নীড় পাতা » পাহাড়ের অর্থনীতি » কাপ্তাই হ্রদে সুদিন ফেরার অপেক্ষায় জেলেরা

কাপ্তাই হ্রদে সুদিন ফেরার অপেক্ষায় জেলেরা

pp1
দেশে মিঠা পানির মাছের অন্যতম উৎস কাপ্তাই হ্রদের মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত সরকারের নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এই হ্রদ থেকে বছরে অন্তত দু’শ কোটি টাকার মাছ উৎপাদন সম্ভব হবে।

মৎস্য সংশ্লি¬ষ্ট রাঙামাটির তিনটি প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা। ২০১৩ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে। এ প্রকল্পের আওতায় ৬টি নার্সারি, ১টি হ্যাচারি, ৬টি পূর্ণাঙ্গ অভয়াশ্রম, ৮টি ভ্রাম্যমান মনিটরিং সেন্টার স্থাপন ও ২টি চেকপোস্ট নির্মাণ করা হবে।

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্প (বিএফডিসির) সূত্র জানায়, এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কাপ্তাই হ্রদে মাছের উৎপাদন দ্বিগুণ হবে, এতে সরকারের রাজস্ব আয়ও দ্বিগুণ হবে। বর্তমানে এই হ্রদ থেকে বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকার মাছ উৎপাদিত হচ্ছে। নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে উৎপাদন প্রায় ২০০ কোটি টাকায় উন্নীত হবে বলে জানিয়েছেন কাপ্তাই হ্রদ সংশি¬ষ্ট গবেষকরা।

বাংলাদেশে বিশালায়তনের একমাত্র কৃত্রিম জলাধার কাপ্তাই হ্রদ। ১৯৬০ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে খরস্রোতা কর্ণফুল নদীতে বাঁধ দিয়ে এই হ্রদ সৃষ্টি করা হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বাঁধ দেওয়া হলেও পরবর্তীতে এই হ্রদে মৎস্য উৎপাদনের সুযোগ ও সম্ভাবনার কথা চিন্তা করে ১৯৬৪ সালের জুন মাসে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনকে মৎস্য সম্পদ আহরণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বাজারজাতকরণের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

সেই থেকে বিএফডিসি এই হ্রদের মৎস্য ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য দায়িত্ব পালন করে আসছে। হ্রদের মৎস্য খাত থেকে ২০১২-১৩ অর্থবছরে প্রায় দশ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়।

বিএফডিসির কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণন কেন্দ্রের তথ্যমতে, বাণিজ্যিকভাবে মৎস্য উৎপাদনের শুরুতে ১৯৬৫-৬৬ সালে হ্রদে মাছের উৎপাদন ছিল ১২০৩ মে.টন। বর্তমানে বছরে (তিন মাস বন্ধ ব্যাতিত) প্রায় ৭০০০- ৮০০০ মে.টন মাছ উৎপাদন হচ্ছে। ব্যবস্থাপক জানান, এ বছর হ্রদে প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকায় ২৩ মেট্রিক টন বিভিন্ন প্রজাতির পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে কাপ্তাই হ্রদের বিভিন্ন জেলে ও ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, একসময় মিঠা পানির মৎস্য খনি হিসেবে পরিচিত কাপ্তাই হ্রদে পরিকল্পনার অভাবে আগের মত তেমন মাছ পাওয়া যায় না।

অথচ কাপ্তাই হ্রদের মাছের উপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ জেলার লক্ষাধিক মানুষের জীন জীবিকা নির্ভরশীল। তাদের মতে হ্রদে মৎস্য সম্পদ উন্নয়নে সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা গেলে এই হ্রদ পার্বত্য এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে। এ জন্য হ্রদ ড্রেজিংসহ কচুরিপানা অপসারণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলে তারা মত ব্যক্ত করেন।

রাঙামাটি মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শাহ আলম জানান, সরকার মাছ উৎপাদনে জন্য যেসব নতুন প্রকল্প নিয়েছে তা সবার সুবিধা এনে দেবে। তবে সরকারকে রাজস্ব না দিয়ে চোরাই পথে মাছ বিক্রির প্রবণতা রোধ করতে হবে।

এ ব্যাপারে কমান্ডার মাইনুল জানান, এমন আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না যে মাছ শিকারের হার দিনে দিনে কমবে। তবে তিনি জানান, অভয়াশ্রম ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখা গেলে এমনটি নাও ঘটতে পারে। হ্রদ মাছ শিকারের উন্মুক্ত করে দেওয়া হলেও ৬টি অভয়াশ্রমে মাছ শিকার নিষিদ্ধ রয়েছে। শীঘ্রই আরো দুইটি অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হবে। এসব অভয়াশ্রম এলাকায় যাতে জেলেরা মাছ শিকার করতে না পারে সে লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে জেলেরাসহ স্থানীয় জনসাধারণকেও এ ব্যাপারে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

‘পুলিশ পরিচয়ে’ অপহরণের পর মুক্তিপণে মিলল ছাড় !

সাদা পোষাকে পুলিশ পরিচয়ে একজন নির্মাণ শ্রমিককে অপহরণের পর মুক্তিপণের বিনিময়ে ছেড়ে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে …

Leave a Reply