নীড় পাতা » ফিচার » অরণ্যসুন্দরী » কাউখালী হতে পারে আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট

কাউখালী হতে পারে আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট

1236262_1386771804887466_308388972_nঅপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি পার্বত্যাঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য বিচিত্র সব স্থান। পাহাড়, নদী, ঝরনা কিংবা সবুজ অরণ্য যেখানে মিশে একাকার প্রকৃতিপ্রেমীদের পদচারণা সেখানেই। রাঙামাটির কাউখালী উপজেলা তেমনি হাতছানি দিয়ে ডাকে অন্তত প্রথমবার আসা যেকোনো আগন্তুককে।

কাউখালী উপজেলা সদরটি মূলত ইছামতি নদীর তীঁরে অবস্থিত। পাহাড়ি ঢলে ভাঙনের মুখে পড়ায় ৮০’র দশকে নদীটির গতিপথ পরিবর্তন করে বাঁধ দিয়ে ইংরেজী ‘ইউ’ আকৃতির লেক সৃৃষ্টি করা হয়। পরে একমাত্র সরকারি এ জলমহালটিতে শুরু হয় মৎস্য চাষ।

তখন থেকেই বেশ কয়েক দফা পরিকল্পনা করা হয়েছিল পর্যটন স্পট গড়ে তোলার ব্যাপারে। কিন্তু তা আলোর মুখ দেখেনি। অথচ বিশাল এ লেক এলাকাটি সরকারি সহায়তা পেলে হতে পারে আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট। হতে পারে বাৎসরিক আয়েরও অন্যতম উৎস। এই মন্তব্য করেছেন স্থানীয়বোদ্ধারা।

রাঙামাটি জেলা সদরের চেয়েও অনেক কম দূরত্বে অবস্থিত কাউখালী। চট্টগ্রাম শহর থেকে পৌঁছতে সময় লাগে মাত্র দেড় ঘন্টা। ভাড়া ৬০ টাকা। এছাড়া হোটেল, রেঁস্তোরা, আবাসিক ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত যানবাহনও রয়েছে। নিরাপত্তাও বেশ ভালো।

পর্যটন শহর রাঙামাটির পূর্ণ স্বাদ পাওয়া সম্ভব এখান থেকে। উপজেলার সাথে লাগোয়া এই ইছামতি লেকের স্বচ্ছ পানি মনে করিয়ে দেয় রাঙামাটির বিশাল জলরাশির কথা। ঝরনার ঢঙে কুলকুল শব্দে বয়ে চলা নদীর পানি আর ছোটবড় অসংখ্য পাথর দেখে অনেকেরই সিলেটের জাফলংয়ের স্বাদ অনুভূত হয়।

বাড়তি পাওনা হিসাবে থাকছে পাইন বাগান ও হ্যালিপ্যাড। এখান থেকে একনজরে পুরো কাউখালীকেই দেখা যায়। লেকের ওপর রয়েছে ঝুলন্ত কাঠের সেতু। পাশেই কচুখালী বৌদ্ধ মঠ। যা মিয়ানমারের মঠের আদলে নির্মিত। অবশ্য পিকনিট স্পট হিসাবে বেশ সমাদরেই ব্যবহৃত হচ্ছে স্থানগুলো।

বিকেল হতেই এসব স্থানে ছুটে যান সব বয়সের নারী-পুরুষ। এর সঙ্গে নতুন মাত্রা যোগ করেছে কাউখালী-চেলাছড়া সড়কের দুইপাশে ছোটবড় অসংখ্য পাহাড়বেষ্টিত প্রকৃতি আর সবুজ পাহাড়ের সাথে সাদা মেঘের লুকোচুরির মনোহরি দৃশ্য।

কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোয়ার বেগম জানান- ব্যাপক সম্ভাবনাময় এই এলাকাটি পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলা হলে এ অঞ্চলের জনসাধারণের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পাবে। বিষয়টি তিনি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনবেন বলে জানিয়েছেন।

কাউখালী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কমল বরণ সাহা নিজের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান- এসব এলাকার পরিবেশ খুবই চমৎকার। যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভালো। বরাদ্দ পাওয়া গেলে এই চমৎকার পর্যটন স্পটটি গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

খুলছে খাগড়াছড়ির পর্যটনকেন্দ্র, সাজেক নিয়ে ধোঁয়াশা

দীর্ঘ ৫ মাস পর খুলে দেয়া হচ্ছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির পর্যটন কেন্দ্রগুলো। আগামী ২৮ আগস্ট …

Leave a Reply