নীড় পাতা » ব্রেকিং » কাপ্তাইয়ের সীতা মন্দির : প্রাগৈতিহাসিক যুগের অপূর্ব নিদর্শন

কাপ্তাইয়ের সীতা মন্দির : প্রাগৈতিহাসিক যুগের অপূর্ব নিদর্শন

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের শীলছড়ি হাতীর গেইট সংলগ্ন কর্ণফুলী নদী তীরে অবস্থিত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম তীর্থক্ষেত্র সীতার ঘাট মন্দির। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি কাপ্তাই। যেখানে রয়েছে লুসাই পাহাড় থেকে বয়ে আসা শীতল জলের কর্ণফুলী নদী। কর্ণফুলীর দু’প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা সারি সারি পাহাড়। এসব পাহাড়ের মধ্যে একটি পাহাড় রয়েছে যেটি সীতা দেবীর স্মৃতি বিজড়িত ‘সীতার পাহাড়’ নামেই পরিচিত। এর সন্নিকটেই রয়েছে সীতার ঘাট মন্দির। প্রাগৈতিহাসিক যুগের অপূর্ব নির্দশন থাকা সীতা দেবীর মন্দিরে প্রতিদিন ভিড় করছে শত শত পূণ্যার্থী।

সৌন্দর্যের অপার মহিমায় গড়ে উঠা সীতা দেবীর এই মন্দিরটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পূণ্য তীর্থস্থান। যেখানে প্রতিবছর উৎসব, পার্বণে দেশ বিদেশ হতে হাজার হাজার ভক্তদের সমাগম ঘটে। বিশেষ করে মহা বারুণী স্নান উপলক্ষে এই মন্দিরে বিশাল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এবং সেসময় এখানে সবচেয়ে বেশি ভক্তের আগমন ঘটে। পূর্বে সীতা দেবীর মন্দিরটি সাধারণ কাঁচা ঘরে প্রতিষ্ঠিত হলেও বর্তমানে সরকারি সহায়তা ও বিভিন্ন দানবীর ব্যক্তিদের সহায়তায় গড়ে উঠছে নাট মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থাপনা। এসব স্থাপনার মাধ্যমে মন্দিরের সৌন্দর্য আরো বেড়েছে। সীতাদেবীর মন্দির এমন সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠেছে, যেখানে প্রবেশ করলেই মন স্থির হয়ে যায় সেই সাথে ধর্মীয় চিন্তাধারার মাধ্যমে প্রাণ জুড়ে যায় ভক্তদের। মন্দিরের আশেপাশে বিভিন্ন রকমের ফলের বাগানে পূণ্যার্থীরা ঘুরে মনকে শান্ত করতে পারে অনায়াসে।

শীলছড়ি সীতার ঘাট মন্দিরের অধ্যক্ষ জ্যোতির্ময়ানন্দ মহারাজ জানান, ত্রেতাযুগে সীতাদেবী যখন বনবাসে যান তখনই এই পাহাড়ে দেবীর আগমন ঘটে এবং এখানেই সীতাদেবীর ব্যবহৃত শীল পাথরের পাটা, সীতাদেবীর স্নান ঘাট, কুপসহ বিভিন্ন স্মৃতি জড়ানো বস্তু রয়েছে। তিনি আরো বলেন, উক্ত মন্দিরের পাশে দু’টি অক্ষয় শিমুল বৃক্ষ এবং শম্ভুনাথ মন্দিরের পাশে যেই বৃক্ষটি আছে তা দেবীর অনেক স্মৃতি বিজড়িত। শম্ভুনাথ মন্দিরের পাশে যেই বৃক্ষটি আছে সেটি মাটির নিচ থেকে তিনটি বৃক্ষ গজালেও উপরে গিয়ে তিনটি বৃক্ষই একসাথে মিলিত হয়ে একটি বৃক্ষে রূপান্তরিত হয়েছে। এখানে শিমুল বৃক্ষের নিচে কর্ণফুলি নদীর কোল ঘেঁষে থাকা পাথরে দেবীর স্নান ঘাট রয়েছে। তিনি আরো বলেন, ইতিমধ্যে কাপ্তাই সীতার ঘাট মন্দির সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূণ্যতীর্থ স্থানে রূপ নিয়েছে। এখানে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন উৎসব পার্বণে ব্যাপক ভক্তদের সমাগম ঘটে।

মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি রতন দাশ ও সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দাশ জানান, সীতা মন্দির কাপ্তাইয়ে প্রাগৈতিহাসিক নিদর্শনের সাক্ষী বহন করে। স্থানটিকে আরো আকর্ষণীয় ও সংরক্ষণের জন্য সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

নানিয়ারচর সেতু : এক সেতুতেই দুর্গমতা ঘুচছে তিন উপজেলার

কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টির ৬০ বছর পর এক নানিয়ারচর সেতুতেই স্বপ্ন বুনছে রাঙামাটি জেলার দুর্গম তিন …

Leave a Reply