নীড় পাতা » ফিচার » অন্য আলো » ‘ওবুক! জে সুন্দর লাগের জে…’

‘ওবুক! জে সুন্দর লাগের জে…’

Aparna-gosh-021নূরজাহান আর সোলায়মান। বিয়ে করেছেন ভালোবেসে। কিন্তু সংসার বলে কথা। সব সময় কি আর মধুর সংলাপ চলে! তালগোল পাকিয়ে শুরু হয় ঝগড়া। অবশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না, আবারও ভালোবাসার পরশে মোমের মতো গলে যায় রাগ। এমনই খুনসুটির সংসার তাঁদের দুজনের। মনে পড়েছে পাঠক এঁরা কারা? আর একটু খোলাসা করি—বেসরকারি টেলিভিশন জিটিভিতে প্রচারিত মেড ইন চিটাগাং নাটকের সেই নূরজাহান ও সোলায়মান।
চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার সংলাপের নাটকটির নূরজাহান চরিত্রে অভিনয় করা অপর্ণা ঘোষ কিন্তু চট্টগ্রামেরই মেয়ে। নাটকটি বেশ সাড়া জাগিয়েছে চট্টগ্রামজুড়ে। যা আলোড়িত করে অপর্ণাকেও।
শুরু করি অপর্ণার কথা দিয়ে—‘পরিচালক ইমরুল রাফাত চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার নাটকটি করার জন্য কথা বলার পর পার্থদার (পার্থ বড়ুয়া) সঙ্গে আলাপ করি। তিনি সায় দেন। এরপর নাটকের কাজ শুরু হয়। কাজ করার সময়ও মনে হয়নি এটি এতটা জনপ্রিয় হবে। প্রচারিত হওয়ার পর অভাবনীয় সাড়া দেখে আমি নিজেও অভিভূত। দর্শকদের ভালোবাসা আমাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। কক্সবাজার কিংবা চট্টগ্রামের কোথাও নাটকের শুটিংয়ের জন্য গেলে এখনো মানুষ আমাকে লক্ষ্য করে সংলাপগুলো বলে। তখন খুব ভালো লাগে।’
মেড ইন চিটাগাংয়ের কিছু সংলাপ তো বেশ জনপ্রিয়। এর মধ্যে সবার মুখে মুখে—‘ওবুক! জে সুন্দর লাগের জে…’। সুন্দর কোনো কিছু দেখলেই নূরজাহানের মুখে অবধারিত ছিল সংলাপটি। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে এটির ব্যবহার দেখা যায় বেশি। কোনো বন্ধুর ছবিতে মন্তব্য দেওয়ার জন্য একেবার জুতসই।
মেড ইন চিটাগাংয়ের শুটিংয়ের সময়ও মজার কাণ্ড কম ঘটেনি। অপর্ণা বলেন, ‘যখন শুটিং চলত পরিচালক ছাড়া শুটিংয়ের ইউনিটের আর কেউ আমাদের কথা বুঝত না। সবাই হাঁ করে তাকিয়ে থাকত। এটা খুব মজার।’ নাটকটির এ পর্যন্ত পাঁচটি পর্ব প্রচারিত হয়েছে। ষষ্ঠ পর্বের কাজ শেষ হয়েছে গত ঈদে। সেই পর্বটি শিগগির প্রচারিত হবে।
এবার অন্য প্রসঙ্গ। চট্টগ্রামকে মনে পড়ে? বলতেই যেন ছাইচাপা আগুন নাড়া খেল। ‘মনে পড়ে মানে! খুব মিস করি। কারণ আমার বাবা-মা ও বোন থাকে চট্টগ্রামেই। বন্ধুরা সবাই সেখানে। তাদের কথা সব সময় মনে পড়ে। জিইসি মোড়ের সেন্ট্রাল প্লাজার নিচের দোকানের ফুচকার কথা মনে পড়লে এখনো জিভে জল আসে। এ ছাড়া মনে পড়ে ওয়েল ফুড, বারকোডের আড্ডা। আবার ফেসবুকে যখন দেখি বন্ধুরা সবাই মিলে কোথাও বেড়াতে যাচ্ছে, তখন ইচ্ছে করে চট্টগ্রামে ছুটে আসি। আমার সবটা জুড়ে আছে চট্টগ্রাম।’ বললেন অর্পণা। চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক করে অপর্ণা এখন থিতু হয়েছেন ঢাকায়। তাঁর ভাষায়, ‘কাজের জন্য আসা’।
চট্টগ্রামের মেয়েটির অভিনয়ে হাতেখড়ি বাবা অলোক ঘোষের কাছে। বাবা মঞ্চের মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে আছেন ‘নান্দিকার’-এর সঙ্গে। তাই অপর্ণার শুরুটাও হয়েছিল মঞ্চ দিয়ে। প্রথম নাটক কোর্ট মার্শাল। তখন সবে এসএসসি দিয়েছিলেন। এরপর ২০০৬ সালে চ্যানেল আই লাক্স ফটো সুন্দরী প্রতিযোগিতায় সেরা চারে অবস্থান। টেলিভিশনের পর্দায় প্রথম নাটক তবুও ভালোবাসি। এরপর অভিনয় করেছেন টেলিফিল্ম ও ধারাবাহিক নাটকে। এর মধ্যে শাফায়াত মনসুরের পরিচালিত জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ইচ্ছেঘুড়ি। এটি এখনো চলছে। এ ছাড়া বর্তমানে কাজ করছেন তিনটি ধারাবাহিকে—শূন্য থেকে শুরু, হাল্লা বোল ও ভালোবাসা কারে কয়।
নাটকের পাশাপাশি চলচ্চিত্রে কাজ করছেন। ইতিমধ্যে কাজ করেছেন দুটি ছবিতে থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার ও মৃত্তিকা মায়া। মুক্তির অপেক্ষায় আছে মেঘমল্লার। কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের গল্প অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি। মুক্তিযুদ্ধের সময়ের এক বিয়োগান্তক কাহিনির আখ্যান এটি।
নাটক না চলচ্চিত্র কোনটিতে ঝোঁক অপর্ণার? উত্তরে বললেন, ‘চলচ্চিত্র অনেক বড় জায়গা। সবার খুব কাছে যাওয়া যায়। তবে নাটকও কম নয়। আমার মূল লক্ষ্য ভালো একজন শিল্পী হওয়া। তা যেকোনো মাধ্যমেই হোক।’

( রাঙামাটির মেয়ে অপর্ণাকে এই লেখাটি দৈনিক প্রথম আলোতে ৬ মার্চ ২০১৪ তারিখের প্রকাশিত হয়েছে, পাহাড়টোয়েন্টিফোর ডট কম এর পাঠকদের জন্য লেখাটি প্রথম আলোর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতাসহ পুন: প্রকাশ করা হলো )

Micro Web Technology

আরো দেখুন

স্বাস্থ্য বিভাগকে সুরক্ষা সামগ্রী দিলো রাঙামাটি রেড ক্রিসেন্ট

নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে রাঙামাটির ১২টি সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রসমূহে স্বাস্থ্য …

Leave a Reply