নীড় পাতা » ফিচার » কাজের খবর » করোনাভাইরাস কতোটা মারাত্মক ?

করোনাভাইরাস কতোটা মারাত্মক ?

করোনাভাইরাসে বিশ্বের শতাধিক দেশে লক্ষাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। এ যাবত মারা গেছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার। আক্রান্ত ও মৃতের প্রায় ৮০ শতাংশই চীনে। তবে এ রোগে মৃত্যুহার একেক দেশে একেক রকম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যতো বেশি মানুষকে পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা যাবে এবং আক্রান্ত শনাক্ত করা সম্ভব হবে মৃত্যু হার ততো কমে আসবে। অর্থাৎ সাধারণ গণিতের হিসাবে আক্রান্তের তুলনায় মৃত্যুর হার অনেক কম দেখা যাবে।

যে কটি দেশে এখন পর্যন্ত অধিক সংখ্যক আক্রান্ত শনাক্ত করা হয়েছে সেসব দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রেই এখন পর্যন্ত মৃত্যুর হার সর্বাধিক। এই হারের হিসাবটি করা হয় মূলত মৃত্যুর সংখ্যাকে মোট আক্রান্ত দিয়ে ভাগ করে ভাগফলকে ১০০ দিয়ে গুণ। সে হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুর হার ৬ শতাংশ। প্রায় ২৫০ আক্রান্তের মধ্যে ১৪ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

চীনের বাইরে সর্বাধিক আক্রান্ত দক্ষিণ কোরিয়া। সেখানে মৃত্যুহার শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। সে দেশে ৬ হাজার ৫৯৩ জন আক্রান্তের মধ্যে মারা গেছে ৪২ জন।

একেক দেশে মৃত্যুহার একেক রকম হচ্ছে কারণ, কোন দেশে কীভাবে ভাইরাস শনাক্ত করা হচ্ছে সেটি গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনে শত শত থেকে হাজার হাজার মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। ফলে ওইসব দেশে মৃত্যুর হার কম। অপরপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ২ হাজার মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে।

এখন করোনাভাইরাস কিন্তু দিন দিন আরো ছড়িয়ে পড়ছে। নতুন নতুন দেশে আক্রান্ত শনাক্ত হচ্ছে। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিদিন পরিবর্তন হচ্ছে। এমনকি কোনো দেশেই মৃত্যুর হার স্থির নয়।

এ পরিস্থিতিতে অনেক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলছেন, বেশি মানুষ স্বাস্থ্যপরীক্ষার আওতায় এলে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। দক্ষিণ কোরিয়া কর্তৃপক্ষ প্রায় দেড় লাখ মানুষকে পরীক্ষার আওতায় এনেছে। তাদের তথ্য-উপাত্তই বিশেষজ্ঞদের এমন পূর্বাভাস দেয়ার আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে।

এখন ব্যাপকভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম চালালে মৃত্যুর হার কমে আসার ব্যাখ্যা কী হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রায় ৮০ শতাংশ রোগীর লক্ষণই মৃদু। তাছাড়া যাদের শরীরে গুরুতর লক্ষণ দেখা দিয়েছে তারা সাধারণত হাসপাতালের শরণাপন্ন হয়েছেন ফলে নির্ভুলভাবে তারা হিসাবে এসেছেন। কিন্তু যাদের শরীরে মৃদু লক্ষণ দেখা দিয়েছে বা দিচ্ছে তাদের হিসাবের বাইরে থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

এ ব্যাপারে ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের এপিডেমিওলজির অধ্যাপক লরেন অ্যানসেল মেয়ারস বলেন, আমরা যদি নিশ্চিত হই যে প্রচুর আক্রান্ত ব্যক্তি হিসাবের বাইরে রয়ে যাচ্ছেন, এর প্রধান একটি কারণ হতে পারে তার শরীরে কিছুটা ভিন্ন বা খুবই মৃদু অথবা সাধারণ লক্ষণ দেখা দিয়েছে ফলে তিনি হাসপাতালে যাননি, তাহলে মৃত্যুহার নিয়ে আমাদের যে পূর্বাভাস তা কমে আসবে।

গত মঙ্গলবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, তাদের হিসাবে করোনায় মৃত্যুর হার প্রায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ।

তবে একটা বিষয় উল্লেখ করা দরকার, কোনো রোগে মৃত্যুর হার আর মৃত্যুহার কিন্তু এক নয়। মর্টালিটি রেট বলতে বুঝায় ঝুঁকিতে থাকা মোট জনসংখ্যার মধ্যে মৃতের সংখ্যা। আর ডেথ রেট কিন্তু কেউ আক্রান্ত হলে তার মৃত্যুর সম্ভাবনাকে বুঝায় না।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবিক সেবা বিভাগের সহকারী সচিব ব্রেট গারয়ের বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে কভিড-১৯ এর সামগ্রিক মর্টালিটি রেট বা মৃত্যুহার সঠিকভাবে বললে দশমিক ১ শতাংশ থেকে ১ শতাংশ, এর বেশি নয়।

করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার আগে নানা ধরনের ফ্লুতে প্রতি বছর মানুষের মৃত্যুর পরিসংখ্যানটা দেখে নেয়া যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) হিসাবে, গত বছরের ১ অক্টোবর থেকে গত ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হয়ে কমপক্ষে ১২ হাজার মানুষ মারা গেছে। চলতি ফ্লু মৌসুমে ৩ কোটি ১০ লাখ আমেরিকান ফ্লুতে আক্রান্ত হয়েছে এবং ২ লাখ ১০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৭০ হাজার মানুষ ভাইরাসজনিত ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, প্রতি বছর ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় ২ লাখ ৯০ হাজার থেকে ৬ লাখ ৫০ হাজার মানুষ।

সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কাপ্তাইয়ে পুলিশের ত্রাণ সহায়তা

মহামারী করোনাভাইরাস ( কভিট-১৯) সংক্রমণ প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের লক্ষে রাঙামাটির কাপ্তাই থানা পুলিশ প্রতিনিয়ত …

Leave a Reply