নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » এম এন লারমার মৃত্যু বার্ষিকী আজ

এম এন লারমার মৃত্যু বার্ষিকী আজ

MN-Larma-pic-for-webপার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী পাহাড়ী জুম্ম জনগোষ্ঠির জনক হিসেব পরিচিত মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা ( এম এন লারমা)’র মৃত্যবার্ষিকী আজ। ১৯৮৩ সালের এই দিনে নিজের প্রতিষ্ঠিত সশস্ত্র সংগঠন শান্তিবাহিনীর ভিন্নমতাবলম্বী একটি বিদ্রোহী গ্রুপের হাতে আরো আটজন সহযোদ্ধাসহ প্রাণ হারান তিনি।

পার্বত্য চট্টগ্রামের মধ্যবিত্ত এক পাহাড়ী পরিবারে জন্মগ্রহণকারী এই বিপ্লবী নেতা পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ে আমৃত্যু সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন আইনজীবি এমএন লারমা ১৯৩৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর রাঙামাটি জেলার মহাপুরুম গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম চিত্ত কিশোর চাকমা এবং মাতার নাম শুভাষিণী দেওয়ান। তিন ভাই, এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। ছোট ভাই বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা ।
মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা ওরফে মজ্ঞু ১৯৫৮ সালে রাঙামাটি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্টিক,১৯৬০ সালে চট্টগ্রাম সরকারী কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট এবং ১৯৬৫ সালে একই কলেজের সমাজকল্যান বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৮ সালে বিএড এবং ১৯৬৯ সালে এলএলবি পাশ করেন। ১৯৬৬ সালে দিঘীনালা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু হয় এবং ১৯৬৯ সালে চট্টগ্রামের রেলওয়ে কলোনী উচ্চ বিদ্যালয়ে তিনি প্রধান শিক্ষক হিসেব যোগদান করেন। একই বছর তিনি শিক্ষকতা পেশা ত্যাগ করে চট্টগ্রাম বার এসোসিয়েশন সদস্য হয়ে আইন ব্যবসা শুরু করেন।
পাশাপাশি ১৯৬৫ সাল থেকে পাহাড়ী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ১৯৫৮ এবং ৬২ সালের ঐতিহাসিক পাহাড়ী ছাত্র সম্মেলন এর তিনি ছিলেন প্রধান উদ্যোক্তা। ১৯৬৩ সালের ১০ ফেব্রয়ারী নিবর্তনমূলক আইনে তাকে চট্টগ্রামের পাহাড়ী ছাত্রবাস থেকে গ্রেফতার করা হয় এবং দুই বছর পর ১৯৬৫ সালের ৮ মার্চ শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দেয়া হয়। তিনি ১৯৭০ সালে পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে স্বতন্ত্র সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীন দেশে ১৯৭২ সালের ১৫ ফেব্রয়ারী প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে ৪ দফা সম্বলিত আঞ্চলিক স্বায়ত্বশাসনের দাবী নামা পেশ করেন তিনি। তার নেতৃত্বে ১৯৭২ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি গঠিত হয় এবং তিনি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭৩ সালে তিনি আবারও জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং একই বছর তিনি জনসংহতি সমিতির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭৪ সালে তিনি সরকারী প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে লন্ডন সফর করেন এবং এই বছরই তিনি বাকশালে যোগদান করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজবর রহমান নিহত হলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং সশস্ত্র আন্দোলন শুরু করেন। ১৯৮৩ সালে আট সহকর্মীসহ নিজ দলের একটি ভিন্নমতাবলম্বী গ্রুপের এনকাউন্টারে তিনি নিহত হন। এরপর থেকে প্রতিবিছর জনসংহতি সমিতি এবং পাহাড়ীদের বিভিন্ন সংগঠন নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই দিনটি পালন করে আসছে। এবছরও নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে জুম্ম জনগণের এই প্রিয় মহান নেতার শহীদ দিবস পালিত হচ্ছে। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে প্রভাতফেরী,শহীদ বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পণ,স্মরণসভা এবং প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং ফানুস উড়ানো।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির পক্ষ থেকে দিনটি উপলক্ষ্যে রবিবার সকাল আটটায় প্রভাত ফেরী অনুষ্ঠিত হবে। রাজবাড়িস্থ জেলা শিল্পকলা একাডেমী থেকে শুরু হয়ে বনরূপা বাজার প্রদক্ষিণ করে আবারো শিল্পকলা একাডেমীতে এসে প্রভাতফেরী শেষ হবে। এরপর এমএন লারমার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন। সকাল দশটায় শিল্পকলা একাডেমী হলরুমে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। আর সন্ধ্যায় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও ফানুস উড়ানোর মধ্য দিয়ে শেষ হবে এমএন লারমাকে স্মরণের এ বছরের আয়োজন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কাপ্তাইয়ের তিন দোকানকে ৪০০০ টাকা অর্থদণ্ড

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার বড়ইছড়ি বাজারে ভ্রাম্যমান আদালতের …

Leave a Reply