নীড় পাতা » ব্রেকিং » কাপ্তাই হ্রদ : মশারি জালে ধ্বংস হচ্ছে পোনা মাছ

কাপ্তাই হ্রদ : মশারি জালে ধ্বংস হচ্ছে পোনা মাছ

একে তো এ বছর কাপ্তাই হ্রদে নেই পর্যাপ্ত পানি। অন্যদিকে নিষিদ্ধ থাকার পরও হরহামেশাই ব্যবহার হচ্ছে মশারি জাল। এতে করে মৎস্য শিকার শুরু হবার পর, হ্রদে কার্প জাতীয় পোনা মাছ ধরা পড়ছে বেশি। ফলে এই হ্রদের মৎস্য সম্পদের ভবিষ্যত নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। তবে পোনা মাছ শিকারে কড়া হুঁশিয়ারির কথা জানিয়েছে বিএফডিসি কর্তৃপক্ষ।

বিএফডিসি সূত্র জানায়, প্রতিবছর মাছেরর প্রজনন বৃদ্ধির জন্য মে থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত নিষিদ্ধ থাকে কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য আহরণ। এই সময়ে বিএফডিসির পক্ষ থেকে অবমুক্ত করা হয় কার্প জাতীয় মাছের পোনা। এরপর বর্ষার বৃষ্টিতে হ্রদ পূর্ণ হলে বেড়ে উঠে পোনাগুলো। ৭২৫ বর্গকিলোমিটারের এই হ্রদে এই বছরে ৪৩ মে.টন কার্পজাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। ১৯৬৫-৬৬ সালে কাপ্তাই হ্রদে ১২০৬.৬৩ মে. টন মাছ আহরণ করা হয়। ২০১৮-১৯সালে তা গিয়ে দাঁড়ায় ১০৫৭৭.৮৮ মে. টন।

তবে এবছর বৃষ্টি কম হওয়ায় স্বাভাবিকের চেয়ে পানি কম রয়েছে হ্রদে। ফলে মাছ শিকার শুরু হবার পর সহজেই জেলেদের জালে ধরা পড়ছে পোনা মাছগুলো। এছাড়া নিষিদ্ধ হলেও, হ্রদে হরহামেশা ব্যবহার হচ্ছে মশারি জাল (কেচকি জাল)। ফলে দেশের সবচেয়ে বড় এই কৃত্রিম হ্রদের মৎস্য সম্পদ এখন হুমকির মুখে।

কাপ্তাই হ্রদের জেলে দুলাল দাস জানান, হ্রদের পানি এবছর। হ্রদ খুলে দেয়া হলেও কার্প জাতীয় পোনাগুলো বড় হতে পারেনি অন্যদিকে হ্রদে পানি পরিপূর্ণ থাকলে পোনাগুলো লুকিয়ে থাকার সুযোগ পায়, সেটিও পানি কম থাকায় পোনা মাছগুলো লুকিয়ে থাকতে না পারায় অনায়াসে ধরা পড়ছে জালে।

অরেক জেলে সঞ্জয় দাস বলেন, আমাদের জালে পোনা মাছ ধরা পরলে আমরা পরে ছেড়ে দি। কারনে এগুলো বড় হলে তো আমরাই পাবো এবং মাছ বড় হলে দামও বেশি পাওয়া যাবে।

রাঙামাটি মৎস্য ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক উদয়ন বড়–য়া বলেন, এভাবে যদি পোনা মাছ নিধন হয়ে যায় তাহলে এই লেক একদিন মাছ শূণ্য হতে সময় লাগবে না। লেক খুলে দেয়ার প্রথম দিনে যে পরিমান মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়েছে একমাস পর তার চিত্র পুরোটা উল্টো। তিনি আরো জানান, প্রথম দিনে ঢাকায় ৩০-৪০ ড্রাম মাছ পাঠাতে পারলেও এখন ৫-১০ ড্রামের বেশি মাছ পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না।

রাঙামাটি মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আজহার আলী জানান, বর্ষার বৃষ্টিতে হ্রদ পূর্ণ হওয়ার পর পোনাগুলো প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠে। কিন্তু এবছর বৃষ্টি কম হওয়ায় স্বাভাবিকের চেয়ে পানি কম রয়েছে হ্রদে। এতে কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য শিকার শুরু হওয়ার পর সহজেই পোনা মাছগুলো জেলেদের জালে ধরা পড়ছে। বিশেষ করে নিষিদ্ধ মশারি জালে ধ্বংস হচ্ছে কার্প জাতীয় মাছ। এটি বন্ধ করা না গেলে বিলুপ্ত প্রজাতির তালিকায় চলে যাবে কার্প জাতীয় মাছ।

রাঙামাটি বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি), ব্যবস্থাপক, লে. কমান্ডার তৌহিদুল ইসলাম জানান, পোনা মাছগুলো পাড়ায় পাড়ায় বিক্রি হয় বলে শুনেছি। পোনা মাছ বিক্রির বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপের পাশাপাশি জিরো গিয়ার জাল ব্যবহার সম্পর্কে নির্দেশনা দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং যারা এসব পোনা মাছ শিকার ও বিক্রি করছে তাদের বিষয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কথা বলে জানালেন বিএফডিসি এই কর্মকর্তা।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বান্দরবানে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

বান্দরবানের লামা উপজেলার রুপসীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাচিং প্রু মারমার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করা …

Leave a Reply