নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » কঠিন চীবর দানোৎসব শুরু

কঠিন চীবর দানোৎসব শুরু

pic-2ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে পাহাড়ের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধানতম ধর্মীয় উৎসব দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব শুরু হয়েছে। প্রবারনা পূর্নিমা শেষে মাসব্যাপী এই ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে তিন পার্বতব্য জেলার বিহারে বিহারে কঠিন চীবর উৎসব শুরু হয়।
শনিবার খাগড়াছড়ির দীঘিনালা বন বিহান, পার্বত্য বৌদ্ধ মিশনে প্রথম কঠিন চীবর দান উৎসব সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠানে ধর্মীয় গুরুরা বৌদ্ধ ধর্মের অনুশাসন মেনে পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার আহবান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, মহা উপাসিকা বিশাখা কর্তৃক প্রবর্তিত চীবর দানই হলো কঠিন চীবর দান উৎসবের প্রধান আকর্ষণ। ২৪ ঘন্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা তৈরী এবং সেই সুতায় চীবর তৈরী করা হয়ে থাকে। প্রথমে চরকার মাধ্যমে তুলা থেকে সুতা করে, সুতা বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রং দিয়ে বেইনের মাধ্যমে তৈরী করা করা হয় চীবর বা কাপড়। এই চিবর পরের দিন বিকালে দায়ক দায়িকারা উৎসর্গ (দান) করেন ভান্তেদের উদ্দেশ্যে। এই দানে অনেক পূন্যলাভ করা যায়।
দীঘিনালা বৌদ্ধ বিহারে কঠিন চীবরকে ঘিরে মানুষের মিলনমেলা বসে। বৌদ্ধ ধর্মপ্রিয় মানুষ পূন্যের আশায় দলে দলে ছুটে যান বিহারে। উৎসবে পাহাড়ীরা ছাড়াও বিভিন্ন ধর্মবর্নের মানুষ অংশ নেন।
চীবর দান উৎসবে ধর্ম দেশনা দেন প্রয়াত সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তের প্রধান শিষ্য শ্রীমৎ নন্দপাল মহাস্থবির।
অন্যান্য বছরের মত এবারও কঠিন চীবর দান উৎসব উপলক্ষে বিহার প্রাঙ্গনে উষা বন্দনা, সংঘদান, অষ্ট পরিস্কার দান, পঞ্চশীল প্রার্থনা, প্রদীপ পুজা প্রভৃতি ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালিত হয়েছে। ভান্তে কর্তৃক প্রবজ্জা গ্রহন, পর জন্মে জ্ঞান লাভের উদ্দেশ্যে পিদিমা বা কল্পতরুতে দান করেন ধর্মপ্রান মানুষ।সন্ধ্যায় হাজার বাতি প্রজ্জলন ও ফানুস বাতি উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী ধর্মীয় কর্মসূচী শেষ হয়।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

হেফাজতের হরতালের প্রভাব পড়েনি খাগড়াছড়িতেও

ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজত ইসলামের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতালের কোনো প্রভাব পড়েনি পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতেও। রোববার সকাল …

Leave a Reply