের পরামর্শকেও গুরুত্ব দেবেন তিনি। আবার পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল জনসংহতি সমিতির নেতা উষাতন তালুকদার স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায়,তার সাথেও শলাপরামর্শ করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। তবে শেষ পর্যন্ত তার সিদ্ধানই চূড়ান্ত। এখন অপেক্ষার পালা,২০০৯ সালের ২৫ মে একটি ফ্যাক্সের মাধ্যমে দায়িত্ব পাওয়া বর্তমান পরিষদও আবার একটি ফ্যাক্সের মাধ্যমেই বিলুপ্ত হবে,যে ফ্যাক্সবার্তায় লেখা থাকবে নতুন চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নাম। এখন সেই ফ্যাক্সটির জন্যই অপেক্ষা……

Micro Web Technology

আরো দেখুন

নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবদান রাখবে কিশোরী ক্লাব

রাঙামাটির বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) প্রোগ্রেসিভের বাস্তবায়নে ‘আমাদের জীবন, আমাদের স্বাস্থ্য, আমাদের ভবিষ্যৎ’ এই প্রকল্পের …

One comment

  1. PURA JELAPORISHOD DURNITITE NIMOJJITO CHAKRIJIBI INGINIERRAO TIKADARI KORE ELIPON CHAKMA NAMER EK MASTER CHAIRMANER JABOTIO LENDEN DEKHA SUNA KORE ELIPON NIJEO MASTARI NA KORE TIKADARIR KAJ KORE

Leave a Reply

%d bloggers like this: