নীড় পাতা » পাহাড়ে নির্বাচনের হাওয়া » এবার বীর বাহাদুর,দীপংকর,কুজেন্দ্র

এবার বীর বাহাদুর,দীপংকর,কুজেন্দ্র

3-leaderটানা পঞ্চমবারের মতো পার্বত্য জেলা বান্দরবান ও রাঙামাটিতে দলের মনোনয়ন পেলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৯১ সাল থেকে চারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য বীর বাহাদুর উশৈসিং,রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও তিনবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার। তবে কপাল পুড়েছে সাবেক গেরিলা সংগঠন শান্তিবাহিনী থেকে অস্ত্র সমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে এসে আওয়ামী লীগের রাজনীতির মাঠে নামা যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরার। এবছরই জেলা আওয়ামী লীগের জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান হয়েও সভাপতি পদে নির্বাচনে হেরে যাওয়ার খেসারতই দিলেন। তার জায়গায় মনোনয়ন পেলেন যার কাছে তিনি হেরেছেন সেই খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। তবে খাগড়াছড়ি আসনে আওয়ামী লীগের পরিবর্তন অনেকটা অনুমিতই ছিলো। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর খাগড়াছড়ি সফরকালেও জেলায় উপস্থিত ছিলেন না যতীন্দ্রলাল ত্রিপুরা,কিন্তু শত বাধাবিপত্তি পেরিয়ে কুজেন্দ্রলাল জনসভা সফল করায় তার উপর সন্তুষ্ট হওয়ার পুরষ্কারই তাকে দিলেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে পার্বত্য জেলা রাঙামাটি ও বান্দরবানে আওয়ামী রাজনীতির ভিত নির্মাণকারি হিসেবে পরিচিত দুই নেতা বীর বাহাদুর ও দীপংকর তালুকদারের মনোনয়নে খুশি দলটির স্থানীয় নেতারা।

ব্যতিক্রমী তিন নেতা
তিন পার্বত্য জেলা ১৯৯১ সাল থেকেই আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। বান্দরবানে টানা চারবার নির্বাচিত হয়েছেন বীরবাহাদুর । ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ‘বিতর্কিত’ নির্বাচন বাদ দিলে বাকী সবগুলো নির্বাচনেই তিনি বিজয়ী হয়েছেন। এবারো প্রধান বিরোধীদল শূণ্য নির্বাচনী মাঠে তার বিজয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে রাঙামাটির রাজনীতির গত দুইযুগ ধরে আওয়ামী রাজনীতির নিয়ন্ত্রন ‘দাদা’ দীপংকর তালুকদাও মাঝে ২০০১ সালে বিএনপি প্রার্থী মনিস্বপন দেওয়ানের কাছে পরাজয় আর ‘সেই ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন’ বয়কট ছাড়া বাকী তিন নির্বাচনেই বিজয়ী তিনি। এবারো নির্বাচনী মাঠে তাই তার অবস্থান বেশ সুসংহত।
অন্যদিকে প্রথমবারের মতো মনোনয়ন পেয়ে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। যতীন্দ্রলাল ত্রিপুরাকে বিগত জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে ভোটাভুটিতে পরাজিত করে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভা সফলভাবে আয়োজন করে নিজের যোগ্যতা এবং দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।

তিনজন তিন জাতিগোষ্ঠীর
আওয়ামী লীগ তিন পার্বত্য জেলায় যে তিনজনকে দায়িত্ব দিয়েছে তাদের মধ্যে তিনজন পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি প্রধান জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধি। রাঙামাটির দীপংকর তালুকদার চাকমা জনগোষ্ঠীর,খাগড়াছড়ির কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ‘ত্রিপুরা’ জনগোষ্ঠীর আর বীরবাহাদুর ‘মারমা’ জনগোষ্ঠীর সদস্য। জনসংখ্যার দিক দিয়ে এবং সাংস্কৃতিক ও জীবন বৈচিত্রে এই তিন নেতার তিন জনগোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধানতম জনগোষ্ঠী।

আছে ‘প্রতিপক্ষ’ও
পার্বত্য তিন জেলায় এই তিন নেতার মনোনয়নকে স্বাভাবিকভাবেই বেশ যৌক্তিক এবং সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন দলটির প্রায় ‘সকল’ নেতাকর্মীই। কিন্তু বিপরীত চিত্রও আছে। এবার বান্দরবানে বীর বাহাদুর পাশে পাচ্ছেন না সভাপতি প্রসন্ন তঞ্চঙ্গ্যাকে। নানা কারণে বীর বাহাদুরের উপর রুষ্ট সভাপতি এবার নিজেও নির্বাচন করতে আগ্রহী। ইতোমধ্যেই তিনি মনোনয়নও সংগ্রহ করেছেন। এনিয়ে বিব্রত বীরবাহাদুরও।

খাগড়াছড়িতে বর্তমান সংসদ সদস্যকে বাদ দিয়ে কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরাকে মনোনয়ন দেওয়ায় স্বাভাবিক কারণেই যতীন্দ্রলাল ত্রিপুরা এবং তার সমর্থকরা কতটা মাঠে থাকবেন তা নিয়েও আছে সংশয়।

রাঙামাটিতে দীপংকর তালুকদারের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকলেও এই প্রথমবারের মতো নীরবে হলেও দলের মধ্যে আছেন তার অমঙ্গল কামনাকারিরা। অতীতে বাইরের শক্রদের নিয়েই ব্যস্ত থাকা দীপংকরকে তাই এবার ‘ঘরের শত্রু’দেরও মন জোগাতে হবে।

তবে সব আলোচনার পরও তৃণমূল নেতাকর্মীরা মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তাই মূলধারার প্রায় সকল নেতাকর্মীই মাঠে থাকার কথা জানিয়েছেন এই তিন নেতার জন্য। নির্বাচনী লড়াইয়ে অতীতে বারবার জয়ী দুই নেতার সাথে এবার যোগ হলেন নতুন একজন। পুরোনোদের সহযোগিতা আর পরামর্শে নির্বাচনী বৈতরণি পাড় হতে আত্মবিশ্বাসী তিনিও। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কি প্রধান বিরোধীদল হীন হয় কিনা নাকি তারাও নির্বাচনী মাঠে নেমে আসে তা নিয়ে দ্বিধা আছে সবারই, আছে বিকল্প প্রস্তুতিও। এখন অপেক্ষার পালা। নির্বাচনী মাঠ কতটা তেঁতে উঠে তা দেখার।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

২ জেএসএস নেতা হত্যার প্রতিবাদে মহালছড়িতে বিক্ষোভ

রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়িতে জনসংহতি সমিতি (এমএনলারমা) সমর্থিত যুব সমিতির কেন্দ্রীয় নেতাসহ ২ জনকে হত্যার ঘটনার …

Leave a Reply