নীড় পাতা » ব্রেকিং » ‘এমএনলারমা হত্যাকান্ডে বিদেশী ও শাসকগোষ্ঠীর হাত ছিলো’

‘এমএনলারমা হত্যাকান্ডে বিদেশী ও শাসকগোষ্ঠীর হাত ছিলো’

larma-01‘মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমাকে হত্যা শুধুমাত্র আঞ্চলিক পর্যায়ের ষড়যন্ত্র ছিলো না’ উল্লেখ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা বলেছেন, বিদেশী ও শাসকগোষ্ঠীর একটি অংশের হাত ছিলো এই হত্যাকান্ডে। ৮৩ সালের সেই ষড়যন্ত্র এখনো অব্যাহত রয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের এতো বছর পরও চুক্তি বাস্তবায়নের নামে শাসকগোষ্ঠীর যে চুক্তিবিরোধী কার্যকলাপ তার সাথে ৮৩ সালের হত্যাকান্ডের মধ্যে সম্পর্ক সম্পর্কে জানা জরুরি তিনি মন্তব্য করেন। সন্তু লারমা সোমবার মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সোমবার রাঙামাটি শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়কনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার মানসে ও চুক্তির আন্দোলনকে বিপথে পরিচালিত করতে ও যারা জনসংহতি সমিতির নেতৃত্বকে ধ্বংস করতে চায় তাদের সাথে প্রীতি চাকমাদের সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি কওে সন্তু লারমা বলেন, যারা শাসকগোষ্ঠীর সাথে আঁতাত করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনিশ্চিত পথে ঠেলে দিচ্ছে তাদের সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে। তিনি বলেন, ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে এপর্যন্ত জনসংহতি সমিতির ৯১ সদস্য ও ২০০জনের মতো সাধারণ জুম্ম জনগণকে হত্যা করেছে। তারা জনগণকে জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা চাঁদা আদায়ের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক উস্কানি সৃষ্টি করছে। রূপায়ন চাকমা ও সুধাসিন্ধু খীসা আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য হওয়ার পরও তারাও চুক্তিবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেছে। তারাও ইউপিডিএফের সাথে যোগ দিয়ে কোটি কোটি টাকা চাঁদা আদায় করছে। তাদের এসব কার্যক্রমে পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক, উগ্রবাদী ও অগণতান্ত্রিক গোষ্ঠীকে মদদ দেওয়া হচ্ছে।
পাহাড়ে জুম্ম জনগণ জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতির নামে যারা বিভিন্ন দল করেন তাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ৮৩ সালের কুচক্রীমহল যে ষড়যন্ত্রে আবদ্ধ ছিলো একই ষড়যন্ত্রের জালে তারাও আবদ্ধ। মেডিকেল কলেজ, প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পার্বত্য জেলা পরিষদে সদস্য সম্প্রসারণ, উন্নয়ন বোর্ড ও বিভাগ হস্তান্তর নামে পর্যটন শিল্প যেভাবে জেলা পরিষদে হস্তান্তর করা হয়েছে তাতে জুম্ম জনগণকে এ অঞ্চল থেকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র বলে তিনি মন্তব্য করেন।DSC00103
জুম্ম জনগণের মধ্যে যারা উচ্চ শিক্ষিত হয়েও এই এলাকায় আসতে চান না তাদেরকে ‘অকৃতজ্ঞ’ মন্তব্য করে সন্তু লারমা বলেন, শুধুমাত্র রূপায়ণ চাকমা ও প্রসিত চক্রদের বিরুদ্ধে দাঁড়ালেই হবে না এদের বিরুদ্ধেও কথা বলতে হবে।
তিনি বলেন, মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা শুধুমাত্র পাহাড়ের জুম্ম জনগণের কথাই বলেননি তিনি সারা বিশ্বের মেহনতি মানুষের উন্নয়ন ও অধিকার আদায়ের পক্ষে কথা বলতেন। ৬০ দশকে কাপ্তাই বাঁধের বিরুদ্ধেও তিনি প্রথম কথা বলেছিলেন। কিন্তু সে সময়ে পাকিস্তানি শাসকের শোষণের কারণে কেউ এগিয়ে না আসায় বাঁধ নির্মাণ প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি সন্তু লারমা ছাড়াও বক্তব্য রাখেন, প্রফেসর মংসানু চৌধুরী, প্রাক্তন বেতার শিল্পী দীপ্তি রানী চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য ¯েœহ কুমার চাকমা, সঙ্গীতশিল্পী রঞ্জিত দেওয়ান, রাঙামাটি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অরুণ কান্তি চাকমা, কবি ও শিক্ষক শিশির চাকমা প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এমএন লারমা মেমোরিয়েল ফাউন্ডেশনের আহবায়ক বিজয় কেতন চাকমা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক ইন্টুমণি তালুকদার।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কাপ্তাইয়ে করোনা সংক্রমণ কমছে

প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং থানা পুলিশের তৎপরতায় রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে করোনা সংক্রমন হার কমছে। কাপ্তাই উপজেলা …

Leave a Reply