নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » এভাবে চলে যেতে নেই…

এভাবে চলে যেতে নেই…

alauddin-iin-pic-coverআগামী ৪ এপ্রিল স্বামী-স্ত্রী মিলে আমেরিকা চলে যাবেন,তাই যাবার আগে বেড়াতে এসেছিলেন পর্যটন শহর রাঙামাটিতে। কিন্তু নিয়তির কি নির্মম পরিহাস,কে জানতো রাঙামাটিতে নিঠুর নিয়তি প্রতীক্ষা করছে তাদের জন্য। বুধবার কাপ্তাই হ্রদে বেড়াতে গিয়ে অবসান হলো একটি যুগল জীবনের। একসময় বিডিআর-এ কর্মরত আলাউদ্দিন নিজে সাঁতার জানলেও স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে জীবন দিলেন তিনি। বিডিআরে কর্মরত থাকাকালিন সাঁতারে একাধিক পদকও পেয়েছেন বলে জানালেন তারই বড় ভাই শাহাবুদ্দিন।

আইরিন সুলতানা লিমা এবং আলাউদ্দিন পাটোরিয়া। মাত্র বছরখানের আগে বিয়ে হয় তাদের। কুমিল্লার বরুড়ার আমেরিকা প্রবাসী আলাউদ্দিনের সাথে চট্টগ্রামের মেয়ে আইরিন সুলতানার সুখের সংসার। মাত্র কদিন আগেই আমেরিকা থেকে এসেছেন আলাউদ্দিন,এবার স্ত্রীকেও সাথে করে নিয়ে যাবেন বলে।

বুধবার দুপুরে রাঙামাটি আসেন তারা। রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্স থেকে একটি ভাড়ার ইজ্ঞিনচালিত বোট নিয়ে কাপ্তাই হ্রদে নৌবিহারে বের হন তারা। বিকেল চারটার দিকে পর্যটন কমপ্লেক্স আর বালুখালির মধ্যবর্তী হ্রদের আদার পাহাড় এলাকায় আকস্মিক ঝড়ের কবলে পড়েন তারা।

বোট চালক বিটন চাকমা জানালো,হঠাৎ ঝড় উঠলে বোটের প্রচন্ড দোলুনি দেখে মেয়েটি পানিতে লাফ দেয়,সাথে সাথে ছেলেটিও মেয়েকে বাঁচাতে পানিতে ঝাঁপ দেয়,এরপর বোটটি উল্টে গেলে আমি বোটটি আঁকড়ে ধরে রাখি। বাতাসে বোটটিকে টেনে নিয়ে যেতে থাকে। এরপর আর কোন কিছুই আমার মনে নেই। বোটে লাইফ জ্যাকেট থাকলেও তা বাধার সময়ই কেউ পায়নি বলে দাবি কিশোর এই বোট চালকের।

নিহত আলাউদ্দিনের বড়ভাই শাহাবুদ্দিন পাটোয়ারি খবর পেয়ে বুধবার রাতেই ছুটে আসেন, উদ্ধার অভিযানের কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে ফ্যালফ্যাল চোখে বলেন,বেলা আড়াইটায়ও ভাইয়ের সাথে কথা হয়েছে পরিবারের। কিন্তু এ কি ঘটে গেলো আমাদের জীবনে,রাত আটটার দিকে রাঙামাটি থেকে খবর পাই আমরা। আগামী ৪ এপ্রিল তাদের দুজনেরই আমেরিকা যাওয়ার কথা। এখন মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা অন্তত: তাদের দেহ যেনো পাই, বলেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন ভাই আর তার স্ত্রীর দু:সংবাদ শুনে সুদুর কুমিল্লা থেকে ছুটে আসা শাহাবুদ্দিন। সাঁতারে পদকজয়ী ছোটভাই টির এইভাবে পানিতে ডুবে মৃত্যু হবে,এটা মেনেই নিতে পারছেন না তিনি।

এদিকে ডুবে যাওয়ার পর থেকে নিরন্তর উদ্ধার অভিযানে আছে নৌবাহিনী ও ফায়ারসার্ভিসের ডুবরিরা। সাথে আছে পুলিশ ও সেনাবাহিনীও। উদ্ধারকাজের যাবতীয় তদারকি করছেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমান্ডার জুলহাস ফয়সাল বলেন, হ্রদের এলাকা বিস্তৃত হওয়ায় এবং তলদেশে উঁচু নীচু টিলা ও কাদার কারণে উদ্ধারকাজে বিঘœ ঘটছে। তথাপি আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

রাঙামাটির কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মনু সোহেল ইমতিয়াজ বলেন, বোটের চালককে নিয়ে এসে ডুবে যাওয়ার স্থানটি চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেই অনুযায়ীই উদ্ধার তৎপরতা চলছে। সবাই চেষ্টা করছি।

প্রসঙ্গত,বুধবার চট্টগ্রাম থেকে রাঙামাটি বেড়াতে এসে কাপ্তাই হ্রদে নৌবিহারে বেরিয়ে ইঞ্জিনচালিত বোট ডুবে নিখোঁজ হন এই দম্পতি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান কুজেন্দ্রের

কভিড-১৯ মহামারী উত্তরণে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেছে খাগড়াছড়ি পার্বত্য …

Leave a Reply