নীড় পাতা » খেলার মাঠ » কাপ্তাইয়ের ওয়াগ্গা স্কুলে হা-ডু-ডু প্রতিযোগিতা

কাপ্তাইয়ের ওয়াগ্গা স্কুলে হা-ডু-ডু প্রতিযোগিতা

KAPTAIকাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা উচ্চবিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার আনন্দঘন পরিবেশে গ্রামীণ ঐতিহ্যময় ও বাংলার জাতীয় খেলা হা-ডু-ডু প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ঐতিহ্যবাহী সংগঠন রূপসী কাপ্তাইয়ের উদ্যোগে আয়োজিত হা-ডু-ডু খেলা স্কুলের বানিজ্য বিভাগ বনাম বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়।

ওয়াগ্গা স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুবিমল তনচংগ্যার সভাপতিত্বে হা-ডু-ডু প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান পান্না। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুরষ্কার প্রাপ্ত সাবেক জাতীয় খেলোয়াড় ও কাপ্তাই ইউনিয়নের মহিলা সদস্য নুর বেগম মিতা এবং রাঙ্গামাটি বেতারের কাপ্তাই সংবাদ প্রতিনিধি ঝুলন দত্ত। কাপ্তাই প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী মোশাররফ হোসেনের উপস্থাপনায় আয়োজিত হা-ডু-ডু খেলা পরিচালনা করেন ওয়াগ্গা স্কুলের ক্রীড়া শিক্ষক কল্যান বিকাশ তনচংগ্যা। সহযোগিতায় ছিলেন কাপ্তাই উচ্চবিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক মাহবুব হাসান বাবু এবং পাহাড়িকা স্কুলের ক্রীড়া শিক্ষক মোঃ নুর নবী। ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ওয়াগ্গা স্কুলের সহকারি প্রধান শিক্ষক বিপ্লব কুমার চৌধুরী, বানিজ্য বিভাগের খেলোয়াড় তুহিন তনচংগ্যা এবং বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগের খেলোয়াড় মনজিত তনচংগ্যা।

তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ খেলায় বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগ ৩৪ পয়েন্ট পেয়ে বিজয়ী হয়। বানিজ্য বিভাগ ৩০ পয়েন্ট পেয়ে রানার আপ হয়। খেলা শুরুর পূর্বে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান পান্না উভয় দলের খেলোয়াড়দের সাথে পরিচিত হন। তিনি বাংলার ঐতিহ্য হা-ডু-ডু খেলার আয়োজন করায় রূপসী কাপ্তাইকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি হা-ডু-ডু প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ায় ওয়াগ্গা স্কুলের শিক্ষক এবং খেলোয়াড়দের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন ক্রিকেটের জোয়ারে আমাদের অনেক ঐতিহ্যময় খেলাধুলা হারিয়ে যাচ্ছে। হা-ডু-ডু ছাড়াও বৈঁচি, এক্কাদোক্কা, গোল্লাছুট, ৫ গুটি, ১৬ গুটি, ডাংগুলি, লাটিম, মার্বেল, দড়িলাফ, দাঁড়িয়াবান্দা, ৭ চাঁড়া, রুমাল চোর, সাঁতার, সি কুতকুত ইত্যাদি আমাদের বাংলার খেলাধুলা। এক সময় খেলাধুলা বলতে আমরা এগুলোকেই বুঝতাম। আজ এসব খেলাধুলার কথা আমরা ভুলেগেছি। তিনি আবার বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঐতিহ্যময় খেলাধুলার প্রচলন ফিরিয়ে আনার জন্য সবাইকে পরামর্শ দেন। বিশেষ করে প্রতিটি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নিয়মিত গ্রাম বাংলার খেলাধুলা করার পরামর্শ দেন।

ইসরাত জাহান পান্না আরো বলেন আমাদের হারিয়ে যাওয়া খেলাধুলা করতে বিশেষ অর্থ খরচ হয়না। কিন্তু অফুরন্ত আনন্দ পাওয়া যায়। আজকের হা-ডু-ডু খেলায় যেমন বিপুল সংখ্যক দর্শক আনন্দ পেয়েছে তেমনি বাংলার প্রতিটি খেলাই হয় উৎসব ও আনন্দ মুখর। পরে প্রধান অতিথি ইসরাত জাহান পান্না বিজয়ী ও বিজিত দলের খেলোয়াড়দের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

৩ উইকেটের জয় পেল হামিদ একাদশ

গোলাম মোস্তফা ফাউন্ডেশন এর সহায়তায় রাঙামাটি শহরের এডিসি হিল মাঠে চলমান ফ্রেন্ডশীপ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট লীগে …

Leave a Reply