নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » এ্যাম্বুলেন্স সংকটে খাগড়াছড়িবাসি

এ্যাম্বুলেন্স সংকটে খাগড়াছড়িবাসি

Ambulence-Picপ্রথমটি অকেজো হয়েছে প্রায় দুই বছর হলো। সেটি এখন বদ্ধ গ্যারেজে বন্দী। অপরটি নানা সমস্যা নিয়ে দীর্ঘ সময় খুড়িঁয়ে খুড়িঁয়ে চললেও কিছুদিন ধরে সেটিও অকেজো হয়ে পড়ে আছে। ফলে এখন এ্যাম্বুলেন্সবিহীনই খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতাল। দুটি এ্যাম্বুলেন্স নানা সমস্যা নিয়ে অকেজো হয়ে পরে থাকায় চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগীদের। যাদের সামর্থ্য আছে তাঁরা দ্বিগুন ভাড়া দিয়ে বেসরকারী অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করছেন রোগি পরিবহণে, অন্য অন্যদের অবস্থা বেহাল !
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে দুটি সরকারী অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। এরমধ্যে একটি দুই বছর আগে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। অন্যটি গত ২০ এপ্রিল চট্টগ্রামে রোগী নিয়ে যাওয়ার সময় বিকল হয়ে পড়ে।
এদিকে সরকারী অ্যাম্বুলেন্সে খাগড়াছড়ি থেকে চট্টগ্রাম রোগী পরিবহন ভাড়া ২ হাজার ৫শ টাকা হলেও এখন বেরসকারী অ্যাম্বুলেন্স নিতে গুনতে হচ্ছে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা।
খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক ইউনুছ আলী ও চাথং মারমা জানান, হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স দুটি এমনিতে অনেক পুরাতন। একটিতো দুই বছর আগে ইঞ্জিন, বডিসহ নানা সমস্যার কারণে বিকল হয়ে যায়। অন্যটির টুকিটাকি কাজ করে কোনমতে সচল রাখা হয়েছিল, কিন্তু এখন সেটিও বিকল হয়ে গেছে।
বেরসকারী অ্যাম্বুলেন্স চালক বেলাল হোসেন জানান, ইদানিং সরকারী অ্যাম্বুলেন্স নষ্ট বলে রোগী পরিবহন একটু বেড়েছে। আর ব্যক্তি মালিকানাধীন বলে ভাড়া একটু বেশি। গাড়ী যদি অক্সিজেন দিয়ে চলে তাহলে ভাড়া হবে ৫ হাজার টাকা। আর তেল দিয়ে চললে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা ভাড়া আসবে।
খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক সঞ্জীব ত্রিপুরা রোগীদের দূর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, সরকারী অ্যাম্বুলেন্স দুটি বিকল হওয়াতে ব্যক্তি উদ্যেগে রোগীরা বেসরকারী অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিচ্ছেন। তিনি অ্যাম্বুলেন্স মেরামতের জন্য মন্ত্রনালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলেও জানান।
খাগড়াছড়ি সিভিল সার্জন নারায়ন চন্দ্র দাশ জানান,‘আমরা চাইলেই সরকারী অ্যাম্বুলেন্স মেরামত করতে পারিনা। মেরামত করতে হলেও মন্ত্রনালয়ের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। ইতিমধ্যে মন্ত্রনালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। আশা করি খুব দ্রুত সমস্যা থেকে উত্তোরণ ঘটবে।
এদিকে একই দশা খাগড়াছড়ি ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সটিরও। অতি পুরাতন হওয়ায় শহর ছাড়া বাইরে রোগী পরিবহন করেনা এই অ্যাম্বুলেন্স।
খাগড়াছড়ি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মোঃ ইদ্রিস জানান, আমাদের অ্যাম্বুলেন্সটি অনেক পুরাতন। এটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। উর্ধতন কতৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। আমরা এখন মূলত খাগড়াছড়ির শহরে বিভিন্ন এলাকা থেকে হাসপাতালে রোগী সরবরাহ করছি।
এদিকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স দুটি অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকায় জরুরী চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে খাগড়াছড়ি লক্ষাধীক মানুষ। স্থানীয়রা চান রোগীদের দূর্ভোগের কথা চিন্তা করে দ্রুত বিকল অ্যাম্বুলেন্স মেরামতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বান্দরবানে ২ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ আদালতের

বান্দরবানে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে পরিদর্শকসহ ২ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে র‌্যাবকে তদন্তের নির্দেশ …

Leave a Reply