নীড় পাতা » পাহাড়ের রাজনীতি » ‘এটা সুপরিকল্পিত একটি ঘটনা,এর পেছনে যারা রয়েছে তাদের হীন উদ্দেশ্য আছে’

‘এটা সুপরিকল্পিত একটি ঘটনা,এর পেছনে যারা রয়েছে তাদের হীন উদ্দেশ্য আছে’

Dr.-Mizan-cover‘যে কাজগুলো এখানে হয়েছে সেগুলো অপরাধমূলক কর্মকান্ড, আনারস ও সেগুন বাগান কেটে দেয়া,সেটা যেমন ফৌজদারি অপরাধ,তেমনি যারা আদিবাসীদের বাড়ীঘরে আগুন দিয়ে ভস্মীভূত করে দিয়েছে,সেটাও কিন্তু ফৌজদারি অপরাধ,জঘণ্যতম অপরাধ।’

রোববার রাঙামাটির নানিয়ারচরের বগাছড়িতে সংঘটিত সহিংস ঘটনার ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে এ কথা বলেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান।

তিনি বলেন,সবচে দু:খজনক যে বিষয়টি,সেটি হলো জাতি যখন বিজয় দিবস উদযাপনে ব্যস্ত,বিজয় উৎসবের সময় এই ধরণের সাম্প্রদায়িক উস্কানি,এই রকম ঘৃণা বিদ্বেষ ছড়ানো,এটা আকস্মিক ঘটনা নয়,এটি দেখে মনে হয়েছে,এটা সুপরিকল্পিত একটি ঘটনা,এর পেছনে যারা রয়েছেন তাদের হীনউদ্দেশ্য আছে। সেই হীন উদ্দেশ্যটি হচ্ছে পাহাড়ী এবং বাঙালীদের ভেতরে এক ধরণের অসন্তোষ সৃষ্টি করা,আস্থাহীনতা সৃষ্টি করা,পরস্পরের প্রতি বিদ্বেষ এবং ঘৃণার উদ্রেক করা এবং এমনি করে পার্বত্য চট্টগ্রামে বিরাজমান শান্তিকে অস্থিতিশীল করে তোলা এবং এর প্রতি হুমকী সৃষ্টি করা। এগুলোর সবগুলোই জঘন্যতম কাজ এবং এগুলো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি অপরাধ এবং এখানে দ্রুততম সময়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা বাঞ্চনিয়।

মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান বলেন, ‘তবে একই সাথে বলতে হয়, যদি রাতের বেলা দেখা যায়,এই রকম চারলাখ আনারস চারা কেটে দেয়া হয়েছে,এবং সেগুনের বাগান ধ্বংস করা হয়েছে তখনই স্থানীয় প্রশাসনের উপলদ্ধি করা উচিত ছিলো এখানে এক ধরণের অসন্তোষ বিরাজ করছে এবং ঘটনা যেকোন দিকে মোড় নিতে পাওে,তাই তাৎক্ষনিকভাবে কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত ছিলো। কিন্তু আমার কাছে মনে হচ্ছে সেই ব্যবস্থা গ্রহণ না করার ফলে পরবর্তীতে যে এতোগুলো মানুষের বাড়ীঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে,এর দায় কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন এড়িয়ে যেতে পারেনা। এ ব্যর্থতার দায় তাদেরকে নিতে হবে।’

ড. মিজান বলেন, ‘এখানে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে,পাহাড়ী বাঙালী নির্বিশেষে,তারা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি। এরা বিরাট ক্ষতির মুখে পড়ে গেছে। আমি বিনীতভাবে অনুরোধ করবো,এর আগে রামু,দিনাজপুর বা যশোরে যেমন করে,এরকম ঘটনার পর সরকার উদ্যোগি হয়ে আমাদের সেনাবাহিনী ও বিজিবির মাধ্যমে তাদের বাড়ীঘর যেভাবে দ্রুততার সাথে নির্মাণ করে দিয়েছিলাম,আমরা প্রত্যাশা করবো তেমনি এখানেও যেনো একই রকমের পদক্ষেপ নেয়া হয়।’

ড. মিজান পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত নানান সমস্যার জন্য পার্বত্য ভূমি সমস্যাকেই প্রধান কারণ হিসেবে অভিহিত করে বলেন,পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়ন হলে পাহাড়ের সকল সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।

তিনি বলেন,পাহাড়ে শান্তি বিনষ্ট হলে কারা লাভবান হবে তা রাষ্ট্রকে খতিয়ে দেখা দরকার। শান্তি থাকলে আমরা সকলেই লাভবান।

মিজানুর রহমান আরো বলেন, ‘যেভাবে চারলক্ষ আনারস চারা কেটে ফেলা হয়েছে,এটি কিন্তু একশ/দুইশ লোকের কাজ নয়। এটা একঘন্টা-দুইঘন্টারও ব্যাপার নয়। এটি পরিকল্পিতভাবে এমন কিছু কৌশল ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়েছে,যার মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে এবং গতিতে এ কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছে। এইরকম প্রযুক্তি কাদের হাতে রয়েছে তাও খতিয়ে দেখা দরকার। কারা এর পেছনে দায়ি তাদের সনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি যেনো প্রদান করা হয়। এবং এই ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। অপরাধ করে যদি অপরাধীর বিচার না হয়,তাহলে অপরাধ প্রবণতা যেকোন সমাজে বৃদ্ধি পায়,অপরাধীরা উৎসাহিত বোধ করে।’

তিনি বলেন, ‘ঘরবাড়ী পুননির্মাণ নয়,যে আন্তসাম্প্রদায়িক যে সম্পর্ক তাকে পুনরুদ্ধার করবার জন্য যে সমস্ত উদ্যোগ প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা দরকার, তা এখন পর্যন্ত করা হয়েছে বলে মনে হয়না। এই জায়গাটিতে বিরাট একটি গ্যাপ রয়ে গেছে।’

‘পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে কি কি পদক্ষেপ নেয়া দরকার সে ধরণের সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা আমরা কিন্তু সরকারের কাছে প্রেরণ করেছি। এমনকি ভূমি কমিশনকে কার্যকর করার জন্য কি ধরণের পদক্ষেপ নেয়া দরকার সেই সম্পর্কিত সুপারিশমালাও আমরা সরকারের কাছে প্রেরণ করেছি। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ক্ষমতা বা এখতিয়ার হচ্ছে সুপারিশ প্রেরণ পর্যন্তই,আমাদের নির্বাহী কোন ক্ষমতা নেই।’

ড. মিজান রোববার বিকেলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে প্রথমে বাঙালীদের কেটে ফেলা আনারস ও সেগুন বাগান পরিদর্শন করেন। সেখানে বাঙালীরা তাদের দু:খ দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। এসময় ওই এলাকার বাঙালীরা মানববন্ধন করে এবং স্মারকলিপি প্রদান করেন।

এরপর কমিশন চেয়ারম্যান আগুনে পুড়িয়ে দেয়া পাহাড়ীদের এলাকা যায় এবং তাদের কথা শোনেন ও সহমর্মিতা জানান।

মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান উভয় ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বিচারে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

পরিদর্শনকালে কমিশন চেয়ারম্যানের সাথে মানবাধিকার কমিশনের সদস্য নিরূপা দেওয়ান,অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাইফউদ্দীন আহম্মেদ,নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট শক্তিমান চাকমা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: নুুরুজ্জামান,নানিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রশীদ উপস্থিত ছিলেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

লকডাউনে ফাঁকা খাগড়াছড়ি, বাড়ছে শনাক্ত

সারা দেশের মতো দ্বিতীয় দফায় সরকারের ঘোষিত লকডাউন চলছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে। প্রথম দফার লকডাউন …

Leave a Reply