নীড় পাতা » করোনাভাইরাস আপডেট » করোনা কেড়ে নিল দূরন্ত শৈশব

করোনা কেড়ে নিল দূরন্ত শৈশব

দূরন্ত শৈশবের আনন্দময় দিনগুলোর বদলে ‘অন্ধকারময় করোনা’র ছায়াতলে সময় পার করছে শিশুরা। এ যেন ‘শিশুদের রূপকথার ডাইনি রাক্ষসীর মতো ভয়ংকর রূপ’ দেখাচ্ছে করোনা। যে সময়ে শিশুদের স্কুলে যাওয়ার কথা, খেলাধুলা করার কথা; কিন্তু সেই সময়টাতেই করোনা থাবায় দূরন্ত শিশুরাও আজ ঘরবন্দি।

করোনার প্রভাবে কার্যত লকডাউনের ফলে শিশু-কিশোররা ঘরের বাহিরে গিয়ে খেলাধুলা করতে পারছে না। অনেক অভিভাবক দিনব্যাপী পড়ালেখা নিয়ে ব্যস্ত রাখছে শিশু-কিশোরদের। আবার কেউবা ব্যস্ত থাকছে মোবাইল, টেলিভিশন, কম্পিউটারের স্কিনে। বিভিন্ন রকমের ইন্টারনেট গেমসে আসক্ত হওয়া ও পরিবারের চাপের ফলে শিশুদের ওপর মানসিক চাপ বাড়ছে। এতে শিশুর মানসিক বিকাশ স্বাভাবিক থেকে ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন শিশু সংগঠকরা।

এক্ষেত্রে গ্রামাঞ্চলের শিশুদের থেকেও শহুরে শিশুদের ওপর লকডাউনের ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে আরও বেশি। গ্রামাঞ্চলের শিশুরা অনেকেই এই সময়টাতে ফাঁকে ফাঁকে ঘুড়ি উড়ায়, খেলাধুলা করে, এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করতে পারে। কিন্তু শহুরে এলাকায় বসবাসরত শিশুদের জীবন যেন চার দেয়ালের কারাগারে বন্দি।

বান্দরবানের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণি পড়ুয়া সাতবছরের শিশু আলিফ আমতা-আমতা করে জানাল, ‘আমার বাসায় পড়তে ভালো লাগে না। আমার শুধু স্কুলে গিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে ভালো লাগে। আবার কখন স্কুলে যাবো।’ এই বলে সে বিষন্ন হয়ে যায়।

ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র শাকিল জানায়, আমি আগে বন্ধুদের সাথে স্কুলে যেতাম। প্রতিদিন মাঠে ক্রিকেট খেলতাম। এখন বাসায় বসে কিছু ভালো লাগে না। মা-বাবা সারাদিন পড়ালেখা করতে বলে।

আপনিই বলুন সারাদিন কি পড়ালেখা করা যায়? উল্টো প্রশ্ন ছুঁড়ে শাকিল।

রাঙামাটির রিজার্ভবাজার এলাকার তিন বছরের ছোট্ট শিশু তনয় দেবনাথ। প্রতিদিন সকালে ঘরের বাহিরে আলো দেখলেই বের হয়ে যেতে চায়। ঘরের মধ্যে বন্দি থেকে সারাদিনই ঘ্যানঘ্যান করতে থাকে। তনয়ের মা জানান, বাচ্চটা গত এক মাস ধরে এমন করছে। আমাদেরকে সারাদিন ঘর থেকে বের হওয়ার জন্য জ্বালাচ্ছে। কিন্তু কি আর করার। বাধ্য হয়ে একমাত্র ছেলেকে সারাদিনই ঘরেই রাখতে হচ্ছে।

শুধু রিজার্ভবাজারের তনয়ই নয়; এরকম ঘরবন্দি ‘জেলখানায়’ সময় কাটছে পাহাড়ের শহুরে এলাকার প্রতিটি ছোট্ট শিশুরই। অনেকেই মাঝে মাঝে শিশুদের নিয়ে ছাদে ঘুরে বেড়ালেও কয়জনেরই আছে দালানকোঠা?

অবশ্য শিশু সংগঠকরা বলছেন, এই সময়টাতে অভিভাবকদের উচিত শিশুদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করা। সারাদিন পড়ালেখায় ব্যস্ত না রেখে শিশুদের ঘরোয়া বিনোদনের পরিবেশে রাখা। অভিভাবকরা একটু সচেতন হলে লকডাউনে শিশুরা তাদের ঘরবন্দি ভাবতে পারবে না।

শিশু-কিশোর সংগঠন খেলাঘর আসর রাঙামাটি জেলার সাধারণ সম্পাদক সৈকত রঞ্জন চৌধুরী বলেন, করোনার প্রভাবে এই সময়ে শিশু-কিশোরদের জগৎ এখন আরও অনেকটা ছোট হয়ে এসেছে। আগে যেখানে শিশুরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়তে যেত এখন সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ রয়েছে। তারা না পারছে ঘরের বাহিরে গিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে মিশতে, না পারছে খেলাধুলা করতে। ফলে দূরন্ত শিশুদের মনোজগৎ আগে থেকে অনেক ছোট হয়েছে।

পরিবারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে এই শিশু সংগঠক বলেন, এই সময়টাতে পরিবারকেই সর্বোচ্চ চেষ্টা করে এই প্রতিবন্ধকতাকে দূর করতে হবে। মোট কথা শিশু-কিশোরদের এই সময়টাতে কোনো ধরণের শাসন করা যাবে না। তারা ঘরের ভেতরে যেভাবে থাকতে স্বাছন্দবোধ করে ঠিক সেখাবেই তাদের সুযোগ করে দিতে হবে। কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের মাঝে কোনো ধরণের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে সেটা ভবিষ্যতে শিশুরা কাটিয়ে উঠতে অনেক সময় অতিক্রান্ত করতে হবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

লামায় ৪০০ মানুষ পেল ঈদ উপহার

বান্দরবানের লামা উপজেলায় প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রভাবে কর্মহীন ও দুস্থ ৪০০ মানুষ পেলেন ঈদ উপহার। পার্বত্য …

Leave a Reply