নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » কাপ্তাই হ্রদে প্রথম দিনেই মৎস আহরণে রেকর্ড

কাপ্তাই হ্রদে প্রথম দিনেই মৎস আহরণে রেকর্ড

Fish-Fishকাপ্তাই হ্রদে মৎস্য আহরণে অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে মৎস্য আহরণ শুরুর প্রথম দিনে বিএফডিসি’র তিনটি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে প্রায় ১২২ মে. টনের অধিক মাছ ধরা পড়েছে। গত বছর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রথম দিনে রেকর্ড পরিমাণ প্রায় ৯৬ মে.টন মাছ ধরা পড়েছিলো।

সংশ্লি¬ষ্টরা জানিয়েছেন, এই হ্রদ হতে অতীতে কখনই একদিনে এত পরিমাণ মাছ ধরা সম্ভব হয়নি। কাপ্তাই হ্রদে মাছের সুষ্ঠু প্রজনন ও বংশ বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রায় সাড়ে তিন মাস মাছ শিকার নিষিদ্ধ থাকার পর বুধবার মধ্য রাতে মাছ শিকারের জন্য হ্রদ উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে প্রথম দিনেই এই অভূতপূর্ব পরিমাণ মাছ আহরণ করে জেলেরা। এই মাছের আনুমানিক বাজার মূল্য কোটি টাকারও বেশি হবে বলে ধারণা করেছেন ব্যবসায়ীরা। আর প্রথম দিনেই সরকার রাজস্ব পেয়েছে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা। দ্বিতীয় দিন শুক্রবারও যে পরিমাণ মাছ ঘাটে আসছে তাতে এদিনেও প্রথম দিনের কাছাকাটি মাছ আহরণ করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানায়।

শহরের রিজার্ভবাজার এলাকার হাসান নামের এক যুবক মাছ আহরণের প্রথম দিন রাতেই নিজ বাসার পাশে হ্রদ থেকে প্রায় আট কেজি ওজনের একটি গ্রাসকার্প মাছ ধরেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এবার হ্রদে বড় বড় আকারের মাছ পাওয়া যাবে।

বিএফডিসির তথ্যে আরো জানানো হয়েছে, কাপ্তাই হ্রদ হতে আহরিত মাছের মধ্যে ছয়টি ক্যাটাগরিতে রাজস্ব আদায় করা হয়। এর মধ্যে কার্প জাতীয় বড় মাছ, শিং, পাবদা, বাছাসহ বিশেষ ক্যাডাগরির মাছ, মধ্যম প্রজাতির মাছ, মলা/কেচকি মাছ এবং চাপিলা মাছ। রাজস্বের হার কেজিপ্রতি যথাক্রমে ৩২, ২৪, ২০, ১৮, ১৭ ও ১০ টাকা।

ব্যবসায়ীরা জানায়, অন্যান্য বছর স্থানীয় চাহিদাসহ নানা কারণে তিন মাসের মধ্যেই হ্রদ অবমুক্ত করে দেওয়া হতো এ বছর প্রায় সাড়ে তিন মাস বন্ধ রাখা হয়। এ ছাড়া সময় গড়ালেও কম বৃষ্টিপাতের কারণে এই মওসুমে হ্রদে পানি তুলনামুলক কম মওজুদ হওয়ায় জেলেদের জন্য মাছ আহরণ সহজ হয়েছে। এছাড়া মাছ শিকার বন্ধকালীন এ বছর ভালো মনিটরিং হয়েছে এতে চোরাপথে মাছ শিকার অনেকাংশেই কম ছিল।

এদিকে জেলেরা মাছ বেশি পেয়ে উৎফুল¬ হলেও আগামী দিনে মাছের এই হার থাকবে কিনা তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকেই। তাদের ভাষ্য মাছের পরিমাণ বেশি হলেও প্রথমদিন অনেক ছোট মাছ ধরা পড়েছে। পানি কম থাকায় এই অবস্থা হয়েছে বলে মত প্রকাশ করেন তারা। সব মাছ অল্পদিনেই শেষ হয়ে গেলে বছরের মাঝামাঝি জেলেরা অর্থ সঙ্কটে পড়তে পারে বলেও অনেকের শঙ্কা।

রাঙামাটি মৎস্যজীবি সমিতির সভাপতি শাহ আলম জানান, প্রথম দিনেই ছোট মাছ ও চাপিলা মাছ বেশি পাওয়া গেছে। বড় মাছ তেমন একটা পাওয়া যায়নি। প্রথম দিন থেকে জেলে ও ব্যবসায়ীদের প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গেলেও সারা বছর এই প্রাণচাঞ্চল্য নাও থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করেন। সময়মতো হ্রদের পানি না বাড়া ও পরিমাণ মতো পানি না থাকার কারণে সামনের সময়গুলোতে মাছ সঙ্কটের আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এ ব্যাপারে কমান্ডার মাইনুল জানান, বন্ধকালীন অবৈধভাবে মাছ আহরণ ও পাচার রোধে কাপ্তাই হ্রদে প্রথমবারের মতো কোস্ট গার্ড কাজ করেছে। এছাড়া বিএফডিসিসহ স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা ও সার্বক্ষণিক তৎপরতার কারণে অসাধু ব্যবসায়ী ও জেলেরা অবৈধভাবে মাছ সংগ্রহ করতে পারেনি। এর ফলস্বরুপ মাছ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রথম দিনেই রেকর্ড পরিমাণ মাছ আহরণ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এবছর কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকার বন্ধকালীন ২২টন পোনা ছাড়া হয়েছে। এছাড়া বন্ধকালীন প্রতি জেলেকে মাসে ২০ কেজি করে ১৮৯৬০ নিবন্ধিত জেলেকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। গত বছর এ খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয় ১২হাজার জেলেকে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কাপ্তাইয়ে করোনা সংক্রমণ কমছে

প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং থানা পুলিশের তৎপরতায় রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে করোনা সংক্রমন হার কমছে। কাপ্তাই উপজেলা …

Leave a Reply