নীড় পাতা » খেলার মাঠ » ঐতিহ্য হারাচ্ছে শহীদ শুক্কুর স্টেডিয়াম

ঐতিহ্য হারাচ্ছে শহীদ শুক্কুর স্টেডিয়াম

shahid-sukkur-stadium-pic-0বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে রাঙামাটি শহরের প্রাচীন মাঠ শহীদ শুক্কুর স্টেডিয়াম। রাঙামাটির অনেক ইতিহাসের সাক্ষী এই মাঠটির আজ জীর্ণদশা। মাঠটি সংস্কারের পর শুধুমাত্র পরিচর্যার অভাবে আর দখলদারদের প্রভাবে রাঙামাটি জেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম এই মাঠটি আজ হারিয়ে যেতে বসেছে।

এক সময় প্রায় সারা বছরই এই মাঠে বিভিন্ন খেলাধূলা অনুষ্ঠিত হতো। এই মাঠেই অনুষ্ঠিত হতো বিভিন্ন জাতীয় দিবসের কুচকাওয়াজসহ রাঙামাটির বড় বড় সব লীগ এবং টুর্নামেন্ট। বিভিন্ন মৌসুমী টুর্নামেন্টের চাপে প্রায় সারা বছরই ব্যস্ত থাকতো এই মাঠটি। কিন্তু এখন কালে ভদ্রেও এই মাঠে কোনও টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয় না। খেলাধূলার অভাবে মাঠটি এখন ব্যবহৃত হচ্ছে গো-চারণ ভূমি, ড্রাইভিং শেখানোর স্থান এবং যেকোনও উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত মেলার স্থান হিসেবে। এর পাশাপাশি ভূমিদুস্যদের কবলে পড়ে দখল হতে শুরু করেছে মাঠের একাংশ। মাঠের পশ্চিম পাশের পাহাড়টি থেকে স্থানীয় লোকজন প্রতিদিন মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। মাটি কাটার ফলে ঝুঁকির মুখে পড়েছে মাঠ এবং পাহাড়ের ওপরে অবস্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ভবন।

সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠের পাশাপাশি মাঠের দু’পাশের গ্যালারি দুটোরও এখন ভগ্নদশা। কংক্রিট খসে পড়ে এবং কংক্রিটের ভেতরকার রড বের হয়ে গ্যালারি দুটোর বেশিরভাগ অংশই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। বের হয়ে যাওয়া রড কেটে নিয়ে গেছে এলাকার মাদকসেবীরা। মাঠের পশ্চিম পাশের গ্যালারি আগাছা আর জঙ্গলে ভর্তি। যেটি এখন সম্পূর্ণরূপে ব্যবহৃত হচ্ছে গো-চারণ ভূমি হিসেবে। মাঠের উত্তর পাশে রয়েছে একটি সুবিশাল স্থায়ী মঞ্চ। যেহেতু এই মাঠে এখন আর কোনও আনুষ্ঠানিকতা নেই সেহেতেু এই মঞ্চটিও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। মঞ্চটি ছিন্নমুলদের থাকার ঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সন্ধ্যার পর এই মঞ্চটি মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয় এবং সংঘঠিত হয় বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকান্ড। ২০১১ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যেগে প্রায় ২৩ লক্ষ টাকা ব্যায়ে এই মাঠটি সংস্কার করা হয়েছিল। সংস্কার কাজের মধ্যে মাঠে মাটি ভরাট, ঘাস লাগানো, মাঠের চারপাশে আর.সি.সি ড্রেন ও বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজ করা হলেও পরিচর্যা না থাকায় সেসবের সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। মাঠের অধিকাংশ স্থান এখনো অসমতল অবস্থায় আছে এবং ড্রাইভিং শেখানোয় ব্যবহৃত গাড়ি চলাচলের ফলে কিছু জায়গায় সৃষ্টি হয়েছে বড় গর্তের। ফলে মাঠটি খেলাধূলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

রাঙামাটি ফুটন্ত ফুলের আসর সংগঠনের পরিচালক ইয়াছিন রানা সোহেল বলেন, মাঠে একসময় প্রচুর খেলাধূলা চললেও এখন তেমন একটা হয় না বললেই চলে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার উদাসীনতার কারণেই আজ মাঠটির এই অবস্থা। অনতিবিলম্বে মাঠটি সংস্কার করে, মাঠের পরিচর্যার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ সহ গুরুত্বপূর্ণ সকল পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানান তিনি।

মাঠে খেলতে আসা বাবলু সেন বলেন, এই এলাকায় খেলাধূলা করার মতো আর কোনও মাঠ নেই আমাদের। এই একমাত্র মাঠটি যেভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তাতে করে আমরা বঞ্চিত হয়ে পড়বো। তাই এই মহূর্তে এই মাঠটি সংস্কার এবং সংরক্ষণ করা খুব প্রয়োজন।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক বরুণ দেওয়ান বলেন, রাঙামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থা মাঠে খেলাধূলার বিষয়ে সজাগ রয়েছে। মাঠে খেলাধূলা ফিরিয়ে আনতে বয়স ভিত্তিক ফুটবল টুর্নামেন্ট আমরা এই মাঠে আয়োজনের চিন্তাভাবনা করছি। মাঠের নিরাপত্তা অভাবে টুর্নামেন্ট আয়োজনে সমস্যা হয়। মাঠটি সংস্কারের জন্য আমরা উন্নয়ন বোর্ডের সাথে যোগাযোগ করছি।

ঐতিহ্যের ধারক প্রাচীন এই মাঠটি ধ্ধংসের হাত থেকে রক্ষা করে পুনরায় খেলাধুলার উপযোগী করে তোলার জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন ও রিজার্ভবাজার এলাকার বাসিন্দারা।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

জনপ্রিয় হচ্ছে ‘তৈলাফাং’ ঝর্ণা

করোনার প্রভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল খাগড়াছড়ির পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র। তবে টানা বন্ধের পর এখন খুলেছে …

Leave a Reply

%d bloggers like this: