নীড় পাতা » করোনাভাইরাস আপডেট » করোনা সংকটেও পাহাড়ে থেমে নেই খুনোখুনি

করোনা সংকটেও পাহাড়ে থেমে নেই খুনোখুনি

কভিড-১৯ এর কারণে যখন থমকে গেছে পুরো পৃথিবী, বিশ্বের তাবদ সন্ত্রাসীবাহিনীগুলোও যখন দৃশ্যত ‘অস্ত্রবিরতি’তে, সেই সময়ও থেমে নেই পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক দলগুলো। গত ২৫ মার্চ থেকেই সরকার আনুষ্ঠানিক বন্ধ নামে মূলতঃ যে লকডাউন শুরু করেছে তার মধ্যেই পার্বত্য দুই জেলা রাঙামাটিতে আঞ্চলিক দলগুলোর বিরোধে খুন হয়েছে পাঁচজন।

২৫ মার্চ রাতে রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএনলারমা) সহযোগি সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব সমিতি’র সাবেক নেতা ভূষন চাকমা দুদোরবুকে (৪০) গুলি করে হত্যা করা হয়। উপজেলার রূপকারী ইউনিয়নে নিজ বাসায় একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত গুলি করে হত্যা করে। এইসময় তার স্ত্রীও আহত হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএনলারমা) অন্যতম শীর্ষ নেতা ও বাঘাইছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান সুদর্শন চাকমা জানিয়েছিলেন, নিহত ভূষন আমাদের সমর্থক এবং তাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতি নির্মমভাবে হত্যা করেছে। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেছেন।

এই হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ পরেই ২ এপ্রিল রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় উসুই প্রু মারমা আচোস (৩০) এক যুবলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। একই উপজেলার চিৎমরম ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সহসভাপতি ছিলেন তিনি।

কাপ্তাই উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ানম্যান নাসিরউদ্দিন এই হত্যাকাণ্ডের জন্য পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্রধারি আঞ্চলিক দলগুলোর সন্ত্রাসীদের দায়ি করে ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এরপর ১১ এপ্রিল রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলার বনযোগীছড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য হেমন্ত চাকমাকে গুলি করে হত্যা করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনায় নিহতের স্বজন ও পুলিশ আঞ্চলিক দলগুলোর বিরোধকেই দায়ি করেছে।

রাঙামাটির এই তিন হত্যাকাণ্ডের পর সোমবার ২৮ এপ্রিল খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় দুই ইউপিডিএফ কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এরা হলেন, মধ্যবানছড়া এলাকার বীরেন্দ্র মোহন চাকমার ছেলে সুদীব্য চাকমা (৩৫) এবং নন্দেশ্বর কার্বারী পাড়ার সুশীল চাকমার ছেলে এঞ্জেল চাকমা ওরফে বাবু (৩৭)। ইউপিডিএফ মুখপাত্র অংগ্য মারমা এই হত্যাকাণ্ডের জন্য জনসংহতি সমিতিকে (এমএনলারমা) দায়ি করেছেন।

ক্ষুদ্ধ প্রশাসন

সারাদেশ তথা সারাবিশ্ব যখন করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় ব্যস্ত সেই সময় একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষুদ্ধ স্থানীয় প্রশাসনও। গত ২৫ এপ্রিল রাঙামাটিতে সরকারি ত্রাণ সমন্বয়ে সচিবদের নেতৃত্বে গঠিত সমন্বয় কমিটির প্রথম সভায় সচিব পবন চৌধুরীকে সরাসরিই উত্থাপন করেছেন রাঙামাটির পুলিশ সুপার আলমগীর কবির। তিনি বলেছেন, ‘ সারাবিশ্বে যখন মানবজাতি হুমকির মুখে, তখন আমাদের পাহাড়ে আঞ্চলিক দলগুলো তাদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য খুনের মত জঘণ্য অপরাধ করেই চলেছে, এটা দুঃখজনক। এ ব্যাপারে আমরা সতর্ক আছি। আঞ্চলিক দলের দ্বন্দ্ব ছাড়া জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বেশ ভাল আছে।’

এ প্রসঙ্গে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য চিংকিউ রোয়াজা বিষয়টি ‘খুবই দু:খজনক ও বেদনাদায়ক’ মন্তব্য করে বলেন, ‘সারাবিশ্বের মানুষ যখন জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে বসে অনিশ্চিত জীবনযাপন করছে, লড়াই করছে কিভাবে এই ভয়ংকর ভাইরাসকে মোকাবেলা করবে। সেই সময় এইসব নির্মম, নৃশংস হত্যাকা- খুবই হতাশাজনক।’

প্রসঙ্গত, পার্বত্য চট্টগ্রামে বর্তমানে চারটি আঞ্চলিক সংগঠন সক্রিয় আছে। এরা হলো সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি, প্রসিত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ), তাতিন্দ্র লাল চাকমা পেলের নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএনলারমা) এবং জালোয়া চাকমার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (গণতান্ত্রিক)। এই চারটি সংগঠনই পাহাড়িদের অধিকার আদায়ে মাঠে গলতান্ত্রিক আন্দোলন করে থাকে আবার তাদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব সশস্ত্র শাখা আছে বলে পারস্পরিক অভিযোগ আছে। অভিযোগ আছে, আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীরও। এই চার সংগঠনের আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৯৯৭ সালে পার্বত্য শান্তিচুক্তি সাক্ষরের পর কয়েকশ নেতাকর্মী সমর্থক প্রাণ হারিয়েছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কাপ্তাইয়েও করোনার হানা, প্রথম দিনেই শনাক্ত ২

এত দিন ‘করোনামুক্ত’ থাকা রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় হানা দিলো করোনা। রোববার রাতে আসা রিপোর্টে রাঙামাটির …

Leave a Reply