কংজরী চৌধুরীর ব্যস্ততাময় দিন

kongjoriখাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী প্রত্যন্ত ও দূর্গম উপজেলা লক্ষীছড়ি পরিদর্শন করেছেন। তার সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন, জেলা পরিষদ সদস্য সতীশ চাকমা, এম.এ.জব্বার, মংক্যচিং চৌধুরী, মানিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান ¤্রাগ্য মার্মা, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি টেকু চাকমা, সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দীন ফিরোজ প্রমুখ।

কলেজে বই বিতরণ ও থানায় জেনারেটর প্রদান
পরিদর্শনের শুরুতে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী লক্ষীছড়ি কলেজে বই বিতরণ ও থানায় জেনারেটর প্রদান এবং এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির আসন গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ সদস্য ও লক্ষীছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি রে¤্রাচাই চৌধুরী। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, লক্ষীছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি মো. আজিবর রহমান গাজী, সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন বেপারী, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরে আলম, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, যুবলীগের সভাপতি আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক টাতুমনি চাকমা, ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল ইমাম, লক্ষীছড়ি কলেজের অধ্যক্ষ মিস ডথুইপ্রু ডলি, প্রভাষক মাসুদ চৌধুরী, অনিময় চাকমা, দীপক চাকমা, রওশনআরা খাতুন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কংজরী চৌধুরী বলেন, খাগড়াছড়ি জেলার সব চাইতে প্রত্যন্ত ও দূর্গম এলাকা লক্ষীছড়ি। কিন্তু এই দূর্গম লক্ষীছড়িতে এত সুন্দর ও মনোরম পরিবেশে ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চ শিক্ষার নিমিত্তে প্রস্তুত করা হচ্ছে এটা চোখে না দেখে বিশ্বাস করার মত না। আমি আশা করি এখানকার শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কলেজটি সাফল্য লাভ করবে।

অনুষ্ঠানের একাংশে লক্ষীছড়ি কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ ও নগদ এক লাখ টাকা অর্থ প্রদান করেন। পরে লক্ষীছড়ি থানায় জেলা পরিষদের পক্ষ হতে একটি জেনারেটর প্রদান করেন এবং কলেজের ছাত্র-ছাত্রীর অভিভাবদের দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে জেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে এক মাসের মধ্যে একটি গভীর নলকুপ স্থাপনের ঘোষণা দেন। পরে তিনি উপজেলার বিভিন্ন পুকুরে অধিদপ্তরের মৎস্য পোনা ও অবমুক্ত করেন।

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন
মধ্যাহ্ন ভোজের পরপরই কংজরী চৌধুরী লক্ষীছড়ি উপজেলায় বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের শুভ উদ্ভোধনী সম্পন্ন করেন। টুর্নামেন্টের উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ সদস্য ও লক্ষীছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি রে¤্রাচাই চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন, লক্ষীছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি মো. আজিবর রহমান গাজী, সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন বেপারী, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরে আলম, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, যুবলীগের সভাপতি আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক টাতুমনি চাকমা, ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল ইমাম।

টুর্নামেন্টে মোট ১৮টি দল অংশগ্রহণ করে। যথাক্রমে লক্ষীছড়ি সদর, অবসর, দেওয়ান পাড়া, বাইন্যাছোলা, জুন পহর ফুত্যাছড়ি, জুন পহর জুর্গাছড়ি, দুল্যাতলী জুনিয়র, লক্ষীছড়ি মডেল হাই স্কুল, শিলাছড়ি ইয়ং স্টার, মংহলাপাড়া টংসা, মগাইছড়ি, অগ্রদুত মোটর সাইকেল, পহর ফোদক, লক্ষীছড়ি বাজার, শুকনাছড়ি, যতিন্দ্র কার্বারীপাড়া, লেলাং বড়থলী ও ১০নাম্বার সানফ্লাওয়ার একাদশ।

গ্রুপ পর্যায়ের নকআউক খেলার উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয় লক্ষীছড়ি সদর বনাম অবসর একাদশ।
খেলাটি রেফারী হিসেবে পরিচালনা করেন, ডা. মো. দেলোয়ার হোসেন, সহকারি রেফারী হিসেবে ছিলেন, মো. গোলাম মোস্তফা ও আমজাদ হোসেন।

কালী মন্দির পরিদর্শন
পরে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী লক্ষীছড়ি কালী মন্দির পরিদর্শনে গেলে সেখানকার বিভিন্ন অবকাঠামোগত সমস্যার কথা লিখিত ও মৌখিক ভাবে তুলে ধরেন মন্দির পরিচালনা কমিটি। বিশেষ করে নাগ মন্দির স্থাপন, কালী মন্দির সংস্কার ও আসন্ন দূর্গাপুঁজার উদ্যাপনের জন্য আর্থিক অনুদান চেয়ে দাবী জানায় কমিটি। দাবী পূরণের যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন কংজরী চৌধুরী।

মেজার পাড়া বৌদ্ধ বিহার পরিদর্শন
সফরের শেষের দিকে তিনি মেজারপাড়া বৌদ্ধ বিহারে পরিদর্শনে যান। কেঙাংঘরের (আরসিসি) সিড়ি ও নির্মিত কেঙাংঘরকে দ্বিতীয় তলায় উর্ন্নিত করণের দাবি জানায় পরিচালনা কমিটি। পরে কংজরী চৌধুরী নগদ টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করেন এবং খুব দ্রুত বাকী নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার আশ্বাস দেন।

মগাইছড়ি বাজার জামে মসজিদ ও মাদ্রাসা পরিদর্শন
সব শেষে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মগাইছড়ি বাজার জামে মসজিদ ও মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন। সেখানকার নির্মিত মসজিদ ঘরটি অসম্পূর্ন অবস্থায় পরে আছে এবং মাদ্রাসাটির ঘরও জরাজির্ণ অবস্থা। বর্ষা পানি ও গ্রীষ্মের রোদের সাথে পাঞ্জা লড়ে দ্বীনি শিক্ষা গ্রহণ করছে মুসলিম শিশু ছাত্র-ছাত্রীরা। এছাড়াও ঈদগাহ মাঠের সংস্কারের দাবী জানায় কমিটি। কংজরী চৌধুরী বলেন, যেহেতু এটি একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তাই অযথা বারতি আশ্বাস প্রদান করা ঠিক হবে না। আমি খুবই শিগ্রই মসজিদ নির্মাণের কাজটি সম্পুর্ন করে দিবো। আর বাকী গুলো আগামী বাজেটে সম্পুর্ণ করা চেষ্টা করবো।

সব কাজ শেষে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী তার সফরকে সাফল্যমন্ডিত করার জন্য লক্ষীছড়ি উপজেলার সকল নেতা ও কর্মীকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে লক্ষীছড়ি বাসীর কাছ থেকে বিদায় নেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

Leave a Reply