নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » কাপ্তাইয়ে সেয়ানে সেয়ানে লড়াই আজ

কাপ্তাইয়ে সেয়ানে সেয়ানে লড়াই আজ

kaptai-cover-picকী শিক্ষায়,কী শিল্পে,পার্বত্য জেলা রাঙামাটির সবচে অগ্রসর উপজেলা কাপ্তাই। এশিয়ার বৃহত্তম কাগজ কল,দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ প্রকল্প,প্রমত্তা কর্ণফুলিকে বিভাজনকারি সুবিশাল বাঁধ,জাতীয় উদ্যান আর নানা বর্ণিলতায়,রূপময়তায় পর্বতনন্দিনী কাপ্তাই। ভোটার সংখ্যাও বেশ উল্লেখ করার মতোই। এই উপজেলায় বসবাসকারি জনগোষ্ঠীর মধ্যে বাঙালীদের পরেই সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বসতি মারমা ও তঞ্চঙ্গ্যা জনগোষ্ঠীর। ভোটের রাজনীতিতেও তাই মারমা আর তঞ্চঙ্গ্যা জনগোষ্ঠীর রয়েছে বিশাল ভূমিকা। পাশাপাশি শ্রমিক অধ্যুষিত কাপ্তাইয়ের শ্রমজীবি ভোটাররাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে যেকোন নির্বাচনে। এবারো তার ব্যত্যয় ঘটবে না।
আজ ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত কাপ্তাই উপজেলা নির্বাচন শুরু থেকেই বেশ আলোচিত। মনোনয়ন চেয়েও পাননি দেশের সবচে বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই উপজেলা সভাপতি। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতি অংসুচাইন চৌধুরী বর্তমান চেয়ারম্যানও। মনোনয়ন চেয়েও পাননি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মহিরউদ্দিনও। মনোনয়ন জমা দিয়েও দলীয় চাপে শেষাবাধি দুইজনই মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। কিন্তু ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দলীয় সমর্থন না পেয়েও মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় বহিষ্কৃত হন বিএনপির পুরুষ ও নারী দুই ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী। এদের মধ্যে পরে নারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী পারুল আক্তার নির্বাচন থেকে সরে গেলে তার বহিষ্কারাদেশ তুলে নেয়া হয়। কিন্তু বহিষ্কারাদেশ মাথায় নিয়ে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচন করছেন ছাত্রদল নেতা ইব্রাহীম হাবিব মিলু।

কাপ্তাই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন বিএনপির উপজেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক ও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন। পাঁচ বছর ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা দিলদার সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে জনগণের কাছে নিজেকে আস্থাভাজন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন। ফলে ভোটারদের আবেগ আর অনুভূতির একটি বড় জায়গা জুড়ে অবস্থান করে নিয়েছেন তিনি। একই সাথে উপজেলা বিএনপিকে সংঘবদ্ধ করে সরকারবিরোধী আন্দোলনে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করায় নেতাকর্মীরাও তার পেছনে কাজ করছে যূথবদ্ধভাবে। আবার মারমা ও তঞ্চঙ্গ্যা জনগোষ্ঠীর মধ্যেও রয়েছে তার গ্রহনযোগ্যতা। সবিমিলিয়ে এই নির্বাচনের চেয়ারম্যান হিসেবে অন্যতম ফেভারিট প্রার্থী হলেন দোয়াত কলম মার্কার এই জাতীয়তাবাদী প্রার্থী । দলের বিদ্রোহী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীদের কারণে কিছুটা বেকায়দায় আছেন তিনি।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে দলীয় সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান অংসুচাইন চৌধুরীকে হটিয়ে মাঠে নেমেছেন জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা সভাপতি মফিজুল হক। আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামা এই প্রার্থীর দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারন ভোটারদের মাঝেও বেশ গ্রহণযোগ্যতা আছে। শ্রমিক অধ্যুষিত কাপ্তাইয়ের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ভূমিকা রাখার সুবিধাও পাবেন তিনি। ফলে নির্বাচনের মাঠে তার জয়ের সম্ভাবনাও কম নয়। দীপংকর তালুকদারের আস্থাভাজন নেতা হিসেবে পরিচিত মফিজ দলের নেতাকর্মীদের কাছেও বেশ গ্রহণযোগ্য,কিন্তু মনোনয়ন না পাওয়া বর্তমান চেয়ারম্যান অংসুচাইন চৌধুরী তার পক্ষে কতটুকু আন্তরিকভাবে কাজ করেন,সেটার উপর নির্ভর করছে তার জয়পরাজয়।

তিন প্রার্থীর মধ্যে সাইলাপ্রু মারমা’ই একমাত্র পাহাড়ী প্রার্থী। পার্বত্য চট্টগ্রামের জাতিগত রাজনীতির এই সুবিধাটি পাবেন সাইলাপ্রু। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সমর্থন আর পাহাড়ী ভোটারদের বড় অংশের সমর্থনও থাকবে তার দিকেই। এছাড়া দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান অংসুচাইন চৌধুরীর নীরব ও প্রচ্ছন্ন সমর্থনও তিনি পাচ্ছেন বলে দাবি অংসুচাইনের ঘনিষ্ঠ জনদের। ফলে নির্বাচনে হেলিকপ্টার প্রতীক নিয়ে জয়ের দৌড়ে বেশ জোরালোভাবেই আছেন সাইলাপ্রু।

কাপ্তাই উপজেলা নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন,এবার তিন প্রার্থীর মধ্যে ভোটের লড়াই হবে সেয়ানে সেয়ানে,বিজয়ী হতে পারেন তিনজনের যেকোন জনই। আর নির্বাচনে তুরুপের তাস হিসেবে যেসব ইস্যূ সামনে চলে এসেছে তার মধ্যে রয়েছে অনিল তঞ্চঙ্গ্যার নিখোঁজ হওয়া,অংসুচাইনের একক আধিপত্যের পতন,শিল্পাঞ্চল কাপ্তাইয়ের ক্রমশঃ পিছিয়ে পড়া,কেপিএম ও জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের শ্রমিকদের ভোট,তঞ্চঙ্গ্যা জনগোষ্ঠীর সংঘবদ্ধ ভোট ব্যাংক আর শেষাবধি পাহাড়ের জাতিগত রাজনীতি।

৪০ হাজার ৭০ জন ভোটার আজ এই উপজেলায় নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ১৮ টি কেন্দ্রে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

থানচিতে অবৈধ ইটভাটা ভেঙেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত

বান্দরবানের থানচিতে অনুমোদনহীন গড়ে ওঠা অবৈধ একটি ড্রাম চিমুনীর ইটের ভাটা ভেঙে দিয়েছে ভ্রম্যমাণ আদালত। …

Leave a Reply