নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » কাপ্তাই হ্রদ নিয়ে সিদ্ধান্তে ‘রাজনৈতিক চাপ’ !

কাপ্তাই হ্রদ নিয়ে সিদ্ধান্তে ‘রাজনৈতিক চাপ’ !

lake-09কাপ্তাই হ্রদ নিয়ে গত রবিবার নেয়া সিদ্ধান্ত হোঁচট খেলো বুধবারে এসেই। গত রবিবার রাঙামাটি জেলা প্রশাসক সম্মেলন জেলা প্রশাসক মো: মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কাপ্তাই হ্রদের মাছের সুষ্ঠু প্রজনন,বংশ বৃদ্ধি,মজুদ এবং ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থে ১ মে থেকে তিনমাস হ্রদে মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্তসহ নেয়া হয় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সেখানে হ্রদের মৎস সম্পদ রক্ষায় সভায় উপস্থিত প্রায় সকল বক্তাই ব্যাপক ‘হাঁকডাক’ করেন এবং ‘কোন চাপের কাছেই’ নিতে স্বীকার করা হবেনা বলেও আশ্বস্ত করেন দায়িত্বশীলরা। কিন্তু বিধি বাম। সিদ্ধান্ত নেয়ার মাত্র তিন দিনের মাথায় ঠিকই রাজনৈতিক নেতৃত্ব আর মৎস ব্যবসায়ীদের চাপের কাছে ‘মাথা নত’ করতে হলো হ্রদ ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ মৎস উন্নয়ন কর্পোরেশনকে।

ফলে ১ মে থেকে মাছ আহরণ বন্ধের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে তা এক সপ্তাহ পিছিয়ে করা হয়েছে আগামী ৭ মে মধ্যরাতের পর থেকে অর্থাৎ ৮ মে থেকেই কার্যকর হবে এই নিষেধাজ্ঞা।

বিষয়টি পরোক্ষভাবে স্বীকার করে নিয়ে বাংলাদেশ মৎস উন্নয়ন কর্পোরেশন এর রাঙামাটির প্রকল্প পরিচালক ও ব্যবস্থাপক কমান্ডার মাঈনুল ইসলাম বলেন, মৎস ব্যবসায়ী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের অনুরোধে আমরা এক সপ্তাহ পিছিয়েছি। আগামী ৮ মে থেকে মাছ আহরণ বন্ধ থাকবে এবং সেই সময় পোনা ছাড়া হবে।

এদিকে ১ মে থেকে মাছ বন্ধ থাকার খবরে ইতোমধ্যেই হ্রদ থেকে জাল প্রত্যাহার করা শুরু করেছিলো জেলে ও মৎস ব্যবসায়ীরা। আকস্মিক শেষ মুহুর্তে তারিখ পরিবর্তন তাদের কতটা কাজে আসবে সেটাই প্রশ্ন সাপেক্ষ। তবে এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন কাপ্তাই হ্রদ নিয়ে গত ২৭ এপ্রিলের সভায় নেয়া বেশ কিছু সিদ্ধান্তকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে দিলো। কারণ, এখন সাধারন মানুষ মনে করছেন, সেইসব সিদ্ধান্তগুলোও তাহলে রাজনৈতিক নেতাদের চাপ এবং অসাধু মৎস ব্যবসায়ীদের তদ্বিরে স্থগিত কিংবা বাতিল হতে পারে। সাধারণের মনে সৃষ্ট হওয়া এই সংশয় কাপ্তাই হ্রদের মৎস সম্পদ রক্ষায় নেয়া সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নকে হতাশায় নিমজ্জিত করবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

একটি দায়িত্বশীল সূত্র দাবি করেছে, ১ মে থেকে মাছ ধরা বন্ধের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এবং স্থানীয় দুই সংসদ সদস্যকে ‘ব্যবহার’ করেছে কাপ্তাই হ্রদের প্রভাবশালী মৎস ব্যবসায়ীরা। ফলে শুরুতে ‘যতটা গর্জেছেন, ততটা বর্ষাতে’ ব্যর্থ হলেন কাপ্তাই হ্রদের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনও। প্রশাসনের একটি মহৎ উদ্যোগ ও আন্তরিকতা শুরুতেই হোঁচট খাওয়ার ঘটনাটি বেশ হতাশাজনক বলে মন্তব্য করলেন সংশ্লিষ্টরা।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বঙ্গবন্ধু টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে মুক্তিযোদ্ধার জয়

রাঙামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে রাঙামাটি বঙ্গবন্ধু টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে বড় জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু …

২ comments

  1. Comment… If the Minister and MP Decide even ben fish in Kaptailake like silly mattetr so no need Administration and others . it is a bed instant for our. so infuture if need to take any dission for Rangamati at First take opinion Honarable Minister and MP .

    wait and see what will be happen

  2. কাপ্তাই হ্রদের মৎস্য সম্পদ সুরক্ষার্থে রাঙামাটি পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক মোঃ মোস্তফা কামাল ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতেই ১ মে থেকে হ্রদে মাছ শিকার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। মন্ত্রী এমপিদের উচিত ছিলো উপস্থিত মুরুব্বী ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ করা। কারো কাছে কোনো কিছু শুনেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে প্রশাসনকে বাধ্য করা অগ্রহণযোগ্য। যাই হোক ৭দিন পরে হলেও মাছ শিকার বন্ধ হবে। বন্ধের সময় যদি মাছ শিকার করা হয় এবং অবৈধভাবে পাচার করা হয় তখন কি হবে। মাছ ব্যবসায়ীরা যদি াপ্রশাসনের চাইতে বেশি নির্ভরযোগ্য হলে তো করার কি আছে। হায় এমপি.. মন্ত্রী

Leave a Reply

%d bloggers like this: