নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » এবার আন্দোলনে স্বেচ্ছায় ভারত প্রত্যাগত শরনার্থীরা

এবার আন্দোলনে স্বেচ্ছায় ভারত প্রত্যাগত শরনার্থীরা

dighinala-pic-1খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় মানব বন্ধন ও সমাবেশ করেছে স্বেচ্ছায় ভারত প্রত্যাবর্তনকারি উপজাতীয় শরনণার্থী পরিবারগুলো। রবিবার বিকালে উপজেলার বড়াদম বাজারের দীঘিনালা-বাবুছড়া সড়কে মানববন্ধন শেষে বড়াদম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সমাবেশ করে তারা। ‘স্বেচ্ছায় ভারত প্রত্যাগত বঞ্চিত শরনার্থীদের অনতি বিলম্বে পুনর্বাসনের দাবিতে’ প্রায় ৩ শতাধিক পরিবার কর্মসূচিতে অংশ নেয়। দাবি পূরন না হওয়া পর্যন্ত তাদের শান্তিপূর্ন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে সমাবেশ থেকে জানানো হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেন বাবুছড়া নোয়াপাড়ার আশি বছরের বৃদ্ধা জ্ঞানলতা চাকমা। তিনি জানান, ভারতে শরনার্থী থাকাকালিন সময়ে সেখানকার কষ্ট সইতে না পেরে পালিয়ে স্বদেশে চলে আসেন। তখন সরকারের পক্ষ থেকে নগদ ৫০০ টাকা সহ ৬ মাস রেশনও দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তিতে শান্তিচুক্তির পর তাদের নাম শরণার্র্থীর তালিকায় তোলা হয়নি। এর পর থেকেই শুরু হয় মানবেতর জীবন যাপন। শেষ সময়ে হলেও সরকার যদি তাদের দিকে দৃষ্টি দেয় সে কারণেই কর্মসূচিতে এসেছেন। একই কথা জানান রাঙ্গাপানিছড়া গ্রামের কৃষ্ণ রঞ্জন চাকমা (৫৫) ও পোমাংপাড়া গ্রামেdighinala-pic-2র মনিপুস্প ত্রিপুরা (৪৭)। উদালবাগান গ্রামের দয়ালমোহন চাকমা (৫২) জানান, ভারতের সাবরুং শরনার্থী শিবীরে আশ্রয় নিয়েছিলেন পরিবার নিয়ে। সেখানে স্ত্রী রঙ কুমারি চাকমা মারা যাওয়ার পর ১৯৯০ সালে জীবনের ঝূকি নিয়ে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে দেশের মাটিতে ফেরেন।

বাবুছড়া এলাকার শান্তি রঞ্জন চাকমা (৪৮) জানান, আশ্রয় শিবিরে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তাঁর মা মারা যান। ডায়রিয়ার মহামারি দেখে পরিবারের অপর সদস্যদের নিয়ে পালিয়ে প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি আরো জানান, সেসময় সরকার ঘোষণা দিয়েছিল স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনকারীদের সরকার সহায়তা দেবে, কিন্তু কেহ ২ মাস কেহ ৬মাস রেশন পেলেও পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। আর কোন সুযোগ সুবিধা পায়নি তারা, সবাই বঞ্চিত হয়েছেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন স্বেচ্ছায় ভারত প্রত্যাবর্তকারি শরণার্থী কল্যাণ সমিতির বাবুছড়া ইউপি শাখার সভাপতি দীপুলাক্ষ চাকমা। প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ধর্ম্মবীর চাকমা। এছাড়া আরো বক্তব্য রাখেন, ভাইস চেয়ারম্যান সুপ্রিয় চাকমা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শতরুপা চাকমা, দীঘিনালা ডিগ্রি কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল অরুন কান্তি চাকমা, দীঘিনালা ইউপি চেয়ারম্যান চন্দ্র রঞ্জন চাকমা ও সমাজ সেবক নবকোমল চাকমা।

সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, স্বেচ্ছায় ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় পরিবারগুলো মানবেতর জীবন যাপন করছে। এর মধ্যে কিছু পরিবার রেশনের আওতায় আসলেও বাকি পরিবার প্রথম ২-৬ মাস রেশন পাওয়ার পর হটাৎ করেই তা বন্ধ হয়ে যায়। অন্যান্য শরনার্থী পরিবার সরকারী সুবিধা পাওয়ার পর এখনো রেশনিং পদ্ধতি অব্যাহত থাকলেও স্বেচ্ছায় প্রত্যাগত পরিবারগুলো বঞ্চিত রয়েছে। সেসময়ে ভারতের আশ্রয় শিবীরে নানা জটিল রোগে স্বজন হারিয়ে পরিবারগুলো শান্তি চুক্তির পূর্বেই আশ্রয় শিবীর থেকে পালিয়ে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তন করেছিল। এরা তালিকাভূক্তির আওতায় থেকে সাহায্য পাওয়ার জন্য বারবার আবেদন করেও ব্যর্থ হয়েছে।এধরনের পরিবারের সংখ্যা উপজেলায় প্রায় এক হাজাররে বেশি বলে দাবি করা হয়।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে পুুলিশ সদস্য গ্রেফতার

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশের এক সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার সন্ধায়। …

Leave a Reply