নীড় পাতা » ব্রেকিং » কাপ্তাই হ্রদের মাছ পরিবহনে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে কি?

নভেল করোনাভাইরাস

কাপ্তাই হ্রদের মাছ পরিবহনে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে কি?

ফাইল ছবি

নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) প্রভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে গোটা দেশ। এর প্রভাব পড়েছে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতেও। প্রয়োজন ছাড়া রাস্তাঘাটে মানুষের দেখা নেই; ‘সামাজিক দূরত্ব’ নিশ্চিত ও জনসাধারণকে ঘরের থাকার আহ্বানে জেলা শহর জুড়ে কাজ করছে জেলা প্রশাসনের মোবাইলটিম, সেনাবাহিনী ও পুলিশ।

তবে এমতাঅবস্থায় ঝুঁকি নিয়ে প্রত্যহ ঢাকা-চট্টগ্রামে যাতায়াত করছে রাঙামাটি বিএফডিসির মাছ পরিবহনের গাড়িসহ অন্যান্য জরুরি পরিবহন। আবার এসব গাড়িতে করেই প্রশাসনের ‘চোখ ফাঁকি’ দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন প্রবেশ করছে রাঙামাটিতেই! অন্যদিকে জরুরি পরিবহনে কর্মরত চালক-সহকারীরাও বিভিন্ন এলাকার মানুষজনের সঙ্গে বাধ্য হয়ে মেলামেশা করছেন। এতে করে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে রাঙামাটি- এমনটাই উদ্বেগ প্রকাশ করছেন খাতসংশ্লিষ্ট শ্রমিক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্টজনরা।

শুক্রবার বিকেলে সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে রাঙামাটি বিএফডিসি কেন্দ্রের কয়েকজন শ্রমিক জানিয়েছেন, সকাল থেকেই এখানে কাজ করতে হচ্ছে। কাজের কারণে অনেকের সঙ্গেই মিশতে হয়। আবার এখানকার গাড়িগুলো বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া-আসা করে। আবার এসব গাড়িগুলোর চালক-সহকারীদের সঙ্গেও আমাদের মেলামেশা করতে হয়। যেহেতু করোনা একটা সংক্রমণ রোগ, সেহেতু লোকজনের সঙ্গে মেলামেশা করা উচিত নয়, তবুও বাধ্য হয়ে করতে হচ্ছে। আবার কাজ না করলে পেট চলবে না; আমাদের সেদিকে খেয়াল রাখতে হয়।

বিএফডিসি তথ্য মতে, অন্যান্য সময়ে যেখানে প্রতিদিন রাঙামাটিতে বিএফডিসি’র তিন কেন্দ্র থেকে গড়ে ১৮-২০ টন মাছ আহরণ করা হতো। সেটি এখন গড়ে আহরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮-১০ টনে। পুরো রাঙামাটি জেলায় সরকারি তালিকাভুক্ত প্রায় ২২ হাজার জেলে রয়েছে; এ খাতের ওপর নির্ভরশীল জেলার শতাধিক ব্যবসায়ী। আবার একজন ব্যবসায়ীর অধীনে কাজ করেন ৫-৮ শ্রমিক।

রাঙামাটি পৌর নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব এম জিসান বখতেয়ার জানিয়েছেন, ‘মাছ পরিবহনের গাড়িসহ অন্যান্য সেবার গাড়িগুলো রাঙামাটি থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাওয়া-আসা করে। আবার গাড়িরচালক ও সহকারীদের সঙ্গে এ খাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মেলামেশায় এক ধরণের জনসমাগম হয়ে থাকে। এতে করে রাঙামাটিও করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ে। তাই আমি অনুরোধ করব সেহেতু ক’দিন পরেই কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ নিষিদ্ধ হবে, সেহেতু আপদকালীন সময় বিবেচনা করে রাঙামাটি থেকে বাহিরে মাছ পাঠানো আপাতত বন্ধ করা হোক।’

রাঙামাটি পৌরসভার প্যানেল মেয়র মো. জামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, ‘প্রতিদিনই রাঙামাটি থেকে ঢাকা-চট্টগ্রামী মাছ পরিবহনসহ কাঁচামালের গাড়িগুলো যাতায়াত করছে। বেশির ভাগই গাড়িই ঢাকা কেন্দ্রীক। অথচ করোনাভাইরাসে বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান ঢাকা ও নারায়নগঞ্জ। পরিবহন চালক-সহকারীরা এসব এলাকাতেই আসা-যাওয়া করছে। তাদের অবশ্যই সতর্কতায় রাখতে হবে। এছাড়া এসব গাড়িতে করে প্রতিদিন ঢাকা ও চট্টগ্রাম এলাকা থেকে বিভিন্ন মানুষ রাঙামাটিতে প্রবেশ করছে। এতে করে ঝুঁকিতে পড়ছে রাঙামাটি। এই বিষয়টি বিশেষভাবে দেখার জন্য জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করছি।’

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) রাঙামাটি কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার তৌহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘রাঙামাটির তিনটি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে প্রতিদিনই ঢাকা-চট্টগ্রামে মাছ পাঠানো হয়। তবে করোনার প্রভাবে কাপ্তাই হ্রদ থেকে মাছ আহরণ পূর্বের থেকে অনেকটা কমেছে। এতে করে রাঙামাটির প্রধান কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন ৪-৫ গাড়ির বেশি মাছ পাঠানো হয়। আমরা ঢাকা-চট্টগ্রাম ফেরত গাড়িচালক ও সহকারীকে রাঙামাটি আসার পর ভালো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার আওতায় আনছি। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গেও আলাপ হয়েছে। আগামীতে ঢাকা-চট্টগ্রাম ফেরত গাড়িচালকদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।’

করোনার প্রভাবে অন্যান্য মৌসুমের চেয়ে এবার আরও পূর্বে কাপ্তাই হ্রদের মাছ আহরণ বন্ধ হবে কি-না এ প্রশ্নের জবাবে বিএফডিসি কমান্ডার জানান, ‘এ ব্যাপারে শনিবার সকালে স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করব। দেখি তারা কী বলতে চান।’

রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, ‘অনেকেই ফেসবুকে লেখালেখি করছে ঠিক আছে; বিষয়টি আমাদেরও মাথায় রয়েছে। প্রশাসনিক আইন অনুযায়ী প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

Micro Web Technology

আরো দেখুন

এমন ঈদ কখনোই দেখেনি আলীকদমের মানুষ

দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর এল খুশির ঈদ। তবে এবছর ঈদ এলেও বান্দরবানের আলীকদম …

Leave a Reply