নীড় পাতা » ব্রেকিং » করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে রাঙামাটিতে প্রস্ততি

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে রাঙামাটিতে প্রস্ততি

রাঙামাটিতে নভেল করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে যাবতীয় প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডা. বিপাশ খীসা। রোববার সকালে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় তিনি এই তথ্য জানান।

ডা. বিপাশ খীসা জানান, রাঙামাটিতে এখনো পর্যন্ত কোন করোনা আক্রান্ত রোগী সনাক্ত না হলেও, ইতিমধ্যে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে কমিটি করা হয়েছে। সে কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে করোনা ভাইরাস যাতে না ছড়ায় সে জন্য জনসাধারণের করণীয় বিষয়ক লিফলেট প্রচার করা হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষর্থীদের করণীয় সম্পর্কে ধারণা দিবেন শিক্ষকরা। রাঙামাটিতে ৫শয্যা বিশিষ্ট একটি ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে করে কেউ এই ভাইরাসে অসুস্থ হলে চিকিৎসা দেয়া যায়।

এছাড়াও এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে আমরা যাতে অন্তত ১০০জন রোগীকে চিকিৎসা দিতে পারি সেজন্য কাপ্তাইয়ে দুইটি হাসপাতালও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়লে রোগীদের সেবা দিতে রোগীর পোষাক, মাস্ক, গ্লাভস, অক্সিজেনসহ যাবতীয় সরঞ্জাম ও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

তারই সাথে সাথে রাঙাামাটিবাসীর কাছে আহবান জানিয়েছেন, জ্বর, গলাব্যথার মতো করোনা ভাইরাসের উপসর্গগুলো কারো দেখা দিলে তাকে অবশ্যই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার জন্য। আর এমন কোন অসুস্থ ব্যক্তির খবর পেলে তা অবশ্যই হটলাইন নাম্বারে জানানোর জন্য। যাতে জরুরি রেসকিউ টিম তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসতে পারে। যারা দেশের বাইরে থেকে দেশে ফিরছেন তাদের সাবধানে দেশের মধ্যে চলাফেরা করতে এবং অন্তত ১৪দিন আলাদা ঘরে থাকতে ও মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।

এছাড়াও তিনি জানান, বর্তমানে রাঙামাটিতে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে ডাক্তারদের হাসপাতালে উপস্থিতি নেয়া হচ্ছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে ৮৫-৯০ভাগ ডাক্তার নিয়মিত হাসপাতালগুলোতে উপস্থিত থাকছেন।

রাঙামাটির প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক সুনীল কান্তি দে জানান, চীনের যে প্রদেশে করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি হয়েছিল সে স্থান থেকে রাঙামাটির একটি সন্তান মাস খানেক আগে দেশে ছিড়েছে, তার বাসা শহরের বনরুপায়। তাকে কোনভাবে পরীক্ষা করা যায় কিনা তার মধ্যে করোনা ভাইরাস আছে কিনা তা।

তার উত্তরে সিভিল সার্জন বলেন, করোনা ভাইরাস কারো শরীরে প্রবেশ করতে ১৪দিনের মধ্যে সে আক্রান্ত হয়। সে যেহেতু মাস খানেক আগে দেশে ফিরেছে এবং এখনো করোনা আক্রান্ত হয়নি, সেহেতু তার মধ্যে করোনা ভাইরাস নেই। তারপরও সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।

আইন-শৃঙ্খলা সভার সভাপতি জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও)দের নির্দেশনা দেন প্রতিটি উপজেলায় যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে তাহলে, রোগীদের যাতে সেবা দেয়া যায় এমন একটি করে ভবন প্রস্তুত করে রাখার জন্য। এছাড়া করনো ভাইরাস সম্পর্কে উপজেলাবাসীদের সচেতন করে তোলার জন্যও নিদের্শনা দেন।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটির পুলিশ সুপার মো. আলমগীর কবীর, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়, পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরীসহ উপজেলা চেয়ারম্যান ও নির্বাহী অফিসারগণসহ বিভিন্ন বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

নানিয়ারচর সেতু : এক সেতুতেই দুর্গমতা ঘুচছে তিন উপজেলার

কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টির ৬০ বছর পর এক নানিয়ারচর সেতুতেই স্বপ্ন বুনছে রাঙামাটি জেলার দুর্গম তিন …

Leave a Reply