নীড় পাতা » ব্রেকিং » কষ্টে দিন কাটছে স্বল্প আয়ের মানুষের

রাঙামাটির প্রভাবে

কষ্টে দিন কাটছে স্বল্প আয়ের মানুষের

দিন যত এগোচ্ছে, অভাব-অনটনও তত বাড়ছে। সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস ও সহযোগিতা পৌঁছানো হলেও সব আয়ের মানুষের কাছে সে সহযোগিতা পৌঁছায় না। যদিও বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, লোক-লজ্জার ভয়ে কেউ যদি সহযোগিতা চাইতে না পারেন তবে ফোনে কিংবা ফেসবুকে জানালে বাসায় গিয়ে সহযোগিতা পৌঁছে দেয়া হবে।

করোনা সংক্রমণের কারণে সরকারের অঘোষিত লকডাউনের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন (স্বল্প) আয়ের মানুষ। যারা দিনে এনে দিনে খায় কিংবা স্বল্প বেতনের লোকজন। সরকারের পক্ষ থেকে চাল-ডাল তেল এসব সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে ঠিক কিন্তু এর বাইরেও তো আরও অনেক নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা মানুষের থাকে। ফলে দিন যত এগোচ্ছে এসব খেটে খাওয়া কম আয়ের মানুষের সমস্যাও প্রকট হচ্ছে।

রাঙামাটি শহরের রিজার্ভবাজার এলাকার ক্ষুদে ব্যবসায়ী মো. ফারুক। জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাজারসমূহ যেমন বরকলের সুবলং, লংগদুর কাট্টলী বাজারে গিয়ে বিভিন্ন পণ্য বেচাবিক্রি করতেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাপ্তাহিক হাট বাজার বন্ধ করে দেয়ার কারণে সে বেকার হয়ে পড়েছেন তিনি।

ব্যবসায়ী ফারুক জানিয়েছেন, প্রতি বাজারে পণ্য বেচাকেনা করে হাজার দুয়েক টাকা আয় হতো। কিন্তু বিগত কয়েক সপ্তাহ যাবৎ তা বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে রীতিমত বেকায়দায় পড়েছি। সামান্য যে মূলধন দিয়ে ব্যবসা করি; এখন মূলধন থেকেই খরচ করতে হচ্ছে। বাড়ি ভাড়া, বাচ্চাদের খরচ সব মূলধন থেকেই খরচ করছি।

ছোট একটা চাকরি আর শিক্ষার্থী পড়িয়ে সংসার চালান মো. জামাল। জানান তার কষ্টের কথাও। বলেন, এই মাসে বেকার বসে আছি। বেতনও পাব বলে মনে হচ্ছে না। যেহেতু টিউশনি বন্ধ। হাতের সব টাকাও ফুরিয়ে আসছে। আত্মীয় স্বজন কিংবা বন্ধু-বান্ধব যাদের কাছে ঋণ নিব; তাদের অবস্থাওতো এখন নাজুক। কি করবো বুঝে উঠতে পারছিনা।

রাঙামাটি শহরের আসামবস্তি এলাকার জালাল। এলাকায় এলাকায় ফেরি করে বিভিন্ন কসমেটিসক বিক্রি করে পরিবার চালাত। বিশদিন ধরে ঘরেই বসে আছে। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে কষ্টেই জীবন যাপন করতে হচ্ছে তাকে।

একই অবস্থা জেলা শহরের ভেদভেদি এলাকার কাউছারের। তিনি রাঙামাটিতে ২০১৭ সালে ভয়াবহ পাহাড়ধসে মা-বাবা হারানো মীম-সুমাইয়ার চাচা। আসবাবপত্রের কারিগর হিসেবে কাজ করে যে আয় হয় তা দিয়েই বৃদ্ধ মা, ছোট বোন ও এতিম মীম-সুমাইয়াকে নিয়ে কোনমতে সংসার চলে। প্রায় এক মাস হতে চলল। কাজ কর্ম বন্ধ। তাই আয় রোজগারও নেই। সরকারি সহায়তায় চাল-ডাল পেয়েছে বটে কিন্তু সংসারের অন্যান্য খরচ চালাতে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে।

রূপনগর এলাকার হাশেম পেশায় বাসের হেলপার। স্ত্রী ও চার সন্তান নিয়ে একজনের আয় দিয়েই কোনমতে সংসার চলে। বিশ দিন ধরে তিনিও ঘরবন্দি। সামান্য সহায়তা পেয়েছে বটে কিন্তু ছোট বাচ্চার খাবার কেনার ও বাড়ি ভাড়া দেয়ার মত সামর্থ নেই তার।

এমনভাবেই দিনকাটছে বোট ব্যবসায়ী দিদার, কার চালক ইউনুস এবং ধোপা পিন্টু দাশেরও। স্বল্প আয়ের এসব মানুষরা এখন সঞ্চয়ে যা ছিলো সবই খরচ করে ফেলছেন। সামনের দিনগুলো কিভাবে কাটাবে তাদের, বাড়ি ভাড়া কিভাবে দিব। এসব দুর্চিন্তায় ভাঁজ পড়েছে কপালে।

কাপড়, লাইব্রেবী, কসমেটিকস্, মোবাইল দোকান, আবাসিক হোটেল ও রেস্টুরেন্টে চাকরি করে জীবিকা নির্বাহ করা ইউসুফ, জাহেদ, তপন, রাসেল, সঞ্জয়, আবু আলম জানায়, এক মাস হতে চলল বেকার বসে আছি। দেশের এই পরিস্থিতি হবে কে জানত। কবে যে আবার সব স্বাভাবিক হবে তারও নিশ্চয়তা নেই। অল্প বেতনের চাকরি করি মাস শেষে বাড়ি ভাড়া, সংসারের ভরণ-পোষন শেষে হাতে কিছুই থাকেনা। এই মাসেতো কোন বেতনও পাব না। কিভাবে চলব বুঝতেই পারছিনা। বাড়ি ভাড়াও বা কোত্থেকে দিব।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

খুলছে না রাঙামাটির পর্যটনকেন্দ্র, স্বাস্থ্যবিধি মেনে খুলছে হোটেল-মোটেল

কভিড-১৯ এর কারণে সারাদেশের মত রাঙামাটির পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে সরকারের ঘোষিত …

Leave a Reply