নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » ‘এসপি ও ওসির অপসারণ,নইলে লাগাতার হরতাল’

‘এসপি ও ওসির অপসারণ,নইলে লাগাতার হরতাল’

AL-pic-02বুধবার মাত্র ১২ ঘন্টার ব্যবধানে দুই দলীয় কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় রাঙামাটির পুলিশ সুপার ও কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জকে দায়ি করে তাদের অপসারনে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম ঘোষণা করে তাদের অপসারন,নইলে থানা ঘেরাও সহ লাগাতার হরতালের ঘোষনা দিয়েছে রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনগুলোর নেতারা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাঙামাটি শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে তারা এই আল্টিমেটাম ঘোষণা করে বলেছেন,এই সময়ের মধ্যে এসপি ও ওসিকে অপসারণ করা না হলে আগামী রবিবার থেকে রাঙামাটি জেলায় টানা হরতাল কর্মসূচী পালন করা হবে।

দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিল পুরাতন বাসস্টেশন,এসপি অফিস হয়ে প্রেসক্লাব চত্বরে সমাবেশ করে। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ মুছা মাতব্বর এর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মনসুর আলী,জেলা যুবলীগের সভাপতি আকবর হোসেন চৌধুরী,জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহ এমরান রোকন। তারা অভিযোগ করেন,বুধবার দুপুরে পুলিশের গাড়ী চালকের দায়িত্বহীনতার কারণে যুবলীগ কর্মী সুজন মল্লিক মারা যাওয়ার পর রাতেই পুলিশ আসামী ধরার নামে ওলামা লীগ কর্মী জিয়াউল হককে ধাওয়া দিয়ে কাপ্তাই হ্রদে ফেলে হত্যা করেছে। তারা দুইটি ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে রাঙামাটি পুলিশ সুপার,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও কোতয়ালি থানার ওসি ইমতিয়াজ এর অপসারণ দাবি করেন।

এদিকে বুধবার রাতে পুলিশের ধাওয়ায় কাপ্তাই হ্রদে পড়ে পানিতে ডুবে নিহত জিয়াউল হক কমল ওলামা লীগ কর্মী এবং বরকল উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক বলে দাবি করেছেন রাঙামাটি জেলা ওলামা লীগের সাধারন সম্পাদক মাওলানা নাজমুল হক।

প্রসঙ্গত,বুধবার দুপুর ১ টায় রাঙামাটি শহরের পুলিশ লাইন স্কুল এলাকায় পুলিশের পিকআপের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন একটি বেসরকারি কোম্পানির বিক্রয়কর্মী সুজন মল্লিক,তার সাথে থাকা রেজাউল গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি হন। বুধবার রাতেই শহরের কোতয়ালি থানার সামনে দিয়ে আসামবস্তিতে নিজ বাসায় ফেরার সময় পুলিশের ধাওয়ায় দৌড়ে পালাতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা জিয়াউল হক কমল। নিহত কমলের বিরুদ্ধে তক্ষক পাচারের ঘটনায় মুন্সীগজ্ঞ থানায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষন আইনে দায়ের করা মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিলো বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এসপি ও ওসি’র অপসারন দাবি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাঙামাটির পুলিশ সুপার আমেনা বেগম বলেন,বুধবারের সড়ক দূর্ঘটনা নিছকই দুর্ঘটনা,তারপরও আমাদের পক্ষ থেকে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছি এবং এখনো করছি, এই ঘটনায় কারো অবহেলা থাকলে তার বিরুদ্ধেও তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর রাতে ওয়ারেন্টভূক্ত আসামীকে পুলিশ ধরতে গেলে সে পানিতে ঝাঁপ দেয় এবং সাঁতার না জানায় হয়তো পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে,এটাতো পুলিশের দোষ নয়। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কেনো আমার অপসারণ দাবি করা হচ্ছে আমার বোধগম্য নয়।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবদান রাখবে কিশোরী ক্লাব

রাঙামাটির বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) প্রোগ্রেসিভের বাস্তবায়নে ‘আমাদের জীবন, আমাদের স্বাস্থ্য, আমাদের ভবিষ্যৎ’ এই প্রকল্পের …

Leave a Reply