নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » এবার সেই রিন্টুর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা

সাংবাদিক নির্যাতনের পর

এবার সেই রিন্টুর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা

রিন্টু বিকাশ চাকমা

কুড়িগ্রামে স্থানীয় এক সাংবাদিককে নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত বির্তকিত সেই সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা’র বিরুদ্ধে এবার নারী নির্যাতনের মামলা হয়েছে। খাগড়াছড়ি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যালে মামলাটি দায়ের করেন রিন্টুর বিকাশ চাকমা’র স্ত্রী চন্দ্রিকা চাকমা।

দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর নির্যাতন আর সহ্য করতে না পেরে অবশেষে আদালতের দ্বারস্থ হন চন্দ্রিকা চাকমা। এর আগে কুড়িগ্রামে স্থানীয় সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে রিগ্যানকে নির্যাতনের ঘটনায় তৎকালিন জেলাপ্রশাসকসহ বিতর্কিত হন এই সহকারী কমিশনার। দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর নির্যাতনে যেমন অসহায় হয়ে পড়েছেন চন্দ্রিকা; ঠিক তেমনই ভুগছেন নিরাপত্তাহীনতায়ও। অভিযোগ রয়েছে, মামলা দায়েরর পর মামলা প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্নভাবে মাধ্যমে চাপ ও টাকার প্রলোভন দেয়া হচ্ছে।

রিন্টু বিকাশ চাকমা (৩৬) পার্বত্য খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার আমতলী এলাকার বাসিন্দা অক্ষয়মনি চাকমার ছেলে। মামলার বাদী ও রিন্টুর স্ত্রী চন্দ্রিকা চাকমা (২৫) খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড চরপাড়া মৈত্রীনগর এলাকার বাসিন্দা মৃত প্রীতিময় চাকমার মেয়ে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ‘যৌতুকের দাবিতে বারবার শাররিকভাবে স্ত্রীবে নির্যাতন করেন রিন্টু বিকাশ চাকমা। শারিরিকভাবে কিলঘুষিসহ বেদমভাবে প্রহার করে আহত করা হয়। যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে দাবি পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টাও করছে রিন্টু। রিন্টু বিকাশ চাকমা বেকার থাকা অবস্থায় স্ত্রী’র আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় নানা অংকের যৌতুক গ্রহণ করে। ২০১৭ সালে ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে চাকরিতে ‘ঘুষ দিতে হবে’ বলে স্ত্রী চন্দ্রিমার পরিবার থেকে ২ লাখ টাকা যৌতুক নেন। চাকরি হবার পর কুড়িগ্রামে পদায়ন হলে সেখানে স্ত্রী ও কন্যাকে কখনো নেয়নি রিন্টু। মাস শেষে শুধুমাত্র দুই হাজার টাকা খরচের জন্য পাঠাতেন। স্ত্রী এ বিষয়ে কিছু বললে আরও উল্টো তাকে টাকা পাঠাতে বলেন রিন্টু। স্ত্রী খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন রিন্টু নানা ধরনের অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত; তখন তাকে সংশোধন করার চেষ্টা করেন স্ত্রী। এমনকি তৎকালিন জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগও প্রদান করে। রিন্টুর নির্যাতনে হাসপাতালেও ভর্তে হতে হয়েছে চন্দ্রিকাকে।’

এজাহারে আরও বলা হয়, ‘সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে নির্যাতনে রিন্টুর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয় এবং তাকে ওএসডি করা হয়। সেখান থেকে পরিত্রাণ পেতে পাঁচ লাখ টাকার প্রয়োজন বলে আবারো স্ত্রী ও তাঁর পরিবারকে চাপ দিতে থাকে। নিরূপায় হয়ে চলতি বছরের ২০ আগস্ট সচিব বরাবরেও অভিযোগ করেন। এমন ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে রিন্টু হুমকি দিয়ে বলেন; আমি একজন ম্যাজিস্ট্রেট আমার অনেক ক্ষমতা। আমি কুড়িগ্রামের ডিসি সুলতানা পারভিনকেও হজম করে ফেলেছি। সুতরাং তোকেও হজম করা বিষয় না।

খাগড়াছড়ি আদালতে রিন্টু বিকাশ চাকমার নামে ১৫ অক্টোবর মামলা দায়ের করেন তার স্ত্রী। মামলা নং ৩৩/২০২০। প্রাথমিক প্রতিবেদনে আসামি রিন্টু বিকাশ চাকমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। যার ফলে আদালত ২ নভেম্বর রিন্টু বিকাশ চাকমার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

রিন্টু চাকমার স্ত্রী চন্দ্রিকা চাকমা বলেন, ‘মামলার পর নানা ভাবে আমাকে নানা ধরণের হুমকি দিচ্ছে; এমনকি রিন্টু বলে সে প্রশাসনের লোক তাই কাউকে সে কেয়ার করে না। চাকরিটা হবার পর মূলত সে কাউকে পাত্তা দেয় না। তাই সামাজিকভাবে অনেক সমাধান চেয়েছি কিন্তু পাইনি। বাসা থেকে একা বের হতে পারি না। আমি মেয়েসহ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা বলেন, ‘আমি ঢাকায় আছি। এ অভিযোগের বিষয়ে আমি কোন মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।’

Micro Web Technology

আরো দেখুন

রাঙামাটিতে এক দিনেই ১১ জনের করোনা শনাক্ত

শীতের আবহে হঠাৎ করেই পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি জেলায় করোনা সংক্রমণে উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। বিগত কয়েকদিনের …

Leave a Reply