কাপ্তাই হ্রদে কচুরিপানার জঞ্জাল

kp-lake1কাপ্তাই হ্রদের সৌন্দর্যতা উপভোগ করতে দেশ-বিদেশ থেকে বহু পর্যটক এ পার্বত্য রাঙামাটিতে ভ্রমন করতে আসে। কিন্তু দিন দিন কাপ্তাই লেক তার পুরনো রূপ হারাতে বসেছে। বর্তমানে কাপ্তাই লেক কচুরিপানার জঞ্জালে মারাত্মক দূষণের শিকার। কচুরিপানা পঁেচগলে হ্রদের পানিকে দূষিত করে তুলেছে। আর এ হ্রদের পানি ব্যবহার করে মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। প্রায় ২০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা ভয়াবহভাবে কচুরিপানায় জঞ্জালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে কাপ্তাই হ্রদ। এদিকে,হ্রদে জমে থাকা কচুরি পানার জঞ্জালে নৌ চলাচলও বিঘিœত হচ্ছে।

রাঙ্গামাটি শহর ঘিরে থাকা কাপ্তাই হ্রদের বিস্তির্ণ এলাকাজুড়ে এখন কচুরিপানার স্তুপ। বর্ষা মৌসুমে সীমান্ত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কচুরিপানা এসে হ্রদে একাকার হয়ে গেছে। দীর্ঘ সময় ধরে কাপ্তাই হ্রদের বিশাল এলাকা কচুরিপানার জঞ্জালে আবদ্ধ হয়ে পুরোপুরি অচল হয়ে গেছে রাঙ্গামাটি তবলছড়ি লঞ্চ ঘাট, বিলাইছড়ি নৌ-পথ,কাপ্তাই জেটিঘাট ও কাপ্তাই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র।

রাঙামাটি-বিলাইছড়ি লঞ্চের সাড়েং ক্দ্দুুস জানান,এ কচুরিপানার জন্য আগে যেখানে সময় লাগতো আড়াই ঘন্টা এখন বিলাইছড়ি পৌছাতে সময় লাগে প্রায় তিন ঘন্টার চেয়ে বেশি। এদিকে, রাঙামাটিতে সাপ্তাহিক বাজারে পন্য বিক্রয় করতে আসা লীলাবতি চাকমা বলেন,কচুরিপানার কারনে বোট চলতে পারেনা। এগুলো পরিস্কার করলে ভালো হবে।

আরেক বিক্রেতা সাধনমনি তঞ্চঙ্গ্যা বলেন,প্রতি সপ্তাহে বাজারে আসতে খুব কষ্ট হয়। কচুরিপানার কারনে বোট ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যায়। মাঝ নদীতে আটকে থাকতে হয়। এদিকে, কাপ্তাই থেকে বিলাইছড়ি যাতায়াতকারী যাত্রী ঝুলন দত্ত বলেন, স্বাভাবিকভাবে কাপ্তাই থেকে বোটে করে বিলাইছড়ি যেতে সময় লাগে দেড় ঘন্টা কচুরিপানার জন্য সময় লাগছে ২ ঘন্টা।

পাহাড়ি জনপদের বাসিন্দাদের পানিয় জল এবং যাবতীয় ব্যবহার্য পানির জন্য কাপ্তাই লেক একমাত্র উপায়। একে তো এই হ্রদের পানি বিশুদ্ধ নয়, তদুপরি এখানে পানি বিশুদ্ধকরণের নেই কোন ব্যবস্থা।

এদিকে কাপ্তাই উপজেলা চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন বলেন, কাপ্তাই এলাকায় হ্রদে কচুরিপানা অপসারন করার মতো ক্ষমতা আমাদের নাই। এর পরেও আমি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষন করছি। এ কচুরিপানার কারনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে যারা সাপ্তাহিক বাজারে উৎপাদিত পন্য বিক্রয় করার জন্য বাজারে নিয়ে আসেন কচুরিপানার জন্য আর কিছুদিন পরে তারাও আসতে পারবেননা।

এ প্রসঙ্গে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক সামসুল আরেফিন বলেন,এই কচুরপিানার সমস্যা সমাধানের জন্য উদ্যোগ নিয়েছি। বর্তমানে কচুরিপানার কাপ্তাই হ্রদের বিশাল এলাকা জুড়ে অবস্থান করার কারনে সহজে কিছু করা যাচ্ছে না। আর কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কচুরিপানার অপসারনের যে মেশিন আছে তা এ হ্রদের জন্য অপ্রতুল। এখনকার স্থানীয় এনজিওগুলোর সাথে কথা বলে একটা প্রজেক্ট নিয়ে হ্রদ থেকে তুলে কম্পোজ সার বা বায়োগ্যাস তৈরী করার পরিকল্পনা নেয়া হবে। এবং এর জন্য সরকারের কাছে অর্থ বরাদ্ধ চাওয়া হবে।

এখানে সাপ্তাহিক বাজেরর দিন রাঙামাটির প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে পাহাড়ীরা বাজারে আসেন কিন্তু এর কারনে তাদের অনেক সমস্যা হয়। তিনি বলেন প্রশাসনিক দ্বৈততার কারণে কচুরিপানা অপসারণ সম্ভব হচ্ছে না। কচুরিপানার জঞ্জাল জমতে জমতে কাপ্তাই হ্রদে স্বাভাবিক নৌ চলাচল বাধাগ্রস্থ হওযায় কাপ্তাই হ্রদ তীরবর্তী উপজেলা বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, শুভলংসহ রাঙ্গামাটির সঙ্গে নৌপথে যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তাই দ্রুত কচুরিপানা অপসারণের উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

রাঙামাটিতে যৌথ অভিযানে অস্ত্র-গুলি উদ্ধার

রাঙামাটির বন্দুকভাঙায় সন্ত্রাসীদের আস্তানায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে একে-৪৭, বিদেশি পিস্তল, বিপুল সংখ্যক গোলাবারুদসহ নগদ টাকা …

Leave a Reply