নীড় পাতা » বান্দরবান » কাজু বাদামের দাম কম হওয়ায় হতাশ চাষি

কাজু বাদামের দাম কম হওয়ায় হতাশ চাষি

বান্দরবানের থানচিতে কাজু বাদামের দাম কম হওয়ায় চাষিদের মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছে। বিগত কয়েক বছরের মধ্যে কাজু বাদামের ভাল দাম পাওয়াই চাষিদের মধ্যে বেশ মনোযোগী ও উৎসাহ দেখা দেয়। যার ফলে জেলার থানচিতে কাজু বাদাম চাষিদের সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলেছে। হঠাৎ চলতি বছর কাজু বাদামের দাম কমে যাওয়ায় স্থানীয় চাষিদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে।

কাজু বাদাম একটি অর্থকরি ফসল। পাহাড়ের ঢালে এটি ভাল জন্মে। চারা/বীজ থেকে লাগানোর পর তিন বছরের মধ্যেই ফুল ও ফল আসতে শুরু করে। বেলে-দোঁআশ মাটিতে কাজু বাদামের ফলন ভাল হয়। কিন্তু, এ বছর কাজু বাদামের দাম আশানুরূপ কম হওয়াই চাষিদের মনে হতাশা লক্ষ্য করা গেছে। কাজু বাদাম দাম কম হওয়ার কারনে বিক্রি না করে আগামী বছরের ভাল দাম পাওয়ার আশায় চাষীরা বাড়ীতে জমা রেখে দিয়েছে। যেহেতু, বছরের নভেম্বর হতে জানুয়ারী মাস পর্যন্ত কাজু বাদামের ফুল ও ফল আসতে শুরু করে, পরবর্তী এপ্রিল হতে জুন মাস পর্যন্ত পরিপক্ক ফল সংগ্রহ করে বিক্রি করা শুরু হয়।

এদিকে কাজু বাদাম চাষি কমলা বাগান পাড়া দুবেরাং ত্রিপুরা জানান, এ বছর কাজু বাদামের দাম খুব কম হওয়াই যা বিক্রি করতে পেরেছি, লাভ তো দুরের কথা, বাগান পরিচর্যা করার লেবারের বেতনের টাকাও হয়নি।

আরেক চাষি দিংতে পাড়া কারবারী রেইংনিং ম্রো জানান, আমি ৫কানি জায়গায় কাজু বাদাম চাষ করেছি, প্রায় ৫০ মণের মতো বিক্রিও করতে পেরেছি, কিন্তু দাম কম থাকায় লাভ হয়নি।

থানচি বলীবাজারের দোকানদার স্থানীয় ভাবে কাজু বাদাম ক্রেতাদের অন্যতম জগৎ দাস বলেন, যখন যে দাম সেই দামেই আমরা ক্রয় করে থাকি। আমরা চট্টগ্রাম আরতে মালামাল নিয়ে গিয়ে বিক্রি করি, আরতে ক্রয়-বিক্রয় দামের উপর আমাদেরও এখানে স্থানীয় ভাবে ক্রয় করতে হয়।

থানচি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গত বছর ও তার আগের বছর বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কাজু বাদাম রপ্তানি করা হয়েছিল। বাংলাদেশের কাজু বাদাম অনেক পচাঁ ও নষ্ট পাওয়া গিয়েছিল সেই দেশে। তাই ঐসব দেশ থেকে কাজু বাদাম রপ্তানির উপর বিধি নিষেধ থাকায় আমাদের দেশ থেকে কাজু বাদাম এ বছর নেওয়া হয়নি। তাই এ বছর কাজু বাদাম দাম কম হওয়ার মূল কারন। এখন আরো অনেক দেশের সাথে কাজু বাদাম রপ্তানি করার চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। আবারও আগামী বছরের মধ্যেই তা কার্যকর করবে সরকার। সেই জন্য থানচি উপজেলাতেও কাজু বাদাম চাষিদের তালিকাভূত করা হচ্ছে। তালিকাভুক্তদের কাজু বাদামের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করবে। কাজু বাদাম যাতে নষ্ট ও পচাঁ না হয় সেই বিষয়ে আগামীতে চাষিদের দক্ষ করে তোলা হবে। তাই কাজু বাদাম চাষিদের এ বছর হতাশা কাটিয়ে আগামীতে আবারও মনোযোগী হওয়ার আহব্বান জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

গাছকাটা মামলায় কাপ্তাই যুবলীগ সভাপতির ৩ বছরের কারাদণ্ড

বন বিভাগের দায়ের করা মামলায় রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিনকে কারাগারে …

Leave a Reply