নীড় পাতা » আলোকিত পাহাড় » ঐতিহ্য নিয়েই ফিরছে চাকমা রাজবাড়ী

ঐতিহ্য নিয়েই ফিরছে চাকমা রাজবাড়ী

rajbari-02
পুড়ে যাওয়া চাকমা রাজবাড়ী
rajbari-cover-01
নির্মিতব্য চাকমা রাজবাড়ীর নকশা

ভাঙা আর গড়ার খেলা আর পার্বত্য ইতিহাসের বাঁক পরিবর্তনের সাথে বারবার স্থানচ্যুত পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী চাকমা রাজবাড়ী সর্বশেষ আগুন পুরো ছাই হয়েছে সেও বছর দুয়েক। রাণীর হাট থেকে পুরনো রাঙামাটি,সেখানে জলমগ্ন হয়ে শহরের পাশেই রাজদ্বীপে নতুন ঠাঁই মেলে চাকমা রাজপরিবারের। নিয়তির পরিহাসে সেখানেও আগুনে পুড়ে ছাই রাজঐতিহ্য। ২০১০ সালের ১০ নভেম্বর সন্ধ্যার সেই অক্ষম বেদনা,হতাশা,দীর্ঘশ্বাস আর আহাজারি কাটিয়ে আবার পুনর্নিমিত হচ্ছে চাকমা রাজবাড়ী ! আরো বেশি নান্দনিক আর স্বকীয় সৌন্দর্য নিয়ে চাকমা রাজবাড়ীর নতুন অবকাঠামো নির্মাণে শুরু হয়েছে তোড়জোড়। অর্থায়ন আর পরিকল্পনা নিয়ে কিছুটা গোপনীয়তা রাখা হলেও এটা নিশ্চিত,আবার ঐতিহ্য নিয়েই ফিরছে চাকমা রাজবাড়ী,আর এতেই খুশি সাধারন চাকমারা। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন,চাকমা রাজপরিবারের রাজঐতিহ্য,মোঘল আমলের স্থাপত্যশৈলি,পুরনো রাজবাড়ীগুলোর অনুকরণ আর সংমিশ্রনেই এবার নির্মিত হবে নতুন রাজবাড়ী। আর নির্মাণ কাজ শেষে এই রাজবাড়ী পর্যটকদের অন্যতম দর্শনীয় স্থানে পরিণত হবে বলেও প্রত্যাশা তাদের।

rajbari-03
কাপ্তাই হ্রদের জলে নিমজ্জিত রাজবাড়ী

সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা গেছে,প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে নতুন চাকমা রাজবাড়ী। পার্বত্য চট্টগ্রামের কালের সাক্ষী চাকমা রাজবাড়ী বিগত ২০১০ সালের ১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় অগ্নিকান্ডে পুড়ে যায়। মাত্র এক ঘন্টার অগ্নিকান্ডে পুড়ে ছাই হয়ে যায় শত বছরের ঐতিহ্যের ধারক বাহক চাকমা রাজবাড়ী ও বিভিন্ন প্রতœতাত্বিক নিদর্শন, যার মধ্যে রয়েছে রানী কালিন্দীর ব্যবহৃত হাতির দাঁতের তৈরী সিংহাসন। পুড়ে গেছে পুরনো অনেক মুল্যবান দলিল দস্তাবেজ। পার্বত্য চট্টগ্রামের আপামর জনসাধারনের গর্ব এবং ঐতিহ্যের একটি অনন্য স্মারককে চিরতরে হারিয়েছে এ এলাকার সাধারন মানুষ । যা টাকার অংকে পরিমাপ করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। অগ্নিকান্ডে ধ্বংসপ্রাপ্ত চাকমা রাজবাড়ি শুধুমাত্র চাকমা রাজার বাসভবন নয় এটি হাজার বছর ধরে পার্বত্যাঞ্চলে বসবাসরত সকল সম্প্রদায়ের সম্প্রীতি ও ঐক্যের প্রতীক। কিন্তু সৌভাগ্যবশত সর্বনাশা অগ্নিকান্ডের পরও বেশ কিছু ঐতিহাসিক কিছু দলিল দস্তাবেজ আর প্রত্নসম্পদ রয়ে গেছে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এসব সম্পদ সমগ্র দেশ ও জাতির স্বার্থে সংরক্ষন ও প্রদর্শনের জন্য উদ্যেগ গ্রহন অত্যন্ত জরুরী বলে মনে করে রাজপরিবারের সদস্যরা।

নতুন চাকমা রাজবাড়ী নির্মাণে অর্থায়ন,পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে রাজা ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায় এর সম্মতিক্রমে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জাতিগোষ্ঠী ও জনসাধারনের অংশগ্রহনে সাবেক পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গৌতম দেওয়ানকে আহবায়ক ও অম্লান চাকমাকে সদস্য সচিব করে পযধশসধ পরৎপষব ঐবৎরঃধমব ঈড়ঁহপরষ(পপযপ)নামে ২০ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছে অধ্যাপক মংসানু চৌং,চিং কিউ রোয়াজা, অঞ্জুলিকা খীসা,নিরূপা দেওয়ান,রাংলাই ম্রো,মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা,কীর্তি নিশান চাকমা,সুদত্ত বিকাশ তঞ্চঙ্গ্যা,নিজাম উদ্দিন,হরি কিশোর চাকমা,বিপ্লব চাকমা, প্রতুল দেওয়ান,মো: আব্বাস উদ্দিন, মো: আলী, সাগরিকা রোয়াজা,ঐশ্বর্য চাকমা,প্রবীন খীসা তাতু ও এ্যাড. সুস্মিতা চাকমা প্রমুখ। এ কমিটির কাজ হলো চাকমা রাজ কমপ্লেক্স পুণঃনির্মানের উদ্যেগে সহায়তা প্রদান করা। রাজবাড়ী পুননির্মানের জন্য পুরো এলাকাকে ভিত্তি করে একটি সামগ্রিক পরিকল্পনা তৈরী করা। এই কমিটির কয়েকজন সদস্যর সাথে কথা বলে জানা গেছে,কমিটি ইতোমধ্যেই কার্যক্রম অনেকদূর এগিয়ে নিয়েছে। চাকমা সার্কেল হেরিটেজ কাউন্সিলন রাজবাড়ী নির্মাণে আর্থিকভাবে সহায়তা করতে ইচ্ছুকদের রাঙামাটিস্থ অগ্রনী ব্যাংক বনরূপা শাখার সঞ্চয়ী হিসাব নং ১০৭১৩৭৯ এ অর্থ জমা দিতে অনুরোধ করেছে।

এদিকে অগ্নিকান্ডের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবতীয় ঐতিহাসিক দলিল-দস্তাবেজ,প্রতœসামগ্রী ও নিদর্শনসমুহকে যথাযথভাবে সংরক্ষনের উদ্যেগ নেয়া এবং এ লক্ষ্যে একটি যাদুঘর ও সংরক্ষানাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে রাজবাড়ী সূত্রে।

rajbari-04
কাপ্তাই বাঁধের কারণে যখন পানি বাড়ছিলো,সেই সময় রাজবাড়ীর ডুবে যাওয়ার দৃশ্য

চাকমা সার্কেল চীফ দেবাশীষ রায়ের সার্বিক নির্দেশনায় একটি স্থানীয় স্থপতি টিম ইতিমধ্যেই চাকমা রাজবাড়ী কমপ্লেক্স ডিজাইন এর কাজ করেছে এবং হেরিটেজ কাউন্সিল সার্বিক সমন্বয় এর দায়িত্ব পালন করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং ইতিহাস এই ডিজাইনে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন নির্মাণপরিকল্পনার সাথে সম্পৃক্ত একটি সূত্র ।

চাকমা সার্কেল হেরিটেজ কাউন্সিল এর সদস্য সচিব অম্লান চাকমা বলেন,নতুন রাজবাড়ী নির্মাণে তহবিল সংগ্রহের জন্য আমরা বাঘাইছড়ি দিঘিনালা কাপ্তাইসহ বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি এবং সকলে রাজবাড়ীর পুরানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। রাজবাড়ীর ভিত্তিপ্রস্থরও স্থাপনের জন্য পাহাড়ী ছাড়াও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকের কাছ থেকে সাড়া পেয়েছি এবং আশা করছি ভিত্তি প্রস্থর অনুষ্ঠানটা বড় আকারে করতে পারবো। তিনি বলেন,রাজা দেবাশীষ রায়ও চান সকলের সহযোগিতায় রাজবাড়ীর পুরনো ঐতিহ্য ফিরে আসুক। তিনি আরো বলেন, এখানে পরিকল্পনা রয়েছে পাহাড়ের প্রত্যেকটা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য-সংস্কৃতির নিদর্শন সংরক্ষিত করা হবে। এক কথায় বলতে গেলে এটি একটি জাদুঘর হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এখানকার ভবিষ্যত প্রজন্ম যাতে এ রাজবাড়ী দর্শন করে এখানকার প্রাচীন ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারে। তাছাড়াও বিশেষ করে রাঙামাটির বাহির থেকে যেসব পর্যটক রাঙামাটি বেড়াতে আসলে চাকমা রাজবাড়ী এক নজর দেখার জন্য ছুটে আসতো তারাও যাতে এই রাজবাড়ী দেখে এখানকার ঐতিহ্য-সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারে।

চাকমা সার্কেল হেরিটেজ কাউন্সিল এর আহ্বায়ক গৌতম দেওয়ান বলেন, চাকমা রাজবাড়ী তৈরীর জন্য প্রাথমিক সার্ভে হয়েছে এবং আর্কিটেকচার ডিজাইনও হয়েছে কিন্তু স্ট্রাকচার ডিজাইন বাকী রয়েছে। এখানে পরিকল্পনা রয়েছে চাকমা রাজবাড়ী ছাড়াও লাইব্রেরী,জাদুঘর এবং আর্কাইভ থাকবে। এইকাজে পাহাড়ী বাঙালীসহ সকলের কাছ থেকে সাড়া পেয়েছি। কাপ্তাই বাধেঁর কারনে পুরনো রাজবাড়ী পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ফলে কোনরকমে তৈরী করা হয়েছিল আগুনে পুড়ে যাওয়া রাজবাড়ীটি। বর্তমানে যে রাজবাড়ী তৈরী করা হবে সেটি এই অঞ্চলের ইতিহাস ঐতিহ্য ও চাকমা সার্কেলের ইতিহাসের প্রতিনিধিত্ব করবে। তিনি আরো বলেন, নতুন চাকমা রাজবাড়ী শুধু রাজা দেবাশীষ রায়ের বিষয় নয়, এই অঞ্চলে বসবাসরত সকল জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য-সংস্কৃতি সংরক্ষনের নিদর্শন হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত হবে।

চাকমা রাজবাড়ী তৈরীর জন্য প্রাথমিক সার্ভে হয়েছে এবং আর্কিটেকচার ডিজাইনও হয়েছে কিন্তু স্ট্রাকচার ডিজাইন বাকী রয়েছে। এখানে পরিকল্পনা রয়েছে চাকমা রাজবাড়ী ছাড়াও লাইব্রেরী,জাদুঘর এবং আর্কাইভ থাকবে। এইকাজে পাহাড়ী বাঙালীসহ সকলের কাছ থেকে সাড়া পেয়েছি। কাপ্তাই বাধেঁর কারনে পুরনো রাজবাড়ী পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ফলে কোনরকমে তৈরী করা হয়েছিল আগুনে পুড়ে যাওয়া রাজবাড়ীটি। বর্তমানে যে রাজবাড়ী তৈরী করা হবে সেটি এই অঞ্চলের ইতিহাস ঐতিহ্য ও চাকমা সার্কেলের ইতিহাসের প্রতিনিধিত্ব করবে। নতুন চাকমা রাজবাড়ী শুধু রাজা দেবাশীষ রায়ের বিষয় নয়, এই অঞ্চলে বসবাসরত সকল জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য-সংস্কৃতি সংরক্ষনের নিদর্শন হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত হবে….গৌতম দেওয়ান, আহ্বায়ক,চাকমা সার্কেল হেরিটেজ কাউন্সিল

আবার ঐতিহ্য আর অহংকার নিয়ে ফিরবে চাকমা রাজবাড়ী এই খবরে খুশি পাহাড়ের সাধারন চাকমারাও। তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন নতুন রাজবাড়ী দেখার,যে রাজবাড়ীর সামনে দাঁড়ালেই স্মৃতির মনিকোঠায় ভেসে উঠবে পুরনো রাজবাড়ীর সেইসব দিন,আর চাকমা রাজপরিবারের শৌর্য্যবীর্যময় সেইসব সোনালী অতীত।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

৫ comments

  1. hei dei ar ham kaj nei! ami tenga horos guri ne gor tuli dibon ar Raja mode bange furti nosti guribo…

  2. Rajattun do at least kishu mansamman tana dorkar! te hene bikke loba janganottun!

Leave a Reply

%d bloggers like this: