নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » ঐতিহ্য হারাচ্ছে দীঘিনালার ঐতিহাসিক ‘দীঘি’

ঐতিহ্য হারাচ্ছে দীঘিনালার ঐতিহাসিক ‘দীঘি’

dighinala-pic,-03-11-2013যে দীঘির নামে নামকরণ হয়েছে দীঘিনালা উপজেলার, প্রয়োজনীয় সংস্কার আর রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে সে দীঘি তার সৌন্দর্য হারাতে বসেছে। চাকমা চীফ সার্কেল চীফ এর মালিকানাধীন হলেও এই পুকুরটি উপজেলার ঐতিহ্য রক্ষার অংশ হিসেবে সংষ্কার করা জরুরি বলে মনে করেন উপজেলার সচেতন মানুষ।

দীঘিনালার বাঘেইছুড়ি দুঅর চাঙমা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠি’র পরিচালক আনন্দ মোহন চাকমা জানান, জনশ্রুতি রয়েছে ত্রিপুরা মহারাজা গোবিন্দ মানিক্য সংসার ছাড়ার পর এ অঞ্চলে কিছু দিন বসবাস করেছিলেন। তখন তাঁর সফর সঙ্গিসহ স্থানীয়দের পানির ব্যবস্থা করতেই এই দীঘি খনন করা হয়েছিল।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, উপজেলার বর্তমান বড়াদম এলাকায় অবস্থিত এই দীঘি খনন করা হয়েছিল ১৬৬৭ খ্রীষ্টাব্দে। ত্রিপুরা মহারাজা গোবিন্দ মানিক্যের নির্দেশে রাতারাতি ছোট বড় ১২ টি দীঘি খনন করা হয়। পুরঞ্জন প্রসাদ চক্রবর্তীর ত্রিপুরা রাজমালা, কালী প্রসন্ন সেনের শ্রী শ্রী রাজমালা, ঐরংঃড়ৎু ড়ভ ঐরহফঁংঃযধহ ঠড়ষ-১১১ ইু উড়ংি. এবং প্রভাংশু ত্রিপুরার ত্রিপুরা জাতির মানিক্য উপাখ্যানসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক দলিলে উল্লেখ আছে এই দীঘির কথা।
ইতিহাস পাঠে জানা যায়, ত্রিপুরা মহারাজা গোবিন্দ মানিক্য (১৬৬০-১৬৭৬) বৈমাত্রেয় ভাই নক্ষত্র নারায়ণের হাতে ত্রিপুরা রাজ্যের শাসনভার অর্পণ করে নির্বাসনে যান। প্রথমে বর্তমান খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালার মাইনি নদীর তীরে এসে একটি আশ্রম নির্মাণ করে বসবাস করতে থাকেন। তখন এ অঞ্চল ছিল ত্রিপুরা জনজাতির একটি বৃহৎ গোত্র রিয়ংদের আবাসস্থল। পূর্বে এ অঞ্চলের নাম ছিল রিয়াং দেশ। রিয়াং সম্প্রদায় মহারাজার দর্শন লাভার্থে সমবেত হলে তিনি দীঘি খননের নির্দেশ দেন। মহারাজার আগমনের স্মৃতি রক্ষার্থে রাতারাতি দীঘি খনন করা হয়। এরপর থেকেই এ অঞ্চলের নাম হয় মহারাজার দীঘি যা পরে দীঘিনালা হিসেবে নামান্তরিত হয়।

সেই ঐতিহ্যবাহী দীঘির রক্ষনাবেক্ষনের উদ্যোগ নেই, নেই সংস্কারের পরিকল্পনা। জঙ্গলে ভরে আছে দীঘির চারপাশ, দেখলে বুঝার উপায় নেই এটি সেই ঐতিহাসিক দীঘি। অথচ সামান্য সংষ্কার আর উদ্যোগ নিলে দীঘিটি হতে পারে দীঘিনালার স্থানীয় ও বাইরে থেকে বেড়াতে আসা মানুষের একটি দর্শনীয় স্থান।

দীঘিনালার স্থানীয় সাংবাদিক পলাশ বড়ুয়া বলেন,দীঘির পাড়ে চারপাশে নারিকেলসহ বিভিন্ন গাছ লাগিয়ে,দর্শনার্থীদের বসার ব্যবস্থা করা হলে এবং দীঘির পাড়ের যেকোন একটি স্থানে এই দীঘির ঐতিহাসিক বর্ণণা তুলে ধরে একটি স্তম্ভ থাকলে দীঘিটি পরিণত হতে পারে আকর্ষনীয় এক স্থানে। যেহেতু দীঘির মালিকানা চাকমা সার্কেল চীফের, তাই তিনি এবং স্থানীয় প্রশাসন আলোচনা করে এই ব্যাপারে একটি সুন্দর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিতে পারেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

২ জেএসএস নেতা হত্যার প্রতিবাদে মহালছড়িতে বিক্ষোভ

রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়িতে জনসংহতি সমিতি (এমএনলারমা) সমর্থিত যুব সমিতির কেন্দ্রীয় নেতাসহ ২ জনকে হত্যার ঘটনার …

Leave a Reply