নীড় পাতা » করোনাভাইরাস আপডেট » কাউখালীতে ঘরে ঘরে জ্বর-সর্দি, পরীক্ষায় অনীহা !

১৫ দিনে ৭২ নমুনা পরীক্ষায় ১৮ পজিটিভ

কাউখালীতে ঘরে ঘরে জ্বর-সর্দি, পরীক্ষায় অনীহা !

রাঙামাটির কাউখালী উপজেলায় বেশ কিছুদিন ধরেই বেড়েছে সর্দি-কাশি-জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। ভৌগলিক অবস্থানের কারণে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপজেলা এক তৃতীয়াংশ মানুষ চিকিৎসা নিতে আসে।বাকী দুই ভাগ মানুষ রাঙামাটি জেনারেল হাসাপাতাল ও চট্টগ্রামমুখী।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য বলছে, বর্হিবিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা এসব মানুষের ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ রোগীরই জ্বর, সর্দি-কাশি, গলা ব্যাথার উপসর্গ রয়েছে। রোগেধরণ বুঝে কর্তব্যরত চিকিৎসক করোনা পরীক্ষার কথা বললেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অনিহা রয়েছে সাধারণ মানুষের। গত ১৫ দিনে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে মাত্র ৭২টি। এ হিসেবে দৈনিক পরীক্ষা ৫টিরও কম। ৭২ টি নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ এসেছে ২৫ শতাংশ।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় প্রতিটি ঘরেই কেউ না কেউ সর্দি-কাশি-জ্বরে আক্রান্ত। তাঁদের মধ্যে জ্বর নিয়ে ভীতি থাকলেও করোনা পরীক্ষায় তেমন আগ্রহ নেই। পরীক্ষার অনিহার বিষয়ে জানার চেষ্টা করেছিলেন এই প্রতিবেদক। কারণ হিসেবে উঠে এসেছে, পরীক্ষায় পজেটিভ আসলে পুরো পরিবারকে ঘর বন্দি করা, বাজারে ঘাটে অবাধ বিচরণ করতে না পারাসহ বিভিন্ন অযুহাত।

সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, জ্বরের রোগীসহ পরিবারের সদস্যরা গ্রামের বিভিন্ন এলাকা ও বাজার এলাকাতে ঘোরাঘুরি করছে। যে কারণে উপজেলার গ্রামগুলোও করোনা ঝুঁকিতে রয়েছে। করোনা পরীক্ষায় সাধারণ মানুষের অনিহা কাউখালীর জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে।

কাউখালী ব্লাড ব্যাংক এর সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, প্রত্যেক ঘরে ঘরে স্বর্দি-কাশি-জ্বর। তারা অনেকে ভয়ে হাসপাতালে যাচ্ছে না। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দৃষ্টি আর্কষণ করে তিনি বলেন, পাড়াকর্মীদের দিয়ে পরিবারগুলোর খোঁজ নিন। নয়তো ভয়াবহ পরিস্থিতি হতে সময় নিবে না। উপসর্গ থাকা ব্যক্তিদের পরীক্ষার আওতায় আনুন। আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে রেখে অন্যদের স্বাভাবিক জীবন যাপনের ব্যবস্থা করে দিন।

উপজেলার একাধিক ফার্মেসীর ওষুধ বিক্রেতার সঙ্গে কথা জানা গেছে, গত কয়েক দিনে সর্দি, জ্বর, কাশি, গলা ব্যথার ওষুধ বিক্রি হয়েছে স্বাভাবিকের চাইতে কয়েকগুন বেশি। এসব রোগের ওষুধ সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

গত রোববার সকালে কথা হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার ডা. শিবলি মো. শফিউল্লাহ সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ‘বেশ কিছুদিন ধরে যে পরিমাণ রোগী দেখেছি তার মধ্যে ৮০% মানুষ সর্দি কাশি জ্বরে আক্রান্ত। তাদেরকে উপসর্গ বুঝে করোনা টেষ্ট করতে বললে তাদের মধ্যে অনিহা দেখা গেছে। এভাবে চলতে থাকলে ভয়াবহ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুইমেপ্রু রোয়াজা জানান, ‘আমরা চেষ্টা করছি, উপসর্গ থাকা ব্যক্তিদের পরীক্ষা করাতে। অনেকে করাতে না চাইলে আমরাতো আর জোর করে করাতে পরিনা। উপজেলায় এখন পর্যন্ত করোনা পরীক্ষা করেছে ৫৬৭ জন, পজিটিভ হয়েছেন ৯২জন, সুস্থ হয়েছে ৭০ জন, করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২জন ও উপসর্গ নিয়ে ১জন মারা গেছে। জ্বরসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিন বহির্বিভাগে অর্ধশাতধিক রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন।’

কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, ‘সরকার এখন করোনা পরীক্ষা ফ্রী করে দিয়েছে যাতে উপসর্গ দেখা দিলেই পরীক্ষা করা হয়। তাই যাদের উপসর্গ আছে তারা অবশ্যই পরীক্ষা করুন। আমরা গত কয়েকদিনে দেখেছি, উপজেলাতে অনেক মানুষ ঘরে খাবার নেই; এমন অজুহাতে লকডাউনে ঘর থেকে বের হচ্ছেন। এটা কোনভাবে কাম্য নয়। যারা ঘরে ভাত নেই তাই বের হতে হয়েছে এমন অজুহাতে বের হন; তাদের অনুরোধ করছি নিজে ও পরিবারকে বাঁচানোর জন্য হলেও ঘরে থাকুন। খাদ্য সংকট থাকলে সহযোগিতার জন্য ৩৩৩ নম্বরে অথবা উপজেলা প্রশাসনকে জানান। আপনার ঘরে আমরা অবশ্যই খাদ্য পৌঁছে দিব। আপনারা ঘরে থাকুন। আপনার প্রয়োজনে আমরা বাহিরে আছি।’

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

Leave a Reply