নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » কাপ্তাইয়ে ত্রিমুখী লড়াইয়ে দিলদার-সাইলা-মফিজ

কাপ্তাইয়ে ত্রিমুখী লড়াইয়ে দিলদার-সাইলা-মফিজ

kaptai-cover-picআসন্ন কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ত্রিমুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে খুব জোরেসোরে প্রচারনা চালাচ্ছেন। ভোটারদের মন জয় করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রত্যেক প্রার্থী। ২৭ তারিখের নির্বাচনকে ঘিরে পর্যটন উপশহর কাপ্তাইতে চেয়ারম্যান প্রার্থী ছাড়াও পুরুষ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরাও অব্যাহত প্রচারনা চালাচ্ছেন। প্রত্যেকে প্রার্থী নিজের পক্ষে ভোট চেয়ে চষে বেড়াচ্ছেন পুরো উপজেলা।

কাপ্তাই উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৩ জন, ভাইস চেয়ারম্যন পদে ৬ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। ভোটাররা বলছেন তারা দেখে শুনে যোগ্য প্রার্থীকেই ভোট দেবেন।

কাপ্তাইয়ে আনারস প্রতীকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে লড়ছেন মোঃ মফিজুল হক,দোয়াত কলম প্রতীকে বিএনপির প্রার্থী দিলদার হোসেন। স্থানীয় আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল জনসংহতি সমিতির সমর্থন নিয়ে হেলিকপ্টার প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন সাইলা প্রু মারমা। ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হয়ে লড়ছেন মোঃ নাসিরউদ্দিন,বিএনপির প্রার্থী হয়ে লড়ছেন লোকমান আহম্মেদ,বিএনপির বহিস্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থী ছাত্রদল নেতা ইব্রাহীম হাবিব মিলু, স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে লড়ছেন এনামুল হক,চাষী কামাল ও সুব্রত বিকাশ তঞ্চঙ্গ্যা। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন উমেচিং মারমা,বিএনপির প্রার্থী বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নুর নাহার বেগম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভোটার জানান,যদি সুষ্ঠু ভোট হয় তাহলে নির্বাচনে দিলদার ভাই চেয়ারম্যান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন,নির্বাচনে তিনি শুধু বিএনপির ভোট নয় এখানে বসবাসরত সকল জনগোষ্ঠীর ভোটই তিনি পাবেন।
নির্বাচনে প্রচার-প্রচারনায় এগিয়ে আছেন বর্তমান উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন। কাপ্তাই উপজেলা বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এ প্রসঙ্গে দিলদার হোসেন বলেন,আমি গত ৫ বছর ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে জনগণের পাশে থেকে তাদের কল্যাণে ও উন্নয়নে কাজ করেছি। আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে আমি বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করছি। দিলদার হোসেন বলেন,এখানকার বসবাসকারী সকল জনগোষ্ঠীকে সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ সমাজব্যবস্থা বির্নিমানের জন্য আমি কাজ করেছি। বসবাসরত সকল জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে একটা পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা তৈরী করে কাপ্তাই উপজেলা পরিষদকে একটি সুন্দর বাসযোগ্য উপজেলা পরিষদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ের কথাও জানালেন তিনি।

চন্দ্রঘোনার ব্যবসায়ী দীপক বলেন, ১ নং চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মফিজুল হক তিনি ব্যাক্তি হিসেবে ভাল এবং তার বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। তিনি দলীয় সমর্থনের পাশাপাশি সকল সম্প্রদায়ের ভোট পাবেন বলে আশাকরছি।

আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী মফিজুল হক বলেন, উপজেলা নির্বাচন হচ্ছে স্থানীয় নির্বাচন এটা কোন দলীয় মার্কার নির্বাচন নয়। এখানে বেশিরভাগ মানুষ দল-মত নির্বিশেষে জাতি ধর্ম-বর্ণ সকল কিছুর উর্দ্ধে থেকে যারা এলাকার জনগনের সেবা করে এসেছে তাদেরকে ভোট দেয়ার চেষ্টা করে।রাজনৈতিক সমর্থিত ভোটার হচ্ছেন অল্প সংখ্যক ভোটার কিন্তু তার বাইরে বিশাল একটা অংশ হচ্ছেন সাধারন ভোটার এবং আগামী নির্বাচনে এরাই ভুমিকা রাখবে। তিনি বলেন নির্বাচনে জয় এবং পরাজয় দুটোর জন্যই তিনি প্রস্তুত আছেন।
দশমম সংসদ নির্বাচনে রাঙামাটি আসনে সরকার দলীয় প্রার্থীকে হারিয়ে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল সমর্থিত প্রার্থী জয় ছিনিয়ে নেয়। উপজেলা নির্বাচনেও জাতীয় রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর সঙ্গে পাহাড়ের আঞ্চলিক দলের প্রার্থী থাকায় ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্ধিতা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এই প্রসঙ্গে কাপ্তাইয়ের ব্যবসায়ী পিন্টু চৌধুরী জানান,বিএনপি ও আওয়ামীলীগ প্রার্থী দুজনেই বাঙালী কিন্তু পাহাড়ী প্রার্থী হচ্ছেন একজন। সেক্ষেত্রে ঐ দুজনের ভোট কাটাকাটি করে জেএসএস প্রার্থী চাইহ্লা প্রু মারমা জিতে যেতে পারেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমর্থিত প্রার্থী চাইহ্লা প্রু মারমা বলেন,জয়ের ব্যাপারে আমি সুনিশ্চিত।তিনি বলেন,আমি নির্বাচিত হলে এখানকার যে দুর্গম এলাকাগুলো অনুন্নয়ন আছে সেগুলোকে উন্নত করতে চেষ্টা করবো। কাপ্তাইয়ে স্কুল কলেজ বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখার চেষ্টা করবো।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

রাঙামাটিতে করোনায় আরও এক নারীর মৃত্যু

রাঙামাটি শহরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ভোররাতে শহরের চম্পকনগর আইসোলেশন …

One comment

  1. স্বশিক্ষিত দিলদার আগে ভাইস চেয়ারম্যান ছিল তাই দায়িত্বের বোঝা তেমন পড়েনি কিন্তু যদি এখন যদি জিতে যায় তাহলে টিপসই দিয়ে কি উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারবে…????
    আফসোস লাগে কারন, অন্তত হাইস্কুলে দুয়েক ক্লাস করছেন এমন কাউকে যদি বিএনপি প্রার্থি করত।

Leave a Reply

%d bloggers like this: