নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » এবার সাংবাদিকদের নিয়ে কটুক্তি বিতর্কিত ‘হুমায়ুন’র

এবার সাংবাদিকদের নিয়ে কটুক্তি বিতর্কিত ‘হুমায়ুন’র

Kassate-Humaun২০০৭ সালে জরুরী অবস্থার সময় গ্রেফতার হওয়া রাঙামাটি জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলনের ‘বিতর্কিত নেতা’ মশিউল আলম হুমায়ুন এবার সাংবাদিকদের নিয়ে কটুক্তি করে আলোচনায় এসেছেন। বুধবার পেশাগত কাজে বাংলাদেশ প্রতিদিন,দৈনিক সাঙ্গু ও মোহনা টেলিভিশনের রাঙামাটি প্রতিনিধি ফাতেমা জান্নাত মুমু ও জিটিভি’র রাঙামাটি প্রতিনিধি মিল্টন বাহাদুর রাঙামাটি সড়ক ও জনপদ বিভাগে গেলে সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত মশিউল আলম হুমায়ুন বিনা উস্কানিতেই সাংবাদিকদের সম্পর্কে বাজে মন্তব্য ও কটাক্ষ করতে শুরু করেন। মুমু সাথে সাথেই তার আচরণের প্রতিবাদ করলে হুমায়ুন আরো বেশি অশ্রাব্য ভাষায় তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে কটুক্তি ও বাজে মন্তব্য করা অব্যাহত রাখে। পরে উপস্থিত লোকজনের হস্তক্ষেপে সাংবাদিক মুমু ঘটনাস্থল থেকে চলে আসলেও হুমায়ুন সাংবাদিকদের নিয়ে আজেবাজে মন্তব্য করতেই থাকেন।

এদিকে হুমায়ুনের আচরণে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রাঙামাটিতে কর্মরত সাংবাদিকরা। সাংবাদিকদের নিয়ে কটুক্তি করার প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাঙামাটিতে কর্মরত বিভিন্ন পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিক নেতারা জানিয়েছেন,তথা কথিত নেতা ও সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য মশিউল আলমের প্রতি তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন,সাংবাদিকদের নিয়ে তার এই আচরণ নতুন নয়। এর আগেও সে সাংবাদিকদের সাথে একই ধরণের আচরণ করেছে। এমনকি সংবাদ কভার করার সময় সাংবাদিকদের উপর হামলাও করেছে সেই বিতর্কিত মশিউল আলম হুমায়ুন। রাঙামাটি প্রেসক্লাব, রাঙামাটি রিপোর্টাস ইউনিটি, রাঙামাটি সাংবাদিক ফোরাম, রাঙামাটি সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতারা অবিলম্বে মশিউল আলমকে ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়ে বলেছেন,অন্যথায় সাংবাদিক সমাজ এই বিতর্কিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও কর্মসূচী নিতে বাধ্য হবে।

প্রসঙ্গত,একসময়কার জাসদ নেতা মশিউল আলম হুমায়ুন পরে বিএনপিতে যোগদান করেন। কিন্তু বিএনপিতেও সুবিধা করতে না পেরে ২০০৩ সালে গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলনে যোগ দেন। সেখানেও তার বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে বেশ কিছুদিন কোনঠাসা থাকার পর সম্প্রতি আবারও সমঅধিকার সংগঠনে সক্রিয় হয়েছেন। ২০০৭ সালে দেশে জরুরী অবস্থা জারি হলে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাকে ঋন খেলাপীর মামলায় গ্রেফতার করে কোমড়ে দড়ি বেঁড়ে আদালতে হাজির করে। পরে জামিনে মুক্তি পান তিনি। ২০০৫ সালে বিনা উস্কানিতে সমঅধিকারের মিছিলের ছবি তোলার সময় সাংবাদিকদের উপর চড়াও হন হুমায়ুন। সেই সময় তার বিরুদ্ধে থানায় জিডি করেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক। বিভিন্ন সময় সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক বক্তব্য,অশ্লীল বাক্যালাপ ও উচ্চস্বরে কথা বলার কারণে রাঙামাটির মানুষ তাকে একটি বিশেষ নামেও ডেকে থাকেন। তার আচরণ ও উদ্ব্যত্বর কারণে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলন সংগঠনটিও দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে। তার আচরণের কারণে সংগঠনটির অনেক নেতাকর্মীও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মোহনা টেলিভিশন ও বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার রাঙামাটি প্রতিনিধি ফাতেমা জান্নাত মুমু বলেন,তিনি(হুমায়ুন) কোন কারণ ছাড়াই সাংবাদিকদের সম্পর্কে আপত্তিকর কথা বলছিলেন,রাঙামাটির সিনিয়র সাংবাদিকদের নাম ধরেও সে কটাক্ষ করছিলো,এই কারণে অনেকটা বাধ্য হয়ে আমি প্রতিবাদ করি,কিন্তু তা সত্বেও সে তার অশ্লীল বক্তব্য অব্যাহত রাখে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক, একজন বয়স্ক মানুষ এইভাবে অন্যের সম্পর্কে বাজে,অশ্লীল কটুক্তি ও মন্তব্য করতে পারেন,তা না দেখলে বিশ্বাসযোগ্য হতোনা। আমি এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবদান রাখবে কিশোরী ক্লাব

রাঙামাটির বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) প্রোগ্রেসিভের বাস্তবায়নে ‘আমাদের জীবন, আমাদের স্বাস্থ্য, আমাদের ভবিষ্যৎ’ এই প্রকল্পের …

Leave a Reply