নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » কাপ্তাই হ্রদে নামছে কোস্টকার্ড !

কাপ্তাই হ্রদে নামছে কোস্টকার্ড !

lake-09বিশাল আয়তনের কাপ্তাই হ্রদের মৎস সম্পদ রক্ষা নিয়ে আলোচনা দীর্ঘদিনের। প্রতিবছর হ্রদের জলে মাছের পোনা ছাড়ার সময়ে ৩ মাস মাছ ধরা বন্ধ রাখা হলেও তা খুউব একটা কাজে আসেনা ‘খেয়ালি’ আর ‘দরিদ্র’ জেলেদের অসহযোগিতার কারণে। তাই এনিয়ে প্রতিবছরই নানান ‘পরিকল্পনা’ নেয়া হয় এবং যথারীতি যেসব পরিকল্পনা ‘ব্যর্থও’ হয়। কিন্তু নিকট অতীতের ভুল আর ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার মাছধরা বন্ধকালিন সময়ে আরো বেশি ‘কঠোর’ হওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন ও হ্রদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ মৎস উন্নয়ন কর্পোরেশন(বিএফডিসি)। ফলে হ্রদের ৫৪ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম হ্রদের জলে নামছে কোস্টকার্ড। উদ্দেশ্য ‘বন্ধকালীন সময়ে অবৈধ মৎস শিকার বন্ধ করা।’ কাপ্তাই হ্রদে অবৈধ মৎ আহরণ,বাজারজাতকরণ,পরিবহন, পাচার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ বন্ধে কাজ করবে গহীন সমুদ্রে দেশের নৌসম্পদ রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী কোস্টগার্ড সদস্যরা। তাদের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সহযোগিতাও নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিএফডিসি।
শুধু তাই নয়, আগামী ১ মে থেকে শুরু হচ্ছে মাছ ধরার উপর ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা। এ সময়ের মধ্যে কেউ মাছ শিকার অথবা পরিবহন করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোঃ মোস্তফা কামাল।

রবিবার রাঙামাটি জেলাপ্রশাসক সম্মেলন কক্ষে কাপ্তাই হ্রদে সাময়িকভাবে মাছ শিকার বন্ধ রাখা প্রসঙ্গে এক বৈঠকে এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সভায় জেলাপ্রশাসক মোঃ মোস্তফা কামাল জানান, এ বছর মাছ শিকার নিষিদ্ধ মৌসুমে যারা মাছ শিকার করবে তাদের সরাসরি গ্রেফতার করা হবে। কোনো প্রকার চাপের মুখে নতি স্বীকার করা হবেনা বলেও সাফ জানিয়ে দেন জেলার সর্বোচ্চ প্রশাসনিক এই কর্তা।

বৈঠকে ব্যবসায়ীদের মতামতের ভিত্তিতে যে সমস্ত স্থান দিয়ে চোরাকারবারিরা মাছ পাচার করেন সেসব স্থানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকবে। এছাড়াও হ্রদে সার্বক্ষনিক কোস্টগার্ডের সদস্যরাও টহলে থাকবেন বলে জানানো হয়।Bangladesh_Coast_Guard_Logo

সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ রফিকুল করিম, বিএফডিসি রাঙামাটির ব্যবস্থাপক কমান্ডার মাঈনুল ইসলাম,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোঃ হাবিবুর রহমান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবদুল হান্নান মিয়া, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা রহমান শম্পা, রাঙামাটি প্রেস ক্লাব সভাপতি সুনীল কান্তি দে, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মনিরুজ্জামান রানা উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতিনিধি,ব্যবসায়ী নেতারাও এসময় উপস্থিত থেকে মতামত ব্যক্ত করেন।coast-gurd

সভায় জানানো হয়, মাছ শিকার নিষিদ্ধের সময়ে রাঙামাটি জেলার সকল বরফ কল বন্ধ রাখা হবে। পুকুরের যে সমস্ত মাছ তা রাঙামাটির বাইরে নিয়ে যেতে দেয়া হবেনা। চোরাকারবারিদের কাছ থেকে যে মাছ জব্ধ করা হবে তা নিলামে তোলা হবে ঠিক কিন্তু সে মাছও রাঙামাটির বাইরে নিয়ে যেতে দেয়া হবেনা। হ্রদে সার্বক্ষনিক আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ম্যাজিস্ট্রেটগণ দায়িত্ব পালন করবেন। kp-lake-21
বন্ধ মৌসুমে জেলেদের মাছ শিকারে নিরুৎসাহিত ভিজিএফ’র চাল ২০ কেজি থেকে বাড়িয়ে দ্বিগুন করার ভাবনার কথাও জানানো হয়। শীঘ্রই এসব ভিজিএফ চাল বিতরনেরও ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন প্রতিনিধিরা।
সভায় সর্বশেষ বছরে হ্রদ থেকে আহরিত মাছ পরিবহন করে আট কোটি টাকার রাজস্ব আয় হয়েছে বলেও জানানো হয়।

রাঙামাটি মৎ উন্নয়ন কর্পোরেশন এর ব্যবস্থাপক ও প্রকল্প পরিচালক কমান্ডার মাইনুল ইসলাম পাহাড় টোয়েন্টিফোর ডট কমকে জানিয়েছেন, শুধু প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দিয়ে বিশাল হ্রদে তিনমাস মৎস আহরণ বন্ধ রাখা সম্পূর্ণ সম্ভব নয়,  এই জন্য জেলার সচেতন মানুষের সহযোগিতাও প্রয়োজন। তিনি রাঙামাটিবাসীকে তিনমাস মাছধরা বন্ধকালীন সময়ে সহযোগিতা করে কাপ্তাই হ্রদের মৎস সম্পদ রক্ষার আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত,যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে প্রমত্তা কর্ণফুলি নদীতে বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের ফলে সৃষ্টি হয় কাপ্তাই হ্রদের। দেশের দক্ষিণ পূর্ব অঞ্চলে অবস্থিত এই হ্রদের আয়তন ৭২৫ বর্গকিলোমিটার । হ্রদের গড় গভীরতা ১০০ ফুট এবং সর্বোচ্চ গভীরতা ৪৯৫ ফুট। বিশালাকৃতির এই হ্রদ দেশের মিঠা পানির মাছের অন্যতম একটি ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। ২০১২-১৩ অর্থবছরেও এই হ্রদ থেকে প্রায় ৮ হাজার ৮১৪ টন মাছ আহরণ করা হয়েছে। kaptai-lake4

Micro Web Technology

আরো দেখুন

নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবদান রাখবে কিশোরী ক্লাব

রাঙামাটির বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) প্রোগ্রেসিভের বাস্তবায়নে ‘আমাদের জীবন, আমাদের স্বাস্থ্য, আমাদের ভবিষ্যৎ’ এই প্রকল্পের …

Leave a Reply