নীড় পাতা » ব্রেকিং » এখনো আশায় বুক বেঁধে আছি : সান্তনা চাকমা

এখনো আশায় বুক বেঁধে আছি : সান্তনা চাকমা

Anil-Tanchangya-Pic-1২০১২ সালের ১০ জানুয়ারি জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি, জেলা কৃষকলীগের সভাপতি ও বাংলাদেশ কৃষকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অনিল কুমার তঞ্চঙ্গ্যা নিজ বাড়ি থেকে রাঙামাটি আসার পথে অপহৃত হয়। এরপর তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। প্রতিবছর এই দিনটি আসলে তাঁর পরিবার অপহৃত অনিল তঞ্চঙ্গ্যাকে জীবিত উদ্ধারের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। চার বছর পরও তাঁর কোনো হদিস না পাওয়া এই নেতার প্রতীক্ষায় এখনো পরিবারের প্রত্যেক সদস্য আশায় বুক বেঁধে আছে। স্ত্রী অপেক্ষা স্বামী ফিরে আসার, সন্তানরা অপেক্ষা বাবাকে দেখার। চার বছরের পট পরিক্রমায় অনিল তঞ্চঙ্গ্যার স্ত্রী সান্ত¦না চাকমা এখন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য। গত বছর মার্চে দায়িত্ব পাওয়া নতুন জেলা পরিষদের একজন সদস্য হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। চার বছরে তাঁর স্বামীর কোনো খোঁজ না পাওয়া ও তাঁর অপহরণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন পাহাড়টোয়েন্টিফোর ডট কম’র স্টাফ রিপোর্টার মোঃ জিয়াউল হকanill

অপহরণের পর কি কোনো মামলা করেছিলেন?
কার বিরুদ্ধে মামলা করবো, আমি তো কাউকে চিনি না বা দেখিও নি। যখন অপহরণ হলেন তখন জেএসএস ও ইউপিডিএফকে দায়ী করলাম কিন্তু তারা বলে দলীয় কোন্দলেই নাকি আমি স্বামী নিখোঁজ। রাঙামাটির জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও তখনকার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার দাদার সাথে কথা বলি ওনি সন্তু লারমাকে দায়ী করেন। কি করবো আমি। থানায় জিডি করা আছে। সত্যের জয় একদিন হবে। ৪৩ বছর পর স্বাধীনতা বিরোধীদের বিচার হচ্ছে আমি বিশ্বাস করি একদিন আমার স্বামীর অপহরণকারীদের বিচার হবে। আমি না দেখতে পারলেও আমার সন্তানরাও দেখবে এই আশা আমার।

আপনি কি তাহলে মনে করছেন আপনার স্বামী নিহত?
মনে করার কি আছে? যিনি এতদিন ফিরে আসেন নি, তার ফিরে আসার সম্ভাবনা তেমন তো দেখছি না। তারপরও আমার আশা একদিন ওনি ফিরবেন। আমার সবচেয়ে দুঃখ লাগে জেলা আওয়ামীলীগের কেউ ফোন করে এই বিষয়ে কেউ কোনও দিন খবরও নেননি। তিনি বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেন। দলীয় এতগুলো দায়িত্বে থাকার পরও কেউ খবরও রাখেনি, কষ্টটা তখন বেশি লাগে।

শেষ স্মৃতি কি আপনার কাছে?
সেই দিন সকালে ওনি আমার কাছে ভাত চাইলো, জরুরি কাজে রাঙামাটি যেতে হবে। আমি ওনাকে ভাত রান্না করে দিলাম ওনি খেয়ে কখন ঘর থেকে বের হয়েছেন দেখিনি। পরে বাসার কাজে মেয়েকে ওনাকে দেখতে বলি সে বলে দাদু তো বের হয়েছে আমিও সাথে সাথে বাসা থেকে বের হতে হতে ওনি অনেক দূর চলে গেছেন। এটাই শেষ কথা আর দেখা। এই স্মৃতিগুলো খুব মনে পড়ে আমার।

কখন খবর পেলেন আপনার স্বামী অপহৃত হয়েছে?
ওনি বাসা থেকে বের হয়েছিলেন সকাল ৭.৩০ টার দিকে। বাসায় কিছু পরে কাঠালতলী এলাকায় চায়ের দোকানে চা খেয়ে সিএনজি করে রাঙামাটি যাচ্ছেন। হঠাত ৯.৩০ টার দিকে খবর পাই ওনাকে অপহরণ করা হয়েছে। তখন মনে হলো মাথার ওপর পৃথিবী ভেঙ্গে পড়লো। কি করবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না।

শেষে সান্তনা চাকমা বলেন, তাঁর ফিরে আসার জন্য আমরা ১০ জানুয়ারি সকালে ধর্মীয় অনুষ্ঠান করবো। জেলা আওয়ামীলীগ কিছু করবে কিনা আমি জানি না, এখনো আমাকে কিছুই জানাননি।

এই বিষয়ে রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি মুছা মাতব্বর বলেন, ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। তাই এখন আলাদা করে কোনও অনুষ্ঠান করা হচ্ছে না। কিন্তু স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে আলোচনায় অনিল কুমার তঞ্চঙ্গ্যার বিষয়টি আলোচনা হবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণ চেষ্টা, যুবক গ্রেফতার

রাঙামাটিতে বুদ্ধি ও শারিরীক প্রতিবন্ধী এক নারীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। …

Leave a Reply