নীড় পাতা » করোনাভাইরাস আপডেট » কাঁচামাল সংকটে কেপিএমে উৎপাদন বন্ধ

কাঁচামাল সংকটে কেপিএমে উৎপাদন বন্ধ

কাঁচামাল সংকটসহ সরকারি অর্ডার না থাকায় গত এক সপ্তাহ ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনায় অবস্থিত কর্ণফুলী পেপার মিলস লিমিটেড ( কেপিএম)। এদিকে মিল বন্ধ থাকায় আবাসিক এলাকায় বিদ্যুৎ ও পানি সংকট চরমে পৌঁছেছে।

গত ২৩ মে কেপিএমের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. মাজহারুল ইসলাম সাক্ষরিত এক দপ্তর আদেশের মাধ্যমে জানানো হয়, পরবর্তী নিদের্শ না দেওয়া পর্যন্ত গত ২৪ মে থেকে মিলে কর্মরত কোম্পানি মাষ্টার রোল, অস্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারী ও পে-অফ শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তাদের সকল কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। চাকরি না থাকার ফলে দৈনিক মজুরি ভিত্তিক এসমস্ত শ্রমিকরা বর্তমানে মানবেতর দিনযাপন করছে বলে কয়েকজন অস্থায়ী শ্রমিক জানান।

এদিকে, কেপিএম আবাসিক এলাকায় বসবাসরত স্থায়ী শ্রমিক কর্মচারীরা অভিযোগ করেন, মিলে উৎপাদন বন্ধ বা চালু রাখার বিষয়টি সম্পূর্ণ কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার। কিন্ত মিলের উৎপাদন বন্ধের অজুহাতে কর্তৃপক্ষ আবাসিক এলাকায় বসবাসরত শ্রমিক-কর্মচারীদের বিদ্যৎ সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। তাদের আরও অভিযোগ, সারাদিন বন্ধ রাখার পর রাতে কয়েকঘন্টা বিদ্যুৎ দিলেও গত দুইদন ধরে রাতে এবং দিনে কোনো বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়নি। এছাড়া সারাদিনে একবার পানি সরবরাহ করা হলেও সরাসরি নদীর ঘোলা পানি দেওয়া হচ্ছে। ময়লা-কাদাযুক্ত বিশুদ্ধ না করে সাপ্লাই দেওয়া পানি ব্যবহারের অযোগ্য। ফলে করোনাভাইরাস মোকাবিলা করতে তারা নোংরা এসব পানি ব্যবহার করতে পারছে না। যারা বাধ্য হয়ে এসব পানি ব্যবহার করছে তারা অন্য জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা জানায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেপিএম শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের ( সিবিএ) সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক ও সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বাচ্চু জানান, কাঁচামাল সংকট এবং কাগজ বিক্রয় সংকটের ফলে কেপিএমের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কেপিএম আবাসিক এলাকায় এখন তীব্র বিশুদ্ধ পানীয় জল এবং বিদ্যুৎ সংকটে রয়েছে।

শনিবার কেপিএমের ব্যবস্থাপক (উৎপাদন) গোলাম সরোয়ার জানান, বর্তমানে কিছু কাঁচামাল সংকট আছে। তাছাড়া কেপিএম হতে কাগজ সরবরাহকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল কারিকুলাম ফর টেক্সট বোর্ড( এনসিটিবি) কাগজ না কেনায় গত ২৪ মে থেকে কেপিএমে উৎপাদন হচ্ছে না। কেপিএম হতে এনসিটিবি ১ হাজার মেট্রিকটন কাগজ কেনার কথা ছিল। প্রতিষ্ঠানটি কাগজ কিনলে এ সংকট থাকবে না বলে তিনি জানান।

কেপিএম সূত্রে জানা গেছে, এই মিলটি বর্তমানে আমদানিকৃত পাল্প রিসাইকেল পেপার হতে কাগজ উৎপাদন করে আসছে। চলতি অর্থবছরের ৯ মে পর্যন্ত বিসিআইসির এই প্রতিষ্ঠানটি সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৭৮৫ টন কাগজ উৎপাদন করেছে। তবে সরকারি কাগজ সরবরাহ প্রতিষ্ঠান এনসিটিবি যদি কেপিএম হতে কাগজ কিনে নেয় তাহলে এই সংকট আর থাকবে বলে তারা জানান।

বিসিআইসির এই প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৩০ হাজার টন হলেও বর্তমানে বার্ষিক ৫ থেকে ৬ হাজার টন কাগজ উৎপাদনের ফলে এটি একটি লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে বলে শ্রমিকরা জানান।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

লংগদুতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে রাঙামাটির লংগদুতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। …

Leave a Reply